নারীর সাথে শাল্লার সাবেক এসিল্যান্ডের ভিডিও ফাঁস
- সময় : ১২:১৪:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
- / ৮০ ভিউ
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিনকে জড়িয়ে একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আপত্তিকর ভিডিও ফাঁসের নেপথ্যে রয়েছেন তারই অফিসের নিরাপত্তা প্রহরী। ভিডিও ভাইরালের পর নোয়াখালীর হাতিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিনকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। তাকে ওএসডি করে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তবে কী কারণে ওএসডি করা হয়েছে সে বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে কিছু বলা হয়নি।
২০২৩ সালের শেষের দিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে শাল্লায় যোগদান করেন মো. আলাউদ্দিন। ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ শাল্লাতেই ভারপ্রাপ্ত ইউএনওর দায়িত্ব পান। সেখানে প্রায় এক বছর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তবে এসব ভিডিও কোথায়, কিভাবে ভাইরাল হয়েছে তা জানতে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এসব ভিডিও ভাইরালের নেপথ্যে রয়েছে শাল্লা উপজেলা ভূমি অফিসের নিরাপত্তা প্রহরী রাজু রায়। ২০২৫ সালের জুন মাসে ভিডিও ফাঁসের মূল উৎস রাজু রায় ভিডিওগুলো দিয়ে দেন স্থানীয় একজন সাংবাদিককে।তবে ওই সাংবাদিক ভিডিওগুলো কারো সঙ্গে শেয়ার না করে দুটি স্ক্রিনশট ব্লটুথের মাধ্যমে শেয়ার করেছিলেন আরেক সাংবাদিকের সঙ্গে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্লুটুথের মাধ্যমে স্কিনশট পাওয়া ওই সাংবাদিক জানান, ওই সময়ই তিনি ঘটনাটি কিছুটা অনুসন্ধান করেছিলেন।তবে প্রমাণ হিসেবে মূল ভিডিওগুলো নিজের হাতে না থাকায় এ নিয়ে কোনো প্রতিবেদন করতে পারেননি এবং অনুসন্ধান করে ওই দুটি স্কিনশট আলাউদ্দিনের আপত্তিকর ভিডিও থেকে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।
ভূমি অফিসের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, এসিল্যান্ড থাকাবস্থায় আলাউদ্দিন কয়েক মাস জেলা পরিষদের ডাকবাংলোতে থাকতেন পরিবার ছাড়া। এ সময় নিরাপত্তা প্রহরী রাজু রায় আলাউদ্দিনের দেখাশোনাসহ খাবার-দাবার জোগান দিতেন। এই সুবাদে আলাউদ্দিনের ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেন রাজু রায়। ঘনিষ্ঠতার খাতিরে বিভিন্ন সময় আলাউদ্দিনের ব্যক্তিগত ফোনালাপ শুনতে পেতেন তিনি। একদিন কাজের সুবাদে আলাউদ্দিনের ডেক্সটপের পেনড্রইভে থাকা এসব ভিডিও রাজু রায়ের চোখে পড়ে যায়। সুযোগ পেয়ে পেনড্রাইভটি চুরি করে আলাউদ্দিনের ৮-১০ আপত্তিকর ভিডিও রাজু রায় তার নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। ওই সময় পেনড্রাইভ না পেয়ে অফিসে গিয়ে আলাউদ্দিন রাগান্বিত হলে রাজু রাতের আঁধারে সেটি একটি ড্রয়ারে রেখে দেন এবং পরে সেটি পাওয়া গেছে বলে জানান।
এর পর থেকেই এসব ভিডিও দেখিয়ে আলাউদ্দিনকে ব্ল্যাকমেইলিং শুরু করেন রাজু। একপর্যায়ে রাজুকে বড় অঙ্কের টাকা ও শাল্লা সদরে ডিসি খতিয়ানের দুটি বাজার ভিট দেন আলাউদ্দিন। কিন্তু এখানেই থেমে থাকেন নি রাজু! রাজুর মোবাইল থেকে ডিলিটের পূর্বে তার ঘনিষ্ঠ এক সাংবাদিককে ভিডিওগুলো দিয়ে দেন রাজু। পরে ওই সাংবাদিকও আলাউদ্দিনকে ব্লাকমেইল করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় ব্যর্থ হলে ভিডিওগুলো অন্যদের দিয়ে ভাইরাল করে দেয়। এ বিষয়ে রাজু রায় বলেন, এগুলো অনেক আগের ঘটনা। এসব ভিডিও আমি তখন সঙ্গে সঙ্গেই ডিলিট করে দিছি।
তিনি বলেন, এ কারণে আমাকে দিনের ডিউটি বাদ দিয়ে রাতে ডিউটি করতে হচ্ছে। দিনে ডিউটি করলে খরচাপাতির টাকা পাওয়া যেত। এখন এই ভিডিও সংক্রান্ত বিষয়ে আমি খুব সমস্যায় আছি বলে ফোন কেটে দেন তিনি।তবে সেসব ভিডিও সে নিজেই করত বলে জানায় রাজু। আলাউদ্দিনের ফোন নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া গেছে। হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে গণমাধ্যমের কাছে আলাউদ্দিন দাবি করেন এসব ভিডিও সত্য নয়। বরং এগুলো তার সম্মানহানির উদ্দেশ্যে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ভিডিও সংক্রান্ত খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর মঙ্গলবার মোহাম্মদ আলাউদ্দিনকে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদ থেকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মু. তানভীর হাসান সুমন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি ও পদায়নের আদেশ দেওয়া হয়।























