০৮:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শান্তিগঞ্জ:ক্রমশ সহজলভ্য হচ্ছে নেশা দ্রব্য।

রিপোর্টার
  • সময় : ০৪:০০:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৪২ ভিউ

ইয়াকুব শাহরিয়ার-শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ক্রমশ সহজলভ্য হচ্ছে নেশা দ্রব্য। গাঁজা, মদ, ইয়াবাসহ আরো অন্যান্য নেশা দ্রব্য ভয়ঙ্কর আকারে প্রবেশ করছে উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। এতে একদিকে যেমন চরম আকারে ঝুঁকির মুখে পড়ছেন উঠতি বয়সী ছেলেরা, অন্যদিকে সমাজে মাদকের ভয়ঙ্কর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে। এসব মাদক বিভিন্ন রুট হয়ে শান্তিগঞ্জ উপজেলায় প্রবেশ করছে। উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ব্যবহার করে দেদারসে বাণিজ্য করে যাচ্ছে মাদক কারবারীরা। পুলিশ বিভিন্ন সময় মাদকের বিরুদ্ধে অভিজান পরিচালনা করলেও কোনোভাবেই থামছে না মাদকের এই ছড়াছড়ি। বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন ও ভিন্ন ভিন্ন স্পট ব্যবহার করে পুলিশ প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছে তারা।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা, দরগাপাশা, পূর্ব বীরগাঁও, পাথারিয়া ও জয়কলস ইউনিয়নসহ প্রায় সবক’টি ইউনিয়নে রয়েছে মাদক ব্যবসায়ী। তাদের মাধ্যমে এসব মাদক পৌঁছে যাচ্ছে তরুণ, যুবক এমনকি শিশুদের হাতেও। দরগাপাশা ইউনিয়নের হরিনগর (মাঝখানে ও উত্তর পাশে), দরগাপাশা, সিদখাই ও বুড়মপুর গ্রামে মাদক ব্যবসায়ী রয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। এদিকে পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে রাতের আঁধারে মাদক সেবন ও বিক্রি অভিযোগ আছে।

স্থানীয়রা জানান, এই ইউনিয়নে নদী পারাপারের সাথে জড়িত এমন ব্যক্তিও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত আছেন। মাজারকে কেন্দ্র করেও মাদক সেবন ও ব্যবসার অভিযোগ আছে। এই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড, হাঁসকুড়ি ও বাবনগাঁও গ্রামেও মাদক বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাথারিয়া ইউনিয়নের গাজীনগর, পাথারিয়া ও গণিগঞ্জ গ্রামে হাত বাড়ালেই মাদক পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন একাধিক বাসিন্দা। গাজীনগর গ্রামের লোকজন অতিষ্ঠ হয়ে মাদক ব্যবসায়ীকে কৌশল করে অন্য মামলায় পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। জয়কলস ইউনিয়নের জামলাবাজ, নোয়াখালী, জয়কলসসহ আরো বেশ কয়েকটি গ্রামে মাদক বিক্রির অভিযোগ আছে।

জানা যায়, নোয়াখালী বাজার সংলগ্ন বরফ ফ্যাক্টরির পাশে রাতে বিক্রি হচ্ছে মদ, গাঁজা ও ইয়াবা। পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নে মাদকের ছড়াছড়ি ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেছে। ইউনিয়নের নবীনগর, কান্দিগাঁও, হাজিপাড়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম বা পাড়া-মহল্লায় গোপনে বিক্রি হচ্ছে মাদক দ্রব্য। ভয়ঙ্কর কথা হচ্ছে, ব্যবসা, দিন মজুরি রেখে অনেক কম বয়সী ছেলেরাও এই নিষিদ্ধ পেশায় জড়িয়ে পড়ছেন।

সূত্র জানিয়েছে, কৌশলগত কারণে নির্দিষ্ট কোনো স্থান ব্যবহার করেন না মাদক ব্যবসায়ীরা। কোনো কোনো ব্যবসায়ীরা অন্য ব্যবসার আড়ালে করছেন এই ব্যবসা। নদীর পাড়, ধানী জমি, পরিত্যক্ত ভবন, রাস্তার কিনার, নির্জন জায়গা ও বন-জঙ্গল ব্যবহার করে দেদারসে চালিয়ে যাচ্ছেন মাদক ব্যবসা। অনেক ব্যবসায়ী মোবাইল ফোনে অর্ডার নিয়ে পূর্ব নির্ধারিত স্থানে মাদক সাপ্লাই দিয়ে থাকেন। এতে তাদেরকে ধরতে বেগ পোহাতে হয় পুলিশের। তবু অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

রবিবার (২৩ নভেম্বর) রাতে গোপন সংবাদে খবর পেয়ে অভিযান চালায় পুলিশ। উপজেলার সদরপুর সেতুর পশ্চিমপাড়ে একটি পিকআপ আটক করে ৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন তারা। শান্তিগঞ্জ থানার ওসি আবদুল আহাদ বলেন, মাদকের ব্যপারে আমরা খুবই ‘স্ট্রেইট ফরওয়ার্ড’। অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উপজেলায় মাদকের স্পট দেখে দেখে আমরা আমাদের অভিযান চালিয়ে যাবো।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শান্তিগঞ্জ:ক্রমশ সহজলভ্য হচ্ছে নেশা দ্রব্য।

সময় : ০৪:০০:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

ইয়াকুব শাহরিয়ার-শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ক্রমশ সহজলভ্য হচ্ছে নেশা দ্রব্য। গাঁজা, মদ, ইয়াবাসহ আরো অন্যান্য নেশা দ্রব্য ভয়ঙ্কর আকারে প্রবেশ করছে উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। এতে একদিকে যেমন চরম আকারে ঝুঁকির মুখে পড়ছেন উঠতি বয়সী ছেলেরা, অন্যদিকে সমাজে মাদকের ভয়ঙ্কর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে। এসব মাদক বিভিন্ন রুট হয়ে শান্তিগঞ্জ উপজেলায় প্রবেশ করছে। উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ব্যবহার করে দেদারসে বাণিজ্য করে যাচ্ছে মাদক কারবারীরা। পুলিশ বিভিন্ন সময় মাদকের বিরুদ্ধে অভিজান পরিচালনা করলেও কোনোভাবেই থামছে না মাদকের এই ছড়াছড়ি। বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন ও ভিন্ন ভিন্ন স্পট ব্যবহার করে পুলিশ প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছে তারা।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা, দরগাপাশা, পূর্ব বীরগাঁও, পাথারিয়া ও জয়কলস ইউনিয়নসহ প্রায় সবক’টি ইউনিয়নে রয়েছে মাদক ব্যবসায়ী। তাদের মাধ্যমে এসব মাদক পৌঁছে যাচ্ছে তরুণ, যুবক এমনকি শিশুদের হাতেও। দরগাপাশা ইউনিয়নের হরিনগর (মাঝখানে ও উত্তর পাশে), দরগাপাশা, সিদখাই ও বুড়মপুর গ্রামে মাদক ব্যবসায়ী রয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। এদিকে পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে রাতের আঁধারে মাদক সেবন ও বিক্রি অভিযোগ আছে।

স্থানীয়রা জানান, এই ইউনিয়নে নদী পারাপারের সাথে জড়িত এমন ব্যক্তিও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত আছেন। মাজারকে কেন্দ্র করেও মাদক সেবন ও ব্যবসার অভিযোগ আছে। এই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড, হাঁসকুড়ি ও বাবনগাঁও গ্রামেও মাদক বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাথারিয়া ইউনিয়নের গাজীনগর, পাথারিয়া ও গণিগঞ্জ গ্রামে হাত বাড়ালেই মাদক পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন একাধিক বাসিন্দা। গাজীনগর গ্রামের লোকজন অতিষ্ঠ হয়ে মাদক ব্যবসায়ীকে কৌশল করে অন্য মামলায় পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। জয়কলস ইউনিয়নের জামলাবাজ, নোয়াখালী, জয়কলসসহ আরো বেশ কয়েকটি গ্রামে মাদক বিক্রির অভিযোগ আছে।

জানা যায়, নোয়াখালী বাজার সংলগ্ন বরফ ফ্যাক্টরির পাশে রাতে বিক্রি হচ্ছে মদ, গাঁজা ও ইয়াবা। পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নে মাদকের ছড়াছড়ি ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেছে। ইউনিয়নের নবীনগর, কান্দিগাঁও, হাজিপাড়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম বা পাড়া-মহল্লায় গোপনে বিক্রি হচ্ছে মাদক দ্রব্য। ভয়ঙ্কর কথা হচ্ছে, ব্যবসা, দিন মজুরি রেখে অনেক কম বয়সী ছেলেরাও এই নিষিদ্ধ পেশায় জড়িয়ে পড়ছেন।

সূত্র জানিয়েছে, কৌশলগত কারণে নির্দিষ্ট কোনো স্থান ব্যবহার করেন না মাদক ব্যবসায়ীরা। কোনো কোনো ব্যবসায়ীরা অন্য ব্যবসার আড়ালে করছেন এই ব্যবসা। নদীর পাড়, ধানী জমি, পরিত্যক্ত ভবন, রাস্তার কিনার, নির্জন জায়গা ও বন-জঙ্গল ব্যবহার করে দেদারসে চালিয়ে যাচ্ছেন মাদক ব্যবসা। অনেক ব্যবসায়ী মোবাইল ফোনে অর্ডার নিয়ে পূর্ব নির্ধারিত স্থানে মাদক সাপ্লাই দিয়ে থাকেন। এতে তাদেরকে ধরতে বেগ পোহাতে হয় পুলিশের। তবু অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

রবিবার (২৩ নভেম্বর) রাতে গোপন সংবাদে খবর পেয়ে অভিযান চালায় পুলিশ। উপজেলার সদরপুর সেতুর পশ্চিমপাড়ে একটি পিকআপ আটক করে ৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন তারা। শান্তিগঞ্জ থানার ওসি আবদুল আহাদ বলেন, মাদকের ব্যপারে আমরা খুবই ‘স্ট্রেইট ফরওয়ার্ড’। অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উপজেলায় মাদকের স্পট দেখে দেখে আমরা আমাদের অভিযান চালিয়ে যাবো।