১০:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আইসিসি’র কড়া বার্তা বিসিবি’র হাতেই বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভাগ্য

রিপোর্টার
  • সময় : ১২:৪৪:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৪২ ভিউ

ইশতিয়াক পারভেজ-কয়েক দফা বৈঠক, চিঠি চালাচালি এবং দীর্ঘ আলোচনার পর গতকাল আইসিসি’র বোর্ড সভা শেষে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি সাফ জানিয়ে দিয়েছে- বাংলাদেশ দলকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতেই যেতে হবে। বিসিবি’র ‘নিরাপত্তা শঙ্কা’র যুক্তি বা ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন ধোপে টেকেনি আইসিসি’র কাছে। উল্টো মাত্র একদিনের আল্টিমেটাম দিয়ে আইসিসি জানতে চেয়েছে, বাংলাদেশ দল আদৌ বিশ্বকাপে অংশ নেবে কিনা। আইসিসি’র স্পষ্ট বার্তা, এবার আর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ভিন্ন কোনো অজুহাত দেয়ার সুযোগ নেই। স্বতন্ত্র নিরাপত্তা বিশ্লেষণে খেলোয়াড় বা কর্মকর্তাদের জন্য কোনো হুমকির প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছে আইসিসি। এমতাবস্থায় টুর্নামেন্টের এত কাছে এসে সূচি পরিবর্তন করলে তা ভুল নজির স্থাপন করবে এবং আইসিসি’র নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তাই পূর্বের সূচিতেই বিশ্বকাপ আয়োজনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ আইসিসি। আগের সূচিতে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অংশ নেবে কিনা, তা নিশ্চিতভাবেই জানিয়ে দিতে হবে আইসিসিকে।

বিসিবি’র একটি শীর্ষ সূত্র মানবজমিনকে আগেই জানিয়েছিলেন, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলা হচ্ছে না এমন পরিস্থিতির জন্য তারা মানসিকভাবে প্রস্তুত। তারা আগেই জানতে পেরেছিলেন যে, আইসিসি শেষ পর্যন্ত এমন কঠোর সিদ্ধান্ত জানাতে পারে। তবুও বোর্ড সভায় আলোচনার অপেক্ষায় ছিল বিসিবি। অবশেষে সেখান থেকেও এসেছে হতাশার সংবাদ। এ নিয়ে বিসিবি’র পরিচালকরা মুখে তালা ঝুলিয়েছেন। সরাসরি কেউই কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছেন না। তাদের বেশির ভাগেরই একটি বক্তব্য যা বলার তা সভাপতি (আমিনুল ইসলাম) বলবেন। তবে একটি সূত্রের দাবি, ‘আমরা একা তো কিছু করতে পারবো না। এখানে সরকারের সর্বোচ্চ মহলেরও সবুজ সংকেত প্রয়োজন। সেটি পাওয়ার পরই বিসিবি বলতে পারবে কি হবে আর হবে না।’

বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের চ্যালেঞ্জের বিপরীতে বর্তমান বাস্তবতা  ‘শ্যাম রাখি না কূল রাখি’ পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। বিসিবি সভাপতি এবং ক্রীড়া উপদেষ্টা এর আগে বেশ জোর দিয়েই বলেছিলেন, কোনো অবস্থাতেই টাইগাররা ভারতে খেলতে যাবে না। তাদের সেই কঠোর অবস্থানের বিপরীতে আইসিসি’র এই সিদ্ধান্ত বিসিবিকে এক চরম পরীক্ষার মুখে ফেলে দিয়েছে। এখন যদি বিসিবি তাদের পূর্বের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে এবং ভারতে দল না পাঠায়, তবে তা আইসিসি’র ইভেন্ট বয়কট হিসেবে গণ্য হবে। এর ফলে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা, জরিমানা ও ভয়াবহ পরিণতির মুখে পড়তে পারে বাংলাদেশ ক্রিকেট। আর যদি তারা দল পাঠায়, তবে নীতিনির্ধারকদের নিজেদের আগের অবস্থান থেকে সরে আসতে হবে, যা তাদের জন্য অস্বস্তিকর।

জানা গেছে, এই বিশ্বকাপে অংশ না নিলে আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টাইগারদের সরাসরি খেলার সুযোগ থাকবে না। খেলতে হবে কোয়ালিফায়ার। এ ছাড়াও ভারতে বিশ্বকাপে খেলতে না গিয়ে বড় একটি ক্রিকেট শত্রুতার জন্ম হবে। যেখানে ভারত তার প্রভাব খাটিয়ে তাদের মিত্র ও সুবিধাভোগী দেশগুলোকে টাইগারদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ আয়োজনেও বাধা দিতে পারে। সবচেয়ে বড় ক্ষতি হতে পারে দলের ক্রিকেটারদের। বিশ্বকাপের মতো একটি আসরে অংশ না নিতে পেরে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে পারে। প্রশ্ন হচ্ছে বিশ্বকাপ না খেললে কি করবে বাংলাদেশ! জানা গেছে সেই সময়টা ঘরোয়া ক্রিকেট আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। অন্যদিকে ক্লাব ক্রিকেট আয়োজন তার জন্য এখন কঠিন ব্যাপার। কারণ ৪৬টি ক্লাব বুলবুলের বোর্ডকে অস্বীকার করে এরই মধ্যে ক্লাব ক্রিকেট খেলা বন্ধ রেখেছে। এর ফলে বিশ্বকাপের পুরো সময়টা দেশের ক্রিকেটারদের মাঠের বাইরে হতাশায় কাটাতে হতে পারে।

অন্যদিকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম, মহাগুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। আইসিসি পরিষ্কার করে দিয়েছে, হাতে সময় নেই। মাত্র ২৪ ঘণ্টা বা একদিন সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে বিসিবিকে তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য। এখন বিসিবি’র হাতেই বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভাগ্য। ক্রিকেট বোদ্ধাদের মতে, আবেগ বা রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে যদি বিশ্বকাপ বর্জন করা হয়, তবে তা দেশের ক্রিকেটের জন্য আত্মঘাতী হতে পারে। দেশের কোটি ক্রিকেট ভক্তের চোখ এখন বিসিবি’র দিকে। বিসিবি কি আইসিসির শর্ত মেনে ভারতে দল পাঠিয়ে ক্রিকেটের স্বার্থ রক্ষা করবে, নাকি নিজেদের অবস্থানে অনড় থেকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে পা বাড়াবে? এই প্রশ্নের উত্তর মিলবে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আইসিসি’র কড়া বার্তা বিসিবি’র হাতেই বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভাগ্য

সময় : ১২:৪৪:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

ইশতিয়াক পারভেজ-কয়েক দফা বৈঠক, চিঠি চালাচালি এবং দীর্ঘ আলোচনার পর গতকাল আইসিসি’র বোর্ড সভা শেষে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি সাফ জানিয়ে দিয়েছে- বাংলাদেশ দলকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতেই যেতে হবে। বিসিবি’র ‘নিরাপত্তা শঙ্কা’র যুক্তি বা ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন ধোপে টেকেনি আইসিসি’র কাছে। উল্টো মাত্র একদিনের আল্টিমেটাম দিয়ে আইসিসি জানতে চেয়েছে, বাংলাদেশ দল আদৌ বিশ্বকাপে অংশ নেবে কিনা। আইসিসি’র স্পষ্ট বার্তা, এবার আর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ভিন্ন কোনো অজুহাত দেয়ার সুযোগ নেই। স্বতন্ত্র নিরাপত্তা বিশ্লেষণে খেলোয়াড় বা কর্মকর্তাদের জন্য কোনো হুমকির প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছে আইসিসি। এমতাবস্থায় টুর্নামেন্টের এত কাছে এসে সূচি পরিবর্তন করলে তা ভুল নজির স্থাপন করবে এবং আইসিসি’র নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তাই পূর্বের সূচিতেই বিশ্বকাপ আয়োজনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ আইসিসি। আগের সূচিতে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অংশ নেবে কিনা, তা নিশ্চিতভাবেই জানিয়ে দিতে হবে আইসিসিকে।

বিসিবি’র একটি শীর্ষ সূত্র মানবজমিনকে আগেই জানিয়েছিলেন, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলা হচ্ছে না এমন পরিস্থিতির জন্য তারা মানসিকভাবে প্রস্তুত। তারা আগেই জানতে পেরেছিলেন যে, আইসিসি শেষ পর্যন্ত এমন কঠোর সিদ্ধান্ত জানাতে পারে। তবুও বোর্ড সভায় আলোচনার অপেক্ষায় ছিল বিসিবি। অবশেষে সেখান থেকেও এসেছে হতাশার সংবাদ। এ নিয়ে বিসিবি’র পরিচালকরা মুখে তালা ঝুলিয়েছেন। সরাসরি কেউই কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছেন না। তাদের বেশির ভাগেরই একটি বক্তব্য যা বলার তা সভাপতি (আমিনুল ইসলাম) বলবেন। তবে একটি সূত্রের দাবি, ‘আমরা একা তো কিছু করতে পারবো না। এখানে সরকারের সর্বোচ্চ মহলেরও সবুজ সংকেত প্রয়োজন। সেটি পাওয়ার পরই বিসিবি বলতে পারবে কি হবে আর হবে না।’

বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের চ্যালেঞ্জের বিপরীতে বর্তমান বাস্তবতা  ‘শ্যাম রাখি না কূল রাখি’ পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। বিসিবি সভাপতি এবং ক্রীড়া উপদেষ্টা এর আগে বেশ জোর দিয়েই বলেছিলেন, কোনো অবস্থাতেই টাইগাররা ভারতে খেলতে যাবে না। তাদের সেই কঠোর অবস্থানের বিপরীতে আইসিসি’র এই সিদ্ধান্ত বিসিবিকে এক চরম পরীক্ষার মুখে ফেলে দিয়েছে। এখন যদি বিসিবি তাদের পূর্বের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে এবং ভারতে দল না পাঠায়, তবে তা আইসিসি’র ইভেন্ট বয়কট হিসেবে গণ্য হবে। এর ফলে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা, জরিমানা ও ভয়াবহ পরিণতির মুখে পড়তে পারে বাংলাদেশ ক্রিকেট। আর যদি তারা দল পাঠায়, তবে নীতিনির্ধারকদের নিজেদের আগের অবস্থান থেকে সরে আসতে হবে, যা তাদের জন্য অস্বস্তিকর।

জানা গেছে, এই বিশ্বকাপে অংশ না নিলে আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টাইগারদের সরাসরি খেলার সুযোগ থাকবে না। খেলতে হবে কোয়ালিফায়ার। এ ছাড়াও ভারতে বিশ্বকাপে খেলতে না গিয়ে বড় একটি ক্রিকেট শত্রুতার জন্ম হবে। যেখানে ভারত তার প্রভাব খাটিয়ে তাদের মিত্র ও সুবিধাভোগী দেশগুলোকে টাইগারদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ আয়োজনেও বাধা দিতে পারে। সবচেয়ে বড় ক্ষতি হতে পারে দলের ক্রিকেটারদের। বিশ্বকাপের মতো একটি আসরে অংশ না নিতে পেরে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে পারে। প্রশ্ন হচ্ছে বিশ্বকাপ না খেললে কি করবে বাংলাদেশ! জানা গেছে সেই সময়টা ঘরোয়া ক্রিকেট আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। অন্যদিকে ক্লাব ক্রিকেট আয়োজন তার জন্য এখন কঠিন ব্যাপার। কারণ ৪৬টি ক্লাব বুলবুলের বোর্ডকে অস্বীকার করে এরই মধ্যে ক্লাব ক্রিকেট খেলা বন্ধ রেখেছে। এর ফলে বিশ্বকাপের পুরো সময়টা দেশের ক্রিকেটারদের মাঠের বাইরে হতাশায় কাটাতে হতে পারে।

অন্যদিকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম, মহাগুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। আইসিসি পরিষ্কার করে দিয়েছে, হাতে সময় নেই। মাত্র ২৪ ঘণ্টা বা একদিন সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে বিসিবিকে তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য। এখন বিসিবি’র হাতেই বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভাগ্য। ক্রিকেট বোদ্ধাদের মতে, আবেগ বা রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে যদি বিশ্বকাপ বর্জন করা হয়, তবে তা দেশের ক্রিকেটের জন্য আত্মঘাতী হতে পারে। দেশের কোটি ক্রিকেট ভক্তের চোখ এখন বিসিবি’র দিকে। বিসিবি কি আইসিসির শর্ত মেনে ভারতে দল পাঠিয়ে ক্রিকেটের স্বার্থ রক্ষা করবে, নাকি নিজেদের অবস্থানে অনড় থেকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে পা বাড়াবে? এই প্রশ্নের উত্তর মিলবে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই।