সুনামগঞ্জ থেকে আল-হেলাল :

সুনামগঞ্জে সাংবাদিকদের সাথে দুদফায় অনুষ্ঠিত মত বিনিময় সভায় বিএনপির মনোনয়ন দাবী করলেন জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সুনামগঞ্জ পৌরসভার ১ বারের ও সদর উপজেলা পরিষদের ৪ বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং মরমী কবি হাসনরাজার প্রপৌত্র দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন। তিনি বলেছেন,ইতিমধ্যে অনুষ্ঠিত সিটি কর্পোরেশন,পৌরসভা ও বিভিন্ন উপ-নির্বাচনে বিএনপি দলীয়ভাবে অংশ গ্রহন করায় আমরা দলের আদর্শ উদ্দেশ্য  ও লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহন করেছি। কিন্তু গত জেলা পরিষদ নির্বাচন আমাদের দল সম্পূর্ণরুপে বর্জন করায় আমি কারো পক্ষ নেয়াতো দূরের কথা তথাকথিত এই নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বিরত রয়েছি। আমি দলের জন্য সবসময়ই নিবেদিত। অন্য কোন দলের এজেন্ট হয়ে বিএনপি করতে চাইনা। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ বাস্তবায়নই আমার লক্ষ ও উদ্দেশ্য। তিনি বলেন,সুনামগঞ্জ-৪ আসনে বিগত উপ-নির্বাচনে আমাদের দলের প্রার্থী সাবেক হুইপ এডভোকেট ফজলুল হক আছপিয়ার পক্ষে ধানের শীষের কর্মী হিসেবে সক্রিয়ভাবে প্রচারাভিযান চালিয়েছি। আগামী নির্বাচনে দল যদি তাকে মনোনয়ন দেয় আমি তার পক্ষেই নির্বাচন করবো। কিন্তু আমি আশাবাদি এই আসনটিতে আমি মনোনয়ন পাবো। দল আমাকেই মনোনয়ন দেবে। রোববার দুপুরে পৌর এলাকার তেঘরিয়াস্থ নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময়কালে দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন একথা বলেন। নিজেকে একজন প্রচারবিমুখ নির্ভৃতচারী নিবেদিত বিএনপির কর্মী ও রাজনীতিবিদ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন,নির্বাচন করতে গিয়ে আমাকে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলহাজ¦ আব্দুস সামাদ আজাদ,সাবেক খাদ্য মন্ত্রী মেজর অব: ইকবাল হোসেন চৌধুরী,সাবেক অর্থ প্রতিমন্ত্রী ফারুক রশীদ চৌধুরী,আওয়ামীলীগ নেতা এডভোকেট আলফাত উদ্দিন আহমদ মোক্তার ও সাবেক চেয়ারম্যান মনোয়ার বখত নেকসহ অনেক জায়েন্ট জনপ্রিয় নেতাদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়েছে। তাদের অনেকের সাথে প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আমি নির্বাচিত হলেও এটা সত্য যে তারাও জনকল্যাণে নিবেদিত জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ ছিলেন। ১৯৭৯ সালে সুনামগঞ্জ ৩ আসনে সংসদ নির্বাচনে আমার বড় ভাই দেওয়ান শামসুল আবেদীন যখন বিএনপির নির্বাচিত এমপি তখন থেকেই আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ধানের শীষের কর্মী হিসেবে জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহন করি। ১৯৯১ সালে সুনামগঞ্জ ৪ আসনে বিএনপির মনোনয়নে দেওয়ান শামসুল আবেদীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে তার পক্ষেই আমাকে কাজ করতে হয়। ১৯৯৬ সালে সুনামগঞ্জ-৩ আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছি। আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পৌরসভা ও উপজেলা নির্বাচনে বিজয়ী হলেও দলের প্রয়োজনে সবসময় দলের পাশে রয়েছি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার অংশগ্রহনের সদিচ্ছা প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন,অবাধ,স্বচ্ছ,নিরপেক্ষ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে জনগন ৫ বছর মেয়াদের জন্য জাতীয় সংসদে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে থাকেন। উক্ত প্রতিনিধিদের সংখ্যাগরিষ্টদের সমর্থনে সরকার গঠিত হয়। তাই উক্ত প্রতিনিধি নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে সংসদ সদস্যগন আইন প্রনেতা হিসেবে কাজ করেন। আবার স্থানীয় উন্নয়ন ও সামাজিক শান্তির জন্যও তারা ভূমিকা রাখেন। তাই জনগনের জন্য এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জীবনের অনেকগুলো বছর আমি আমাদের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে জনগণের প্রত্যেক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে জনগনের জন্য কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। ৫ বারের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে জনগণের আস্থা ও ভালবাসায় সিক্ত হয়ে এই জনপদের মানুষের জন্য কাজ করার সৌভাগ্য অর্জন করেছি। আমার প্রতি এই আস্থা ও ভালবাসা প্রদর্শনের জন্য আমি সুনামগঞ্জের আপামর জনগনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে এই এলাকার জনগণের জন্য জাতীয় পর্যায়ে কাজ করার বাসনা নিয়ে আমি আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহনের প্রত্যাশা করছি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল। তারই একজন কর্মী হিসেবে আমি দলের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করতে চাই এবং দলের মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আমি আশাবাদি। প্রার্থী হিসেবে নিজের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য স্থির করে তিনি বলেন,আমার লক্ষ্য ্ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকার সহ জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে কাজ করা। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান,বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদকে শক্তিশালী ও ক্ষমতায়নের জন্য বিশেষ ভূমিকা রাখা। হাওড় অঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়নে ঠেকসই উন্নয়ন কৌশল নির্ধারন ও বাস্তবায়নে সরকারকে চাপ প্রদান,চিকিৎসাসেবা বিশেষ করে হাসপাতালগুলোকে কার্যকর সেবা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা,সরকারী দপ্তরগুলোতে সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের ভোগান্তি লাঘবে সোচ্চার থাকা,দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ,চাঁদাবাজী,মাস্তানী,সন্ত্রাসী কর্মকান্ড রোধ করে সামাজিক শান্তি ও শৃঙ্খলার পক্ষে জোর প্রচেষ্টা চালানো,সকল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগীতা নিয়ে সুনামগঞ্জ শহরকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন,যানঝটমুক্ত দৃষ্টি নন্দন শান্তির শহরে পরিণত করতে উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা,সামাজিক শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পক্ষে শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা। কনিষ্ট ভ্রাতা ৩ বারের নির্বাচিত পৌর চেয়ারম্যান দেওয়ান মমিনুল মউজদীনের স্মৃতিচারণ করে আবেগপ্রবন সুরে তিনি বলেন,মমিনুল মউজদীন জনপ্রিয়তায় আমাদের অনেকের চাইতে এগিয়ে ছিল। সে বরাবরই ছিল মিডিয়া বান্ধব। প্রথম আলোসহ অনেক জাতীয় পত্রিকা তাঁকে নিয়ে কাভার স্টরি করতো। তাঁর অসমাপ্ত অনেক কাজ রয়েছে যেগুলো পূরন করতে আমিও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তার প্রতি কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশ সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট করে বলেন,আমাকে প্রেসিডিয়াম সদস্য মোঃ শাহজাহান সাহেবসহ অনেকেই বলেছেন দলের সকল সৃজনশীল কার্যক্রমে ভূমিকা পালন করতে। তাই দলের সকল কর্মসুচিতে আমি দলীয় নেতাদের পাশে থেকেছি। তবে আমি কোন কোন্দল গ্রুপিং লবিং-এ নিজেকে জড়াতে চাইনা। দলের নেতৃত্বে যে বা যারাই থাকেন না কেন তাদের প্রতিও আমার শ্রদ্ধা ভালবাসা আস্থা ও বিশ^াস থাকবে। তিনি কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে দলের সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসুচি-২০১৭ এর সফলতা কামনা করেন।

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterEmail this to someoneShare on LinkedIn