১১:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামিসা হত্যা মামলাঃ দায় স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেন সোহেল রানা, নির্দোষ দাবি স্বপ্নার

রিপোর্টার
  • সময় : ১১:৩১:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
  • / ৭ ভিউ

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে আদালতে দাঁড়িয়ে বিচারকের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন প্রধান আসামি সোহেল রানা। তবে মামলার অপর আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেছেন। গতকাল বুধবার ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থন করে দুই আসামির বক্তব্য রেকর্ড করেন। আজ বৃহস্পতিবার এই মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করেছেন বিচারক। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের তারিখ জানা যাবে।

আত্মপক্ষ সমর্থনের আগে কড়া নিরাপত্তায় দুই আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। বিচার কার্যক্রম শুরুর পর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এবং রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্য আসামিদের পড়ে শোনান বিচারক। এরপর বিচারক আসামিদের প্রশ্ন করেন, ‘আপনারা দোষী না নির্দোষ?’ বিচারকের প্রশ্নের জবাবে প্রধান আসামি সোহেল রানা কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে অনুতপ্ত সুরে বলেন, ‘আমি নির্দোষ, স্যার। আমার সাথে যে ছিল ডলার, তারে আপনারা ধরেন। আমি দোষ করি নাই তা না, আমিও দোষ করেছি, ডলারও দোষ করেছে।…আমারে মাফ করে দেন, আমার একটা ছোট ছাওয়াল আছে।’ এ সময় আসামি সোহেল তার স্ত্রীর বিষয়ে বলেন, ‘আমার বউটা একদম নির্দোষ, স্যার।’

এরপর আদালত আসামি স্বপ্নার উদ্দেশে বলেন, ‘আপনার স্বামী এই ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। আপনি বাসায় ছিলেন, তাকে বাধা দেননি। তাই আপনার স্বামীর যে শাস্তি হবে, আপনারও তা-ই হবে।’ জবাবে স্বপ্না বলেন, ‘আমি কিছু করি নাই, আমি নির্দোষ।’ গত মঙ্গলবার এই মামলায় এক দিনে ১৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরা রেকর্ড করেন বিচারক। এরপর বুধবার আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য দিন ধার্য করে দেওয়া হয়। আদালতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী, বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু ও আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কলিমুল্ল্যাহ উপস্থিত ছিলেন।

বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু বলেন, ‘আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রথমে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আবার সহযোগী হিসেবে ডলারের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করে ঘাতক সোহেল রানা। তবে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আমরা বলেছি, মামলার কার্যক্রম বিলম্বিত করতেই চতুরতার আশ্রয় নিচ্ছে সোহেল। তবে পরে ক্ষমা চেয়ে সোহেল রানা তার অপরাধের দায় স্বীকার করে নিয়েছে।’ রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কলিমুল্ল্যাহ বলেন, আদালতে আসামি স্বপ্না খাতুন নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও অবশেষে দায় স্বীকার করে নেয় সোহেল রানা। বৃহস্পতিবার রামিসা হত্যা মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের শুনানির দিন ঠিক করেছে আদালত। ঐ দিন রায়ের তারিখ জানা যাবে।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ মে মামলার আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান। অভিযোগপত্রে সোহেল রানার বিরুদ্ধে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং স্বপ্নার বিরুদ্ধে অপরাধে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। চার্জশিটে ১৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য দেন মামলার বাদী রামিসার বাবা হান্নান মোল্লা ও তার স্ত্রী, রামিসার বোন, রাজু নামের এক প্রতিবেশী। গত সোমবার চার্জশিট আদালতে দাখিল হলে মামলাটি পরবর্তী বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক।

গত ১৯ মে সকালে রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরপরই আসামি স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। গত ২১ মে সেই মামলায় সোহেল রানা আদালতে স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রামিসা হত্যা মামলাঃ দায় স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেন সোহেল রানা, নির্দোষ দাবি স্বপ্নার

সময় : ১১:৩১:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে আদালতে দাঁড়িয়ে বিচারকের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন প্রধান আসামি সোহেল রানা। তবে মামলার অপর আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেছেন। গতকাল বুধবার ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থন করে দুই আসামির বক্তব্য রেকর্ড করেন। আজ বৃহস্পতিবার এই মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করেছেন বিচারক। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের তারিখ জানা যাবে।

আত্মপক্ষ সমর্থনের আগে কড়া নিরাপত্তায় দুই আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। বিচার কার্যক্রম শুরুর পর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এবং রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্য আসামিদের পড়ে শোনান বিচারক। এরপর বিচারক আসামিদের প্রশ্ন করেন, ‘আপনারা দোষী না নির্দোষ?’ বিচারকের প্রশ্নের জবাবে প্রধান আসামি সোহেল রানা কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে অনুতপ্ত সুরে বলেন, ‘আমি নির্দোষ, স্যার। আমার সাথে যে ছিল ডলার, তারে আপনারা ধরেন। আমি দোষ করি নাই তা না, আমিও দোষ করেছি, ডলারও দোষ করেছে।…আমারে মাফ করে দেন, আমার একটা ছোট ছাওয়াল আছে।’ এ সময় আসামি সোহেল তার স্ত্রীর বিষয়ে বলেন, ‘আমার বউটা একদম নির্দোষ, স্যার।’

এরপর আদালত আসামি স্বপ্নার উদ্দেশে বলেন, ‘আপনার স্বামী এই ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। আপনি বাসায় ছিলেন, তাকে বাধা দেননি। তাই আপনার স্বামীর যে শাস্তি হবে, আপনারও তা-ই হবে।’ জবাবে স্বপ্না বলেন, ‘আমি কিছু করি নাই, আমি নির্দোষ।’ গত মঙ্গলবার এই মামলায় এক দিনে ১৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরা রেকর্ড করেন বিচারক। এরপর বুধবার আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য দিন ধার্য করে দেওয়া হয়। আদালতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী, বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু ও আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কলিমুল্ল্যাহ উপস্থিত ছিলেন।

বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু বলেন, ‘আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রথমে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আবার সহযোগী হিসেবে ডলারের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করে ঘাতক সোহেল রানা। তবে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আমরা বলেছি, মামলার কার্যক্রম বিলম্বিত করতেই চতুরতার আশ্রয় নিচ্ছে সোহেল। তবে পরে ক্ষমা চেয়ে সোহেল রানা তার অপরাধের দায় স্বীকার করে নিয়েছে।’ রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কলিমুল্ল্যাহ বলেন, আদালতে আসামি স্বপ্না খাতুন নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও অবশেষে দায় স্বীকার করে নেয় সোহেল রানা। বৃহস্পতিবার রামিসা হত্যা মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের শুনানির দিন ঠিক করেছে আদালত। ঐ দিন রায়ের তারিখ জানা যাবে।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ মে মামলার আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান। অভিযোগপত্রে সোহেল রানার বিরুদ্ধে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং স্বপ্নার বিরুদ্ধে অপরাধে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। চার্জশিটে ১৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য দেন মামলার বাদী রামিসার বাবা হান্নান মোল্লা ও তার স্ত্রী, রামিসার বোন, রাজু নামের এক প্রতিবেশী। গত সোমবার চার্জশিট আদালতে দাখিল হলে মামলাটি পরবর্তী বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক।

গত ১৯ মে সকালে রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরপরই আসামি স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। গত ২১ মে সেই মামলায় সোহেল রানা আদালতে স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।