০৪:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুলিশের সহযোগিতায় হবে সিলেট বইমেলা, উদ্বোধন ১০ মে

রিপোর্টার
  • সময় : ০১:৫৬:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
  • / ৯২ ভিউ

‘মবের ভয়ে’ সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) বাতিল করেছিল সিলেটে প্রকাশক পরিষদের বইমেলা। গত ২৪ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত বইমেলা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু  আগের দিন ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি’ বিবেচনায় বইমেলার অনুমতি বাতিল করে দেয় পুলিশ। দুই সপ্তাহ পর এবার পুলিশের সহায়তায় হচ্ছে প্রকাশকদের বইমেলা। সিলেটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আগামী ১০ মে বইমেলার উদ্বোধন করা হবে। শুক্রবার (৮ মে) প্রকাশক পরিষদ সিলেট একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ১০ মে রবিবার থেকে ১৮ মে সোমবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে প্রকাশক পরিষদ সিলেট বইমেলার আয়োজন করতে যাচ্ছে। মেলা চলবে প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। ১০ মে রবিবার বিকেল ৩টায় মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। সহযোগিতায় মেট্রোপলিটন পুলিশ, সিলেট; সিলেট সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদ সিলেট। প্রকাশক পরিষদ থেকে বলা হয়, বাতিল হওয়া মেলায় কেবল সহযোগী হিসেবে সিলেট সিটি করপোরেশন ছিল। নতুন করে অনুমতি পাওয়া মেলায় সহযোগিতায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ ও জেলা পরিষদকে রাখা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, মেলার আমন্ত্রণপত্রে সহযোগিতার বিষয়টি প্রকাশ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৪ এপ্রিল থেকে ২ মে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বইমেলার আয়োজন করা হয়েছিল। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণ দেখিয়ে এই অনুমতি বাতিল করেছে বলে একটি পত্র মারফত জানিয়েছিল। মেলার আয়োজকেরা পুলিশ প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টি অবহিত করলেও অংশগ্রহণকারী প্রকাশনী সংস্থা সূত্র জানিয়েছে, একটি মহল থেকে মেলায় মব সৃষ্টির তৎপরতা ছিল। প্রকাশক পরিষদের বইমেলাটি বিগত অন্তবর্তী সরকার আমলে গত বছর ৭ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি আয়োজন করা হয়েছিল। তখনও অনুরূপভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়টি তুলে ধরে মেলা বাতিল করা হয়েছিল। অন্তবর্তী সরকারের পর নির্বাচিত সরকার আমলেও একইভাবে বইমেলার মতো একটি সৃজনশীল আয়োজন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় প্রকাশকসহ লেখকেরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ‘মবের ভয়ে’ বইমেলা বাতিল করায় এ নিয়ে চাঞ্চল্য দেখা দেয়। পরদিন দেশে ও বিদেশে থাকা ১৫০ জন বিশিষ্টজন বিবৃতি দিয়ে বইমেলার মতো সৃজনশীল প্রকাশনা বাতিল করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।

বইমেলা বাতিলের কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছিল, ‘স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মী ও জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী নেতৃবৃন্দ’ ব্যানারে বিএনপি সিলেট বিভাগের সংস্কৃতি বিষয়ক উপ-কমিটির সাবেক সদস্য সাজন আহমদ সাজু এবং সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি জুবায়ের আহমদ স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বরাবর দাখিল করা হয়। অভিযোগপত্রে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বইমেলায় ‘নিষিদ্ধ সংগঠনের’ সংশ্লিষ্টতা এবং বিতর্কিত প্রকাশনীকে স্থান দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে বলা হয়েছিল, ‘যে কোনো মূল্যে কালচারাল ফ্যাসিস্ট, আওয়ামী দোসরদের বইমেলা প্রতিহত করা হবে।’

এসএমপি সূত্র জানায়, গোয়েন্দা তথ্যে এ বিষয়ে ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়ে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় বইমেলা আয়োজনে পুুলিশ সহায়তা করার বিষয়টি অবহিত করা হয়। এ বিষয়ে প্রকাশক পরিষদ সিলেটের সাধারণ সম্পাদক সুফি সুফিয়ান বলেন, ‘সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আমাদের আমন্ত্রণ করে বলেছেন- আপনারা বইমেলাটা করেন। যা হবার হয়েছে, আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতার চেষ্টা করব। তাদের প্রতি আশ্বস্ত হয়ে পুনরায় মেলার আয়োজন করছি আমরা। প্রিয় পাঠক বইপ্রেমী কবি-সাহিত্যিকদের পদচারণায় বইমেলা প্রাণ পাবে এই প্রত্যাশা আমাদের।’

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পুলিশের সহযোগিতায় হবে সিলেট বইমেলা, উদ্বোধন ১০ মে

সময় : ০১:৫৬:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

‘মবের ভয়ে’ সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) বাতিল করেছিল সিলেটে প্রকাশক পরিষদের বইমেলা। গত ২৪ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত বইমেলা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু  আগের দিন ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি’ বিবেচনায় বইমেলার অনুমতি বাতিল করে দেয় পুলিশ। দুই সপ্তাহ পর এবার পুলিশের সহায়তায় হচ্ছে প্রকাশকদের বইমেলা। সিলেটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আগামী ১০ মে বইমেলার উদ্বোধন করা হবে। শুক্রবার (৮ মে) প্রকাশক পরিষদ সিলেট একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ১০ মে রবিবার থেকে ১৮ মে সোমবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে প্রকাশক পরিষদ সিলেট বইমেলার আয়োজন করতে যাচ্ছে। মেলা চলবে প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। ১০ মে রবিবার বিকেল ৩টায় মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। সহযোগিতায় মেট্রোপলিটন পুলিশ, সিলেট; সিলেট সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদ সিলেট। প্রকাশক পরিষদ থেকে বলা হয়, বাতিল হওয়া মেলায় কেবল সহযোগী হিসেবে সিলেট সিটি করপোরেশন ছিল। নতুন করে অনুমতি পাওয়া মেলায় সহযোগিতায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ ও জেলা পরিষদকে রাখা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, মেলার আমন্ত্রণপত্রে সহযোগিতার বিষয়টি প্রকাশ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৪ এপ্রিল থেকে ২ মে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বইমেলার আয়োজন করা হয়েছিল। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণ দেখিয়ে এই অনুমতি বাতিল করেছে বলে একটি পত্র মারফত জানিয়েছিল। মেলার আয়োজকেরা পুলিশ প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টি অবহিত করলেও অংশগ্রহণকারী প্রকাশনী সংস্থা সূত্র জানিয়েছে, একটি মহল থেকে মেলায় মব সৃষ্টির তৎপরতা ছিল। প্রকাশক পরিষদের বইমেলাটি বিগত অন্তবর্তী সরকার আমলে গত বছর ৭ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি আয়োজন করা হয়েছিল। তখনও অনুরূপভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়টি তুলে ধরে মেলা বাতিল করা হয়েছিল। অন্তবর্তী সরকারের পর নির্বাচিত সরকার আমলেও একইভাবে বইমেলার মতো একটি সৃজনশীল আয়োজন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় প্রকাশকসহ লেখকেরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ‘মবের ভয়ে’ বইমেলা বাতিল করায় এ নিয়ে চাঞ্চল্য দেখা দেয়। পরদিন দেশে ও বিদেশে থাকা ১৫০ জন বিশিষ্টজন বিবৃতি দিয়ে বইমেলার মতো সৃজনশীল প্রকাশনা বাতিল করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।

বইমেলা বাতিলের কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছিল, ‘স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মী ও জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী নেতৃবৃন্দ’ ব্যানারে বিএনপি সিলেট বিভাগের সংস্কৃতি বিষয়ক উপ-কমিটির সাবেক সদস্য সাজন আহমদ সাজু এবং সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি জুবায়ের আহমদ স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বরাবর দাখিল করা হয়। অভিযোগপত্রে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বইমেলায় ‘নিষিদ্ধ সংগঠনের’ সংশ্লিষ্টতা এবং বিতর্কিত প্রকাশনীকে স্থান দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে বলা হয়েছিল, ‘যে কোনো মূল্যে কালচারাল ফ্যাসিস্ট, আওয়ামী দোসরদের বইমেলা প্রতিহত করা হবে।’

এসএমপি সূত্র জানায়, গোয়েন্দা তথ্যে এ বিষয়ে ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়ে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় বইমেলা আয়োজনে পুুলিশ সহায়তা করার বিষয়টি অবহিত করা হয়। এ বিষয়ে প্রকাশক পরিষদ সিলেটের সাধারণ সম্পাদক সুফি সুফিয়ান বলেন, ‘সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আমাদের আমন্ত্রণ করে বলেছেন- আপনারা বইমেলাটা করেন। যা হবার হয়েছে, আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতার চেষ্টা করব। তাদের প্রতি আশ্বস্ত হয়ে পুনরায় মেলার আয়োজন করছি আমরা। প্রিয় পাঠক বইপ্রেমী কবি-সাহিত্যিকদের পদচারণায় বইমেলা প্রাণ পাবে এই প্রত্যাশা আমাদের।’