লন্ডনে নির্যাতনের শিকার বাংলাদেশি নারীর লড়াই য়ের গল্প
- সময় : ০৯:৪৩:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
- / ৫ ভিউ
এহসানুল ইসলাম চৌধুরী শামীম , লন্ডনের রমফোর্ডে বসবাসরত ব্রিটিশ বাংলাদেশি নারী মাহিদা রহমান কলির জীবন যেন এক কঠিন বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। অল্প বয়সে পারিবারিকভাবে বিয়ের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল তার দাম্পত্য জীবন—স্বপ্ন ছিল একটি সুখী সংসার গড়ার। কিন্তু সেই স্বপ্ন খুব দ্রুতই দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিয়ের পর কলি বুঝতে শুরু করেন, তার স্বামীর কাছে এই সম্পর্ক ভালোবাসার নয়, বরং একটি উদ্দেশ্য পূরণের মাধ্যম। তার ভাষায়, “আমি বুঝতে পারছিলাম, আমাকে ভালোবেসে নয়—পাসপোর্টের জন্য বিয়ে করা হয়েছে।”
বিয়ের প্রথম মাস থেকেই শুরু হয় সন্দেহ, অবিশ্বাস আর নিয়ন্ত্রণ। প্রতিদিন কাজ শেষে বাড়ি ফিরলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হতো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে—মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি শুরু হয় শারীরিক সহিংসতাও।
কলি বলেন, “প্রতিদিন কাজ শেষে বাসায় ফিরলে আমাকে জিজ্ঞেস করা হতো কার সঙ্গে ছিলাম। অনেক সময় শারীরিকভাবে আঘাতও করা হতো।” একদিকে সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা, অন্যদিকে নির্যাতনের ভার—এই দ্বৈত চাপে দীর্ঘ সময় পার করেন তিনি। এর মধ্যেই জন্ম নেয় তার সন্তান। কিন্তু পরিস্থিতি যখন অসহনীয় হয়ে ওঠে, তখন ২০২১ সালে তিনি পুলিশের সহায়তা নেন এবং অবশেষে সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসেন। বেদনাদায়ক হলেও সত্য, এই সময়ের মধ্যেই তার স্বামী ব্রিটিশ পাসপোর্ট পেয়ে যান। আর কলির সামনে শুরু হয় নতুন সংগ্রাম—এককভাবে সন্তানদের নিয়ে জীবনযুদ্ধ।
তবে ভেঙে পড়েননি তিনি। বরং নতুন করে জীবন গড়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে চলেছেন। কলি বলেন, “সবকিছু ভেঙে গেলেও আবার শুরু করা যায়—বিশেষ করে সন্তানের জন্য।”তার এই ব্যক্তিগত সংগ্রামের গল্প উঠে এসেছে “কারলেট থ্রেডস” নামের একটি বইয়ে। বইটিতে শুধু তার নিজের অভিজ্ঞতাই নয়, বরং প্রবাসে থাকা অনেক নারীর নীরব কষ্ট ও লড়াইয়ের চিত্র ফুটে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের ঘটনা প্রবাসী সমাজে অপ্রকাশিত থাকলেও বাস্তবে এর সংখ্যা কম নয়। সামাজিক লজ্জা, পারিবারিক চাপ এবং আইনি জটিলতার কারণে অনেক নারী নির্যাতনের কথা প্রকাশ করতে পারেন না। মাহিদা রহমান কলির এই উদ্যোগ তাই শুধু একটি ব্যক্তিগত গল্প নয়—এটি হয়ে উঠেছে সাহস জোগানোর একটি মাধ্যম। তার জীবন থেকে পাওয়া শিক্ষা স্পষ্ট: প্রতিকূলতা যত গভীরই হোক, দৃঢ় মনোবল থাকলে নতুন করে পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব। এই গল্প আজ প্রবাসী নারীদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে—নীরবতা ভাঙা এবং নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠার সাহসই হতে পারে মুক্তির প্রথম ধাপ।













