০২:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চালু হচ্ছে সিলেট ও ম্যানচেস্টার ফ্লাইট যুক্তরাজ্যে উচ্ছ্বাস

রিপোর্টার
  • সময় : ১০:০৯:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
  • / ৮৩ ভিউ

ঈদের আগে আরেক ঈদের খুশি যেন যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার প্রবাসীদের জন্য। ফের চালু হচ্ছে বন্ধ হয়ে যাওয়া সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটের বিমান ফ্লাইট। বিমানের তরফ থেকে এ ঘোষণা দেয়ার পর আনন্দে ভাসছে ম্যানচেস্টার সহ নর্থ ইংল্যান্ডের কয়েক লাখ প্রবাসী। অথচ কিছুদিন আগেও তাদের কপালে ছিল চিন্তার ভাঁজ। কোনো আবদার, অনুরোধ শুনেনি বিদায় হওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সহ কর্মকর্তারা।

সিলেট-ম্যানচেস্টার রুট তারা বন্ধ করবেনই- এমন মনোভাব নিয়ে কাজ করেন। একই সময় ম্যানচেস্টার প্রবাসীরা সিলেটে তীব্র আন্দোলনও গড়ে তোলেন। কিন্তু প্রবাসীদের সব দাবিকে অগ্রাহ্য করে গত ১লা মার্চ থেকে বন্ধ করে দেয়া হয় সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটের বিমানের ফ্লাইট। আর সেটি করা হয়েছিল অনির্দিষ্টকালের জন্য। এমনকি ম্যানচেস্টারে থাকা বাংলাদেশ বিমানের অফিসও গুটিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা ছিল। সময় বেশি গড়ায়নি। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় বসেছে ঘড়ির কাঁটায় কাঁটায় এক মাস। এই সময়ের মধ্যে এসেছে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। তবে সিদ্বান্ত আসার আগেই সিলেটের দু’মন্ত্রী বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান, শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে ইতিবাচক খবর এসেছিল। ফলে তাদের পক্ষ থেকে ঘোষণা ছিল সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে বিমানের ফ্লাইট বন্ধ হবে না। তারা ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলেন।

নির্বাচনের সময় ওই রুটে ফ্লাইট চালু রাখতে তারাও দাবি তুলেন। মন্ত্রীদ্বয়ের ঘনিষ্ঠ সূত্র দাবি করেছে; নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সিলেটের দুই মন্ত্রী বিশেষ করে বিমানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। ওই সময় বিমানমন্ত্রীর তরফ থেকেও ফ্লাইটটি চালু রাখার ব্যাপারে আশ্বাস দেয়া হয়। সরকারের বয়স এক মাস হওয়ার আগেই বুধবার বিমান কর্তৃপক্ষ এই রুটে ফ্লাইট চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। সিলেট-ম্যানচেস্টার রুট নর্থ-ইংল্যান্ডে বসবাসকারী প্রায় ৮ লাখ প্রবাসীর জন্য সহজ রুট।

এই রুট ব্যবহার করে মাত্র ৯ থেকে ১০ ঘণ্টায় প্রবাসীরা সিলেটে এসে পৌঁছতে পারেন। বন্ধ থাকা এই রুটের গুরুত্ব বিবেচনা করে ২০১২ সালে বিমান কর্তৃপক্ষ ফের ফ্লাইট চালু করে। ২০১৯ সাল পর্যন্ত টানা এই রুটে বিমান ফ্লাইট অপারেট করার পর সেটি বন্ধ করে দেয় তৎকালীন সরকার। বাংলাদেশ বিমানের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা বিমানের একটি অসাধু চক্র এই রুট নিয়ে পাঁয়তারা শুরু করে। এই রুটকে অলাভজনক আখ্যা দিয়ে তারা রুটটি বন্ধের ঘোষণা দেয়। পরে ২০২২ সালে প্রবাসীদের অনুরোধে এই রুটে ফ্লাইট চালু হয়। কিন্তু ২০২৪ সালে হজ ফ্লাইটের দোহাই দিয়ে বিমান কর্তৃপক্ষ টিকিট বুকিং সিস্টেম বন্ধ করে দেয়।

এ নিয়ে প্রবাসীরা আন্দোলন শুরু করলে রুটটি চালু রাখা হয়। এবার গত ১লা ফেব্রুয়ারি থেকে ফ্লাইটটি বন্ধের ঘোষণা দেয়া হলে সিলেট ও ম্যানচেস্টারে তীব্র আন্দোলন গড়ে উঠে। রাজপথেও গড়ায় এ আন্দোলন। তবু নড়েনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও ওই সময়ের বিমান কর্তৃপক্ষ। তারা একতরফা ভাবেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচনের জন্য এক মাস পিছিয়ে ১লা মার্চ থেকে ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়। ফলে গত ১২ দিন ধরে ওই রুটে বিমানের ফ্লাইট চলছে না। এদিকে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিমান কর্তৃপক্ষ সাম্প্রতিক সময়ে ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দেয়। সর্বশেষ গত বুধবার বিমান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবেও ঘোষণা দেয়া হয়।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম জানিয়েছেন, যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের স্থগিত হয়ে যাওয়া ঢাকা-সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটটি ফের চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আসন্ন হজ কার্যক্রম শেষে আগামী ১লা জুলাই থেকে পুনরায় ওই রুট চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জানান, ফ্লাইটের সময়সূচি এবং অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য যথাসময়ে অবহিত করা হবে। বিমানের ওই ঘোষণার পর ইউকে এনআরবি সোসাইটির ডাইরেক্টর এম জুনেদ আহমদ জানিয়েছেন, সরকারের এ সিদ্ধান্তে ম্যানচেস্টার অঞ্চলের প্রবাসীরা খুব খুশি।

তিনি বলেন, বিমান কর্তৃপক্ষ বারবারই এ রুটটিকে অলাভজনক বলে বন্ধ করে দিচ্ছে। অথচ প্রবাসীরা বলছেন ফ্লাইট অলাভজনক নয়। বিষয়টি তদন্ত করলে আসল সত্য বেরিয়ে আসবে। যুক্তরাজ্যের ওল্ডহাম বিএনপি’র সভাপতি জামাল উদ্দিন জানিয়েছেন- প্রধানমন্ত্রীর প্রতি প্রবাসীদের আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। তার প্রমাণ এবার দেখা গেল। তিনি ক্ষমতায় বসতে না বসতেই প্রবাসীদের সবচেয়ে বড় দাবির বিষয়টির সুরাহা করে দিলেন। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী সহ সিলেটের দুই মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চালু হচ্ছে সিলেট ও ম্যানচেস্টার ফ্লাইট যুক্তরাজ্যে উচ্ছ্বাস

সময় : ১০:০৯:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

ঈদের আগে আরেক ঈদের খুশি যেন যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার প্রবাসীদের জন্য। ফের চালু হচ্ছে বন্ধ হয়ে যাওয়া সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটের বিমান ফ্লাইট। বিমানের তরফ থেকে এ ঘোষণা দেয়ার পর আনন্দে ভাসছে ম্যানচেস্টার সহ নর্থ ইংল্যান্ডের কয়েক লাখ প্রবাসী। অথচ কিছুদিন আগেও তাদের কপালে ছিল চিন্তার ভাঁজ। কোনো আবদার, অনুরোধ শুনেনি বিদায় হওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সহ কর্মকর্তারা।

সিলেট-ম্যানচেস্টার রুট তারা বন্ধ করবেনই- এমন মনোভাব নিয়ে কাজ করেন। একই সময় ম্যানচেস্টার প্রবাসীরা সিলেটে তীব্র আন্দোলনও গড়ে তোলেন। কিন্তু প্রবাসীদের সব দাবিকে অগ্রাহ্য করে গত ১লা মার্চ থেকে বন্ধ করে দেয়া হয় সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটের বিমানের ফ্লাইট। আর সেটি করা হয়েছিল অনির্দিষ্টকালের জন্য। এমনকি ম্যানচেস্টারে থাকা বাংলাদেশ বিমানের অফিসও গুটিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা ছিল। সময় বেশি গড়ায়নি। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় বসেছে ঘড়ির কাঁটায় কাঁটায় এক মাস। এই সময়ের মধ্যে এসেছে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। তবে সিদ্বান্ত আসার আগেই সিলেটের দু’মন্ত্রী বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান, শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে ইতিবাচক খবর এসেছিল। ফলে তাদের পক্ষ থেকে ঘোষণা ছিল সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে বিমানের ফ্লাইট বন্ধ হবে না। তারা ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলেন।

নির্বাচনের সময় ওই রুটে ফ্লাইট চালু রাখতে তারাও দাবি তুলেন। মন্ত্রীদ্বয়ের ঘনিষ্ঠ সূত্র দাবি করেছে; নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সিলেটের দুই মন্ত্রী বিশেষ করে বিমানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। ওই সময় বিমানমন্ত্রীর তরফ থেকেও ফ্লাইটটি চালু রাখার ব্যাপারে আশ্বাস দেয়া হয়। সরকারের বয়স এক মাস হওয়ার আগেই বুধবার বিমান কর্তৃপক্ষ এই রুটে ফ্লাইট চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। সিলেট-ম্যানচেস্টার রুট নর্থ-ইংল্যান্ডে বসবাসকারী প্রায় ৮ লাখ প্রবাসীর জন্য সহজ রুট।

এই রুট ব্যবহার করে মাত্র ৯ থেকে ১০ ঘণ্টায় প্রবাসীরা সিলেটে এসে পৌঁছতে পারেন। বন্ধ থাকা এই রুটের গুরুত্ব বিবেচনা করে ২০১২ সালে বিমান কর্তৃপক্ষ ফের ফ্লাইট চালু করে। ২০১৯ সাল পর্যন্ত টানা এই রুটে বিমান ফ্লাইট অপারেট করার পর সেটি বন্ধ করে দেয় তৎকালীন সরকার। বাংলাদেশ বিমানের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা বিমানের একটি অসাধু চক্র এই রুট নিয়ে পাঁয়তারা শুরু করে। এই রুটকে অলাভজনক আখ্যা দিয়ে তারা রুটটি বন্ধের ঘোষণা দেয়। পরে ২০২২ সালে প্রবাসীদের অনুরোধে এই রুটে ফ্লাইট চালু হয়। কিন্তু ২০২৪ সালে হজ ফ্লাইটের দোহাই দিয়ে বিমান কর্তৃপক্ষ টিকিট বুকিং সিস্টেম বন্ধ করে দেয়।

এ নিয়ে প্রবাসীরা আন্দোলন শুরু করলে রুটটি চালু রাখা হয়। এবার গত ১লা ফেব্রুয়ারি থেকে ফ্লাইটটি বন্ধের ঘোষণা দেয়া হলে সিলেট ও ম্যানচেস্টারে তীব্র আন্দোলন গড়ে উঠে। রাজপথেও গড়ায় এ আন্দোলন। তবু নড়েনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও ওই সময়ের বিমান কর্তৃপক্ষ। তারা একতরফা ভাবেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচনের জন্য এক মাস পিছিয়ে ১লা মার্চ থেকে ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়। ফলে গত ১২ দিন ধরে ওই রুটে বিমানের ফ্লাইট চলছে না। এদিকে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিমান কর্তৃপক্ষ সাম্প্রতিক সময়ে ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দেয়। সর্বশেষ গত বুধবার বিমান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবেও ঘোষণা দেয়া হয়।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম জানিয়েছেন, যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের স্থগিত হয়ে যাওয়া ঢাকা-সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটটি ফের চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আসন্ন হজ কার্যক্রম শেষে আগামী ১লা জুলাই থেকে পুনরায় ওই রুট চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জানান, ফ্লাইটের সময়সূচি এবং অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য যথাসময়ে অবহিত করা হবে। বিমানের ওই ঘোষণার পর ইউকে এনআরবি সোসাইটির ডাইরেক্টর এম জুনেদ আহমদ জানিয়েছেন, সরকারের এ সিদ্ধান্তে ম্যানচেস্টার অঞ্চলের প্রবাসীরা খুব খুশি।

তিনি বলেন, বিমান কর্তৃপক্ষ বারবারই এ রুটটিকে অলাভজনক বলে বন্ধ করে দিচ্ছে। অথচ প্রবাসীরা বলছেন ফ্লাইট অলাভজনক নয়। বিষয়টি তদন্ত করলে আসল সত্য বেরিয়ে আসবে। যুক্তরাজ্যের ওল্ডহাম বিএনপি’র সভাপতি জামাল উদ্দিন জানিয়েছেন- প্রধানমন্ত্রীর প্রতি প্রবাসীদের আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। তার প্রমাণ এবার দেখা গেল। তিনি ক্ষমতায় বসতে না বসতেই প্রবাসীদের সবচেয়ে বড় দাবির বিষয়টির সুরাহা করে দিলেন। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী সহ সিলেটের দুই মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।