০৬:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিরিজ জয়ের অপেক্ষায় বাংলাদেশ

রিপোর্টার
  • সময় : ১০:২৩:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
  • / ৯৫ ভিউ

সিরিজ জয়ের হাতছানি আর র‌্যাঙ্কিংয়ের নতুন মাইলফলক স্পর্শের লক্ষ্য নিয়ে আজ মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের মুখোমুখি হচ্ছে চনমনে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য কেবল একটি সাধারণ ম্যাচ নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক মাইলফলক। প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত জয়ের পর সিরিজে বর্তমানে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। আজ জয় পেলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিজেদের করে নেবে টাইগাররা।

সিরিজ জয়ের পাশাপাশি এই ম্যাচটি আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাংঙ্কিংয়ে একধাপ এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ দল ৭৬ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়ের ১০ম স্থানে অবস্থান করছে। বিভিন্ন পরিসংখ্যান এবং র‌্যাঙ্কিংয়ের সর্বশেষ সমীকরণ অনুযায়ী, এই সিরিজ যদি বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জিততে পারে, তবে দলের রেটিং পয়েন্ট ৭৯-এ উন্নীত হবে। এতে টাইগাররা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে (৭৭ পয়েন্ট) পেছনে ফেলে সরাসরি ৯ম স্থানে উঠে আসবে। আর যদি বাংলাদেশ ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করতে সক্ষম হয়, তবে তাদের পয়েন্ট হবে ৮০। ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণের মূল শর্ত হচ্ছে আইসিসি র?্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আটে থাকা। সেই লক্ষ্য অর্জনে প্রতিটি জয়ই এখন বাংলাদেশের জন্য সরাসরি ওডিআই বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করার সম্ভাবনাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল এক কথায় নিখুঁত এবং দাপুটে।

বিশেষ করে তরুণ ফাস্ট বোলার নাহিদ রানার বিধ্বংসী এবং গতিময় বোলিং পাকিস্তানের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে তছনছ করে দিয়েছিল। রানার অসাধারণ এই ফাইফার পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপের মেরুদণ্ড ভেঙে দেয় এবং তাকে ম্যাচসেরার আসনে বসায়। এটি পাকিস্তানের বিপক্ষে যেকোনো বাংলাদেশি বোলারের সেরা ওডিআই বোলিং ফিগার। নাহিদের আগুনের মতো গতি এবং বাউন্সের সামনে সফরকারী ব্যাটাররা অসহায় আত্মসমর্পণ করেন। অভিজ্ঞ মোহাম্মদ রিজওয়ান এবং সালমান আগার মতো খেলোয়াড়রাও নাহিদের নিখুঁত পরিকল্পনার কাছে হার মানেন। ফলস্বরূপ পাকিস্তান মাত্র ১১৪ রানে গুটিয়ে যায়, যা ওডিআই ইতিহাসে বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। মামুলি এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ ২০৯ বল হাতে রেখেই ৮ উইকেটের বিশাল জয় তুলে নেয়। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম মাত্র ৪২ বলে ৬৭ রানের একটি মারকুটে এবং অপরাজিত ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসে ছিল সাতটি দৃষ্টিনন্দন চার এবং পাঁচটি গগনচুম্বী ছক্কা। অন্যদিকে লিটন দাসও তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন।

এছাড়া অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিংয়ে ফিরে ৩ উইকেট নিয়ে নিজের ফর্মের জানান দিয়েছেন। দলের এই অসাধারণ ফর্ম দ্বিতীয় ম্যাচেও ধরে রাখার ব্যাপারে সবাই বেশ আত্মবিশ্বাসী।

বিপরীত দিকে, পাকিস্তান দল তাদের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপেই বেশ বড় ধাক্কা খেয়েছে। সাহেবজাদা ফারহানসহ চার অভিষেককারীর সম্মিলিত ব্যর্থতা পাকিস্তানকে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে ফেলে দেয়। তবে নাহিদ রানার গতির সামনে এই নতুন ব্যাটারদের কেউই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পারেননি। ব্যাটিং বিপর্যয়ের মাঝে কেবল ফাহিম আশরাফ আট নম্বরে নেমে ৩৭ রানের একটি লড়াকু ইনিংস খেলে পাকিস্তানের স্কোর একশ পার করতে সাহায্য করেন। ঢাকার এই মাঠে ফাহিমের অতীত রেকর্ড বেশ ভালো, গত জুলাইয়ে টি-টোয়েন্টিতেও তিনি দারুণ এক হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন।

তাই দ্বিতীয় ম্যাচে তাকে ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন দেওয়ার একটি সম্ভাবনা রয়েছে। বোলিংয়েও পাকিস্তান চরম শৃঙ্খলাহীনতার পরিচয় দিয়েছে এবং প্রথম ম্যাচে তারা মোট ১৪টি ওয়াইড বল করেছে। বোলিং আক্রমণকে আরও গতিশীল এবং শাণিত করতে দ্বিতীয় ম্যাচে মোহাম্মদ ওয়াসিমের পরিবর্তে অভিজ্ঞ হারিস রউফকে একাদশে ফেরানোর পরিকল্পনা করছে টিম ম্যানেজমেন্ট। সিরিজে টিকে থাকতে হলে শুক্রবারের এই ম্যাচটি পাকিস্তানের জন্য অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। নতুন ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সমন্বয়ে তারা এখন দ্রুত ভুল শুধরে ঘুরে দাঁড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করবে।

বুধবার ম্যাচ শেষে এমন কথা বলেন পাকিস্তানের কিউই কোচ মাইক হেসনও। মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের উইকেট সাধারণত স্পিন সহায়ক হলেও প্রথম ওয়ানডেতে সেখানে গতি এবং বাউন্স দেখা গিয়েছে। বিশেষ করে নতুন বলে টাইগার পেসাররা যে বৈরি আচরণ করেছেন, তা দ্বিতীয় ম্যাচেও দেখার অপেক্ষায় আছেন দর্শকরা। উইকেট যদি একই রকম থাকে, তবে শাহীন শাহ আফ্রিদি এবং নাসিম শাহরাও সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করবেন। টস জয়ী দল কন্ডিশন বিবেচনায় প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে, কারণ মিরপুরে ফ্লাডলাইটের নিচে ব্যাটিং করা তুলনামূলক সহজ। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী শুক্রবার হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও তা খেলায় খুব একটা প্রভাব ফেলবে না বলে আশা করা হচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশ এর আগে ২০১৫ সালে পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছিল। দীর্ঘ ১১ বছর পর আবারও সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটানোর সুবর্ণ সুযোগ এখন টাইগারদের।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সিরিজ জয়ের অপেক্ষায় বাংলাদেশ

সময় : ১০:২৩:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

সিরিজ জয়ের হাতছানি আর র‌্যাঙ্কিংয়ের নতুন মাইলফলক স্পর্শের লক্ষ্য নিয়ে আজ মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের মুখোমুখি হচ্ছে চনমনে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য কেবল একটি সাধারণ ম্যাচ নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক মাইলফলক। প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত জয়ের পর সিরিজে বর্তমানে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। আজ জয় পেলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিজেদের করে নেবে টাইগাররা।

সিরিজ জয়ের পাশাপাশি এই ম্যাচটি আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাংঙ্কিংয়ে একধাপ এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ দল ৭৬ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়ের ১০ম স্থানে অবস্থান করছে। বিভিন্ন পরিসংখ্যান এবং র‌্যাঙ্কিংয়ের সর্বশেষ সমীকরণ অনুযায়ী, এই সিরিজ যদি বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জিততে পারে, তবে দলের রেটিং পয়েন্ট ৭৯-এ উন্নীত হবে। এতে টাইগাররা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে (৭৭ পয়েন্ট) পেছনে ফেলে সরাসরি ৯ম স্থানে উঠে আসবে। আর যদি বাংলাদেশ ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করতে সক্ষম হয়, তবে তাদের পয়েন্ট হবে ৮০। ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণের মূল শর্ত হচ্ছে আইসিসি র?্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আটে থাকা। সেই লক্ষ্য অর্জনে প্রতিটি জয়ই এখন বাংলাদেশের জন্য সরাসরি ওডিআই বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করার সম্ভাবনাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল এক কথায় নিখুঁত এবং দাপুটে।

বিশেষ করে তরুণ ফাস্ট বোলার নাহিদ রানার বিধ্বংসী এবং গতিময় বোলিং পাকিস্তানের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে তছনছ করে দিয়েছিল। রানার অসাধারণ এই ফাইফার পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপের মেরুদণ্ড ভেঙে দেয় এবং তাকে ম্যাচসেরার আসনে বসায়। এটি পাকিস্তানের বিপক্ষে যেকোনো বাংলাদেশি বোলারের সেরা ওডিআই বোলিং ফিগার। নাহিদের আগুনের মতো গতি এবং বাউন্সের সামনে সফরকারী ব্যাটাররা অসহায় আত্মসমর্পণ করেন। অভিজ্ঞ মোহাম্মদ রিজওয়ান এবং সালমান আগার মতো খেলোয়াড়রাও নাহিদের নিখুঁত পরিকল্পনার কাছে হার মানেন। ফলস্বরূপ পাকিস্তান মাত্র ১১৪ রানে গুটিয়ে যায়, যা ওডিআই ইতিহাসে বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। মামুলি এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ ২০৯ বল হাতে রেখেই ৮ উইকেটের বিশাল জয় তুলে নেয়। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম মাত্র ৪২ বলে ৬৭ রানের একটি মারকুটে এবং অপরাজিত ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসে ছিল সাতটি দৃষ্টিনন্দন চার এবং পাঁচটি গগনচুম্বী ছক্কা। অন্যদিকে লিটন দাসও তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন।

এছাড়া অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিংয়ে ফিরে ৩ উইকেট নিয়ে নিজের ফর্মের জানান দিয়েছেন। দলের এই অসাধারণ ফর্ম দ্বিতীয় ম্যাচেও ধরে রাখার ব্যাপারে সবাই বেশ আত্মবিশ্বাসী।

বিপরীত দিকে, পাকিস্তান দল তাদের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপেই বেশ বড় ধাক্কা খেয়েছে। সাহেবজাদা ফারহানসহ চার অভিষেককারীর সম্মিলিত ব্যর্থতা পাকিস্তানকে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে ফেলে দেয়। তবে নাহিদ রানার গতির সামনে এই নতুন ব্যাটারদের কেউই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পারেননি। ব্যাটিং বিপর্যয়ের মাঝে কেবল ফাহিম আশরাফ আট নম্বরে নেমে ৩৭ রানের একটি লড়াকু ইনিংস খেলে পাকিস্তানের স্কোর একশ পার করতে সাহায্য করেন। ঢাকার এই মাঠে ফাহিমের অতীত রেকর্ড বেশ ভালো, গত জুলাইয়ে টি-টোয়েন্টিতেও তিনি দারুণ এক হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন।

তাই দ্বিতীয় ম্যাচে তাকে ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন দেওয়ার একটি সম্ভাবনা রয়েছে। বোলিংয়েও পাকিস্তান চরম শৃঙ্খলাহীনতার পরিচয় দিয়েছে এবং প্রথম ম্যাচে তারা মোট ১৪টি ওয়াইড বল করেছে। বোলিং আক্রমণকে আরও গতিশীল এবং শাণিত করতে দ্বিতীয় ম্যাচে মোহাম্মদ ওয়াসিমের পরিবর্তে অভিজ্ঞ হারিস রউফকে একাদশে ফেরানোর পরিকল্পনা করছে টিম ম্যানেজমেন্ট। সিরিজে টিকে থাকতে হলে শুক্রবারের এই ম্যাচটি পাকিস্তানের জন্য অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। নতুন ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সমন্বয়ে তারা এখন দ্রুত ভুল শুধরে ঘুরে দাঁড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করবে।

বুধবার ম্যাচ শেষে এমন কথা বলেন পাকিস্তানের কিউই কোচ মাইক হেসনও। মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের উইকেট সাধারণত স্পিন সহায়ক হলেও প্রথম ওয়ানডেতে সেখানে গতি এবং বাউন্স দেখা গিয়েছে। বিশেষ করে নতুন বলে টাইগার পেসাররা যে বৈরি আচরণ করেছেন, তা দ্বিতীয় ম্যাচেও দেখার অপেক্ষায় আছেন দর্শকরা। উইকেট যদি একই রকম থাকে, তবে শাহীন শাহ আফ্রিদি এবং নাসিম শাহরাও সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করবেন। টস জয়ী দল কন্ডিশন বিবেচনায় প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে, কারণ মিরপুরে ফ্লাডলাইটের নিচে ব্যাটিং করা তুলনামূলক সহজ। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী শুক্রবার হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও তা খেলায় খুব একটা প্রভাব ফেলবে না বলে আশা করা হচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশ এর আগে ২০১৫ সালে পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছিল। দীর্ঘ ১১ বছর পর আবারও সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটানোর সুবর্ণ সুযোগ এখন টাইগারদের।