ভারতের প্রভাবশালী দুই মন্ত্রী আগামী জুলাইয়ের প্রথম দিকে ঢাকা সফরে আসছেন। গত এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের পর ভারতের মন্ত্রীদের ঢাকা সফরকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিকরা। শনিবার ভারতের প্রভাবশালী বাংলা দৈনিক যুগশঙ্খের এক প্রতিবদেনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কক আরও জোরদারের লক্ষ্যে এগোচ্ছে কেন্দ্রের মোদি সরকার। আর এ জন্য প্রতিবেশি দেশটির সঙ্গে প্রতিরক্ষা, জ¦ালানি, শিল্প, বাণিজ্য, অবকাঠামো ও কানেকটিভিটিতে বেশি করে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়গুলোর ফলোআপ এবং দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির রূপায়ণের বিষয়ে আলোচনা করতে জুলাইতে ঢাকা সফরে যাচ্ছেন মোদি সরকারের জেষ্ঠ্য দুই মন্ত্রী। পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ২ জুলাই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সফরে যাবেন অর্থ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী অরুন জেটলি। বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের আমন্ত্রণে তিনি ৩ দিনের এই সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়া অর্থমন্ত্রী আবদুল মুহিত এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।

গত এপ্রিলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লি সফরের পর ভারতের কোন মন্ত্রীর এটাই প্রথম ঢাকা সফর। কূটনৈতিক মহল অরুণ জেটলির এ সফরকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, দু’দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার যে সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছে, তা চুক্তিতে রূপান্তর এবং সামরিক সহযোগিতার অন্যান্য বিষয়গুলোর বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই অরুণ জেটলির এ সফর। যুগশঙ্খের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অরুণ জেটলির সফরের পর অর্থ্যাৎ ১০ জুলাই ঢাকা যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। গত ডিসেম্বরে কিডনিতে অস্ত্রোপচারের পর সফরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন চিকিৎসকরা। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইতালিতে তিনি শেষবারের মতো বিদেশ সফর করেছিলেন।দিল্লির সাউথব্লক সূত্রের খবর, ঢাকা যাতায়াতের ধকল যেহেতু কম, তাই প্রথম সফর হিসেবে ঢাকাকেই বেছে নেওয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের পর বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে মোদি সরকার। দুই দেশের সম্পর্ককে কিছু ইস্যুতে সীমাবদ্ধ না রেখে শিল্প, বাণিজ্য, যোগাযোগ, অবোকাঠামো নির্মাণ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে বিভিন্ন চুক্তির রূপায়ণের দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, ভারত নতুন দফায় পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দিয়েছে বাংলাদেশকে। সে ঋণের আওতায় অবকাঠামো ক্ষেত্রে কোন প্রকল্পগুলো আসবে তা চিহ্নিত করার কাজও শুরু হচ্ছে। আগামী এক বছর দুই দেশের মধ্যে যে বিপুল কর্মযজ্ঞ চলবে তার প্রাক্কালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের এই ঢাকা সফরকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterEmail this to someoneShare on LinkedIn