ছাতকে দু’শো টাকার জন্য ল ঙ্কা কাণ্ড!
- সময় : ১১:১৮:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
- / ৭ ভিউ
ছাতক উপজেলায় মাত্র ২০০ টাকা পাওনা নিয়ে বিরোধের জেরে এক যুবককে অপহরণ, আটকে রেখে নির্যাতন এবং তার মাকে ডেকে এনে মারধর ও কুপিয়ে আহত করার অভিযোগে অবশেষে থানায় মামলা রেকর্ড করেছে পুলিশ। এ ঘটনার ছয় দিন পর সোমবার (২ জুন) রাতে ছাতক থানায় চারজনকে অভিযুক্ত করে মামলাটি রেকর্ডভুক্ত করা হয়। মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের তকিপুর গ্রামের বাসিন্দা জাকারিয়ার সঙ্গে একই এলাকার প্রবাসী জুনাব আলীর স্ত্রী সুলতানা বেগমের প্রায় ২০০ টাকা পাওনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৭ মে রাতে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কের একটি স্থান থেকে জাকারিয়াকে কয়েকজন ব্যক্তি জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে কৌশলে তার মা কুলসুম বেগমকে সেখানে ডেকে আনা হয়। এরপর মা-ছেলেকে জিম্মি করে মারধর করা হয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এ সময় জাকারিয়ার কাছে থাকা নগদ দেড় লাখ টাকা এবং তার মায়ের গলায় থাকা প্রায় ১২ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি বিষয়টি থানা বা আদালতে নিয়ে গেলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজন আহত মা-ছেলেকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। অবস্থার অবনতি হলে তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় আহত জাকারিয়ার বাবা সেলিম উদ্দিন ২৯ মে ছাতক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে আবুল হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া সুলতানা বেগম, তার মেয়ে তানিয়া বেগম, মাসুমসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ৩০ মে বিকালে ছাতক থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ গোলাম সারোয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে স্থানীয় গ্রামবাসীর একটি অংশ দাবি করেছে, প্রবাসীর স্ত্রীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত কুপ্রস্তাব বা অনৈতিক আচরণের অভিযোগের সত্যতা তারা জানেন না। তবে ২০০ টাকা পাওনা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও মারামারির ঘটনা ঘটেছিল বলে তারা স্বীকার করেছেন। স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা ও গ্রামবাসী বলেন, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হলে জনমনে সৃষ্টি হওয়া বিভ্রান্তিও দূর হবে।
এব্যাপারে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২ জুন রাতে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। মামলার এখন তদন্ত চলছে। এদিকে ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। স্থানীয়রাও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।











