পাঠ প্রতিক্রিয়া: ‘উরসে চন্দন গন্ধ’
- সময় : ০২:৫৮:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
- / ৫ ভিউ
মোঃআফরাজুর রহমানঃ-ৃ লেখক -সাংবাদিক ইমানুজ্জামান মহীর “উরসে চন্দন গন্ধ” একটি স্মৃতিচারণধর্মী ও অনুভূতিনির্ভর গ্রন্থ, যেখানে লেখক অতীত ও সমসাময়িক নানা অভিজ্ঞতা, মানুষ এবং জীবনের মূল্যবান মুহূর্তগুলোকে তুলে ধরেছেন। লেখাগুলো সুখপাঠ্য। ছোট ছোট বাক্যে স্মৃতিকথনগুলো সাজিয়েছেন লেখক। ৪৩২ পৃষ্টার বিশাল গ্রন্থে ১৬৬টি লেখা রয়েছে। বইটির ভাষা সাবলীল ও হৃদয়গ্রাহী। পাঠক বইটি পড়তে পড়তে লেখকের স্মৃতির জগতে প্রবেশ করার সুযোগ পাবেন এবং অনেক ক্ষেত্রে নিজের জীবনের সঙ্গে মিল খুঁজে পাবেন। তাঁর গ্রন্থটি যেন একটি জীবনের পথরেখা। শৈশব, কৈশোর, তারুণ্য, প্রবাস জীবন এবং পরবাসে থেকে দেশের সাথে সম্পর্ক, জন্মভূমি নিয়ে ভাবনা-দুর্ভাবনা —সবই উঠে এসেছে তাঁর লেখায়। এ পথচলায় যুক্ত হয়েছে বহুবিধ চরিত্র। এসব চরিত্র আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সংবেদনশীল মানুষের মুখ।
বইটির অন্যতম শক্তি হলো এর আবেগঘন বর্ণনা। ছোট ছোট ঘটনা, পারিবারিক সম্পর্ক, সামাজিক বাস্তবতা এবং মানবিক মূল্যবোধের চিত্রায়ণ পাঠকের মনে গভীর ছাপ ফেলে। লেখক অতীতকে শুধু স্মরণ করেননি, বরং সেই স্মৃতির মাধ্যমে বর্তমান জীবন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ উপলব্ধিও তুলে ধরেছেন। জীবনের দুর্বোধ্যতা ও রহস্যময়তাও তাঁর স্মৃতি-কথনে চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। শহরে নাম-ডাক আছে, এমন একটি পরিবারের কেতাদুরস্ত যুবকের অজানা কারনে অপ্রকৃতস্থ হয়ে যাওয়া কিংবা অল্পবয়সী উমা-র নীরবে এ পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়া —-জীবনের অভাবনীয়তা ও অনিশ্চয়তাই তুলে ধরে। এমন অনেক স্মৃতি-কথন রয়েছে বইটিতে, যা পাঠককে আবেগ-আপ্লুত করে। জীবনকে দেখার যে অন্তর্দৃষ্টি তা তাঁর লেখায় ফুটে ওঠে।
লেখক সময়, সংস্কৃতি আর সমাজকে তুলে ধরেছেন কলমের নিপুণ আঁচড়ে। সত্তর ও আশির দশকে সুনামগঞ্জ শহরের রাজনীতি, সাহিত্য কিংবা সংস্কৃতি চর্চার একটা চিত্র পাঠক পাবেন বইটি পড়ে। সমসাময়িক পাঠক নস্টালজিক না হয়ে পারবেন না। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখকের শিক্ষাজীবন, প্রবাস জীবনের নানা অভিজ্ঞতাও উঠে এসেছে তাঁর লেখায়। কিছু লেখায় স্থানীয় শব্দের ব্যবহারে পাঠক মজা পাবেন, নিঃসন্দেহে।
বইটির ভূমিকায় নামকরণের ব্যাপারে একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন লেখক। এই ব্যাখ্যাটি কতটুকু যুক্তিযুক্ত বা পাঠকের নিকট গ্রহণযোগ্য হবে কি না জানি না। তবে, বিষয়টি আরেকটু বিস্তৃত করলে ভালো হতো। কারন, এই শিরোনামে কোনো লেখা বইটিতে নেই।
সব মিলিয়ে “উরসে চন্দন গন্ধ” একটি হৃদয়স্পর্শী গ্রন্থ, যা স্মৃতি, অনুভূতি এবং জীবনের সৌন্দর্যকে নতুনভাবে উপলব্ধি করতে সাহায্য করে। বইটি লেখকের সৃজনশীলতার অনন্য স্বাক্ষর। ‘ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ’ থেকে প্রকাশিত বইটির বাহ্যিক অবয়বও চমৎকার। বইটির শেষে জীবনের এলবাম থেকে কিছু মূল্যবান ছবি সংযোজন করেছেন লেখক, যা তাঁকে বুঝতে সাহায্য করবে।
মোঃআফরাজুর রহমানের ফেস বুকঃ(২৬ শে জুন ২৬ শুক্রবার)














