০৪:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জে ডিসির নিষেধ অমান্য করে বর্ষবরণ পালন করলো উদীচী

রিপোর্টার
  • সময় : ০৮:৪৬:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৮৫ ভিউ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :“লুটপাটতন্ত্রের বিনাশ হোক,সংস্কৃতির জয় হোক,প্রতিবাদ হোক প্রশাসনের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির এবং জীবন বাচান দালাল কুকুর হইতে সাবধান”ইত্যাদি শ্লোগানকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা,আলোচনা সভা ও গান নাটক পরিবেশনার মধ্যে দিয়ে সুনামগঞ্জে একুশে পদকপ্রাপ্ত সংগঠন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর উদ্যোগে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপিত হয়েছে। বর্ষবরন উদযাপনকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সুনামগঞ্জে জেলা শাখার আয়োজিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিন জেলা প্রসাশক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া। জেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে উন্মুক্ত স্থানে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান করেছেন জেলা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সুনামগঞ্জ শহরের হোসেন বখত চত্বরে গানে গানে বর্ষবরণ উদযাপন করে জেলা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। সকালে প্রতিবাদী সংগীত পরিবেশন ও দুপুরে জাহাঙ্গীর আলমের রচনায় ও সাইদুর রহমান আসাদের সঞ্চালনায় পথনাটক বাঁধ মঞ্চস্থ করা হয়। শেষে শহরে গানের মিছিল বের করা হয়। জেলা উদীচীর সভাপতি শীলা রায়ের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন ও সহ সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান আসাদের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মোঃ রেজাউল হক, লেখক সুখেন্দু সেন, জেলা সিপিবির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার, জেলা জাসাসের সদস্য সচিব ও জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য মোনাজ্জির হোসেন সুজন, জেলা খেলাঘরের সভাপতি বিজন সেন রায়, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. খলিল রহমান, জেলা শিল্পকলা একাডেমির প্রশিক্ষক সন্তোষ কুমার চন্দ মন্তোষ, সোহেল রানা, জেলা যুব ইউনিয়নের সভাপতি মো. আবু তাহের মিয়া, হাওর ও নদীরক্ষা আন্দোলনের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলন।

অনুষ্ঠানে শহরের বিভিন্ন শ্রেণির সংস্কৃতিমনা লোকজন অংশগ্রহণ করেন ও সংহিত প্রকাশ করেন। বক্তারা বলেন,একটি বা দুটি নয় একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক। তিনি সংস্কৃতিবিরোধী। উদীচীর বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে তিনি মুক্ত সংস্কৃতি চর্চার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করেছেন। ইতিপূর্বে সুনামগঞ্জের ইতিহাসে আগে কখনও তা হয়নি।

রোববার রাতে সুনামগঞ্জ জেলা উদীচীর সভাপতি শীলা রায় ও সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এ বছরও বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়। এ লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের কাছে অনুমতির জন্য আবেদন করা হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে গানের তালিকা ও অন্যান্য পরিবেশনার বিস্তারিত তথ্য জমা দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়। উদীচীর নেতারা এই শর্তকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেন। পরে বিকল্প স্থানে অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ মুহূর্তে জেলা প্রশাসন জানিয়ে দেয় যে সুনামগঞ্জ শহরের কোথাও বর্ষবরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে না। সংগঠনের কর্মকর্তাদের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত স্বাধীন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের পরিপন্থি এবং এটি মুক্ত সাংস্কৃতিক চর্চাকে বাধাগ্রস্থ করার শামিল। তারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলেন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নানা প্রতিকূলতা স্বত্তেও উদীচী সবসময়ই গণমানুষের সাংস্কৃতিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। তারা শহরের উন্মুক্ত স্থানে বিকল্পভাবে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেন। জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ উদীচী সবসময় বঞ্চিত উপেক্ষিত মানুষের, গণমানুষের কথা বলে। জেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞায় আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছি। আমাদের অনুষ্ঠানের পূর্ব নির্ধারিত জায়গা সুরমা নদীর তীরের রিভারভিউর বটতলায় জেলা প্রশাসন নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর আমরা উন্মুক্ত স্থানে বর্ষবরণ ও হাওরের বোরো ফসলরক্ষা বাঁধের অনিয়ম-দুর্নীতির বাস্তব ঘটনা নিয়ে প্রতিবাদী নাটক বাঁধ মঞ্চস্থ করেছি। বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সহ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ২০০৮ সাল থেকে সুনামগঞ্জে উদীচীর অনুষ্ঠান হয়ে আসছে। প্রশাসনের অনুমতির জন্য আবেদন করার পর উদীচীর কাছে গানের তালিকা ও নাটকের স্ক্রিপ্ট চাওয়া হয়। কিন্তু উদীচী কারো কাছে এসব দিতে দায়বদ্ধ নয়।

হাওরের বোরো ফসলরক্ষা বাঁধের কাজের অনিয়ম-দুর্নীতি ও কৃষকদের দুর্দশা নিয়ে উদীচী কথা বলায় জেলা প্রশাসন কোথাও অনুষ্ঠানের অনুমতি দেননি। উদীচী গণমানুষের একটি সংগঠন তাই বৈশাখের তপ্ত আবহাওয়া ও প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই বর্ষবরণ অনুষ্ঠান করা হয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলা সিপিবির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, জেলা প্রশাসনের কথামতো অনুষ্ঠান করতে হবে এটা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। উদীচীর অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে জেলা প্রশাসন মোটেও ভালো কাজ করেননি। বর্ষবরণের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়া পাকিস্তানি চিন্তা-চেতনার শামিল।

এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, যেহেতু সরকারিভাবে সব সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান করা হয়েছিল। উদীচীকেও সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেখানে আলাদা অনুমোদন দেওয়া যায় কীভাবে। জেলা প্রশাসককে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় মিথ্যাবাদী উল্লেখ করে গীতিকার নির্মল কর বলেন, একজন জেলা প্রশাসক জগণ্য মিথ্যাচার করতে পারেন তা কল্পনাও করতে পারিনি। তিনি অন্যায় এবং অযৌক্তিক দাবী করে বলেছেন, সরকারীভাবে সব সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠান করা হয়েছিল। বাস্তবে তিনি তার প্রতিভূ শিল্পী ও সংগঠনকে নিয়ে তার ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান করেছেন। নিরমল কর বলেন,সুনামগঞ্জ জেলার ৫ প্রধান লোককবির মধ্যমণি গানের সম্রাট বাউল কামাল পাশা (কামাল উদ্দিন) সাহেবের নামে পরিচালিত সংগঠন “বাউল কামাল পাশা সংস্কৃতি সংসদ এবং বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের নামে পরিচালিত সংগঠন শাহ আব্দুল করিম পরিষদ এবং জ্ঞানের সাগর দূর্বিণ শাহ এর নামে পরিচালিত সংগঠনগুলো হচ্ছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির তালিকাভূক্ত সংগঠন। এসব বাউল মহাজনদের সংগঠনকে ঐ ডিসি সাহেব কোন দাওয়াতপত্র দেয়াতো দূরের কথা একটি মোবাইল ফোনও করেননি। অথচ সকল সংগঠনকে নিয়ে অনুষ্ঠান করেছেন বলে মিথ্যাচার করেছেন।

এদিকে প্রশাসনের বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে সুনামগঞ্জ পৌরচত্তরে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে উদীচীর পাশে দাড়ানোর জন্য সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দকে স্বাগত জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বাউল দল সুনামগঞ্জ জেলা শাখার আহবায়ক গীতিকবি নজরুল ইসলাম,যুগ্ম আহবায়ক সাংবাদিক বাউল আল হেলাল ও সদস্যসচিব নাট্যকর্মী আফতাব উদ্দিন। তারা ডিসি ইলিয়াস মিয়াকে সংস্কৃতিবিরোধী অভিহিত করে অবিলম্বে সুনামগঞ্জ থেকে প্রত্যাহারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সুনামগঞ্জে ডিসির নিষেধ অমান্য করে বর্ষবরণ পালন করলো উদীচী

সময় : ০৮:৪৬:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :“লুটপাটতন্ত্রের বিনাশ হোক,সংস্কৃতির জয় হোক,প্রতিবাদ হোক প্রশাসনের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির এবং জীবন বাচান দালাল কুকুর হইতে সাবধান”ইত্যাদি শ্লোগানকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা,আলোচনা সভা ও গান নাটক পরিবেশনার মধ্যে দিয়ে সুনামগঞ্জে একুশে পদকপ্রাপ্ত সংগঠন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর উদ্যোগে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপিত হয়েছে। বর্ষবরন উদযাপনকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সুনামগঞ্জে জেলা শাখার আয়োজিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিন জেলা প্রসাশক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া। জেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে উন্মুক্ত স্থানে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান করেছেন জেলা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সুনামগঞ্জ শহরের হোসেন বখত চত্বরে গানে গানে বর্ষবরণ উদযাপন করে জেলা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। সকালে প্রতিবাদী সংগীত পরিবেশন ও দুপুরে জাহাঙ্গীর আলমের রচনায় ও সাইদুর রহমান আসাদের সঞ্চালনায় পথনাটক বাঁধ মঞ্চস্থ করা হয়। শেষে শহরে গানের মিছিল বের করা হয়। জেলা উদীচীর সভাপতি শীলা রায়ের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন ও সহ সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান আসাদের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মোঃ রেজাউল হক, লেখক সুখেন্দু সেন, জেলা সিপিবির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার, জেলা জাসাসের সদস্য সচিব ও জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য মোনাজ্জির হোসেন সুজন, জেলা খেলাঘরের সভাপতি বিজন সেন রায়, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. খলিল রহমান, জেলা শিল্পকলা একাডেমির প্রশিক্ষক সন্তোষ কুমার চন্দ মন্তোষ, সোহেল রানা, জেলা যুব ইউনিয়নের সভাপতি মো. আবু তাহের মিয়া, হাওর ও নদীরক্ষা আন্দোলনের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলন।

অনুষ্ঠানে শহরের বিভিন্ন শ্রেণির সংস্কৃতিমনা লোকজন অংশগ্রহণ করেন ও সংহিত প্রকাশ করেন। বক্তারা বলেন,একটি বা দুটি নয় একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক। তিনি সংস্কৃতিবিরোধী। উদীচীর বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে তিনি মুক্ত সংস্কৃতি চর্চার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করেছেন। ইতিপূর্বে সুনামগঞ্জের ইতিহাসে আগে কখনও তা হয়নি।

রোববার রাতে সুনামগঞ্জ জেলা উদীচীর সভাপতি শীলা রায় ও সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এ বছরও বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়। এ লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের কাছে অনুমতির জন্য আবেদন করা হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে গানের তালিকা ও অন্যান্য পরিবেশনার বিস্তারিত তথ্য জমা দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়। উদীচীর নেতারা এই শর্তকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেন। পরে বিকল্প স্থানে অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ মুহূর্তে জেলা প্রশাসন জানিয়ে দেয় যে সুনামগঞ্জ শহরের কোথাও বর্ষবরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে না। সংগঠনের কর্মকর্তাদের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত স্বাধীন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের পরিপন্থি এবং এটি মুক্ত সাংস্কৃতিক চর্চাকে বাধাগ্রস্থ করার শামিল। তারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলেন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নানা প্রতিকূলতা স্বত্তেও উদীচী সবসময়ই গণমানুষের সাংস্কৃতিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। তারা শহরের উন্মুক্ত স্থানে বিকল্পভাবে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেন। জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ উদীচী সবসময় বঞ্চিত উপেক্ষিত মানুষের, গণমানুষের কথা বলে। জেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞায় আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছি। আমাদের অনুষ্ঠানের পূর্ব নির্ধারিত জায়গা সুরমা নদীর তীরের রিভারভিউর বটতলায় জেলা প্রশাসন নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর আমরা উন্মুক্ত স্থানে বর্ষবরণ ও হাওরের বোরো ফসলরক্ষা বাঁধের অনিয়ম-দুর্নীতির বাস্তব ঘটনা নিয়ে প্রতিবাদী নাটক বাঁধ মঞ্চস্থ করেছি। বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সহ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ২০০৮ সাল থেকে সুনামগঞ্জে উদীচীর অনুষ্ঠান হয়ে আসছে। প্রশাসনের অনুমতির জন্য আবেদন করার পর উদীচীর কাছে গানের তালিকা ও নাটকের স্ক্রিপ্ট চাওয়া হয়। কিন্তু উদীচী কারো কাছে এসব দিতে দায়বদ্ধ নয়।

হাওরের বোরো ফসলরক্ষা বাঁধের কাজের অনিয়ম-দুর্নীতি ও কৃষকদের দুর্দশা নিয়ে উদীচী কথা বলায় জেলা প্রশাসন কোথাও অনুষ্ঠানের অনুমতি দেননি। উদীচী গণমানুষের একটি সংগঠন তাই বৈশাখের তপ্ত আবহাওয়া ও প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই বর্ষবরণ অনুষ্ঠান করা হয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলা সিপিবির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, জেলা প্রশাসনের কথামতো অনুষ্ঠান করতে হবে এটা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। উদীচীর অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে জেলা প্রশাসন মোটেও ভালো কাজ করেননি। বর্ষবরণের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়া পাকিস্তানি চিন্তা-চেতনার শামিল।

এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, যেহেতু সরকারিভাবে সব সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান করা হয়েছিল। উদীচীকেও সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেখানে আলাদা অনুমোদন দেওয়া যায় কীভাবে। জেলা প্রশাসককে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় মিথ্যাবাদী উল্লেখ করে গীতিকার নির্মল কর বলেন, একজন জেলা প্রশাসক জগণ্য মিথ্যাচার করতে পারেন তা কল্পনাও করতে পারিনি। তিনি অন্যায় এবং অযৌক্তিক দাবী করে বলেছেন, সরকারীভাবে সব সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠান করা হয়েছিল। বাস্তবে তিনি তার প্রতিভূ শিল্পী ও সংগঠনকে নিয়ে তার ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান করেছেন। নিরমল কর বলেন,সুনামগঞ্জ জেলার ৫ প্রধান লোককবির মধ্যমণি গানের সম্রাট বাউল কামাল পাশা (কামাল উদ্দিন) সাহেবের নামে পরিচালিত সংগঠন “বাউল কামাল পাশা সংস্কৃতি সংসদ এবং বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের নামে পরিচালিত সংগঠন শাহ আব্দুল করিম পরিষদ এবং জ্ঞানের সাগর দূর্বিণ শাহ এর নামে পরিচালিত সংগঠনগুলো হচ্ছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির তালিকাভূক্ত সংগঠন। এসব বাউল মহাজনদের সংগঠনকে ঐ ডিসি সাহেব কোন দাওয়াতপত্র দেয়াতো দূরের কথা একটি মোবাইল ফোনও করেননি। অথচ সকল সংগঠনকে নিয়ে অনুষ্ঠান করেছেন বলে মিথ্যাচার করেছেন।

এদিকে প্রশাসনের বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে সুনামগঞ্জ পৌরচত্তরে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে উদীচীর পাশে দাড়ানোর জন্য সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দকে স্বাগত জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বাউল দল সুনামগঞ্জ জেলা শাখার আহবায়ক গীতিকবি নজরুল ইসলাম,যুগ্ম আহবায়ক সাংবাদিক বাউল আল হেলাল ও সদস্যসচিব নাট্যকর্মী আফতাব উদ্দিন। তারা ডিসি ইলিয়াস মিয়াকে সংস্কৃতিবিরোধী অভিহিত করে অবিলম্বে সুনামগঞ্জ থেকে প্রত্যাহারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।