০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিলেটে ‘দানের টাকায়’ নির্বাচন করতে চান কোটিপতি প্রার্থীরা!

রিপোর্টার
  • সময় : ০৪:০৮:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৬৮ ভিউ

মোহাম্মদ শাহ্ দিদার আলম চৌধুরী-সিলেট জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ৩৯ জন। এর মধ্যে ৩৮ জনই বিভিন্ন দল মনোনীত। এই ৩৯ প্রার্থীর মধ্যে ২২ জনই কোটিপতি। স্থাবর ও অস্থাবর মিলে তাদের রয়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ। অনেকের স্ত্রীর নামেও রয়েছে কোটি টাকার উপরে সম্পদ। এরপরও এসব কোটিপতি প্রার্থীদের বেশিরভাগই নির্বাচন করতে চান ‘দানের টাকায়’।

পরিবারের দেশি-বিদেশি সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, পরিচিতজন ও দলীয় নেতাকর্মীদের কাছ থেকে দান-অনুদান নিয়ে কোটিপতি প্রার্থীরা নির্বাচনী ব্যয় মেটাতে চান। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। সিলেট-১ আসনে সবেচেয় বেশি সম্পদের মালিক বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তার সম্পদের পরিমাণ ৩৪ কোটি ৩৫ লাখ ৬৪ হাজার ৭৩০ টাকা। হলফনামায় তিনি সম্ভাব্য নির্বাচনী ব্যয় ধরেছেন ৫৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে নিজের আয় থেকে তিনি ব্যয় করবেন ২৫ লাখ টাকা। আর স্ত্রীর কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা, ভগ্নিপতি ও ভাগ্নের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা দান হিসেবে নিয়ে ব্যয় করবেন নির্বাচনে।

মুক্তাদিরের পরই সম্পদের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন। ৩ কোটি ৮০ লাখ ১১ হাজার ২৫ টাকার সম্পদের মালিক এ প্রার্থীর সম্ভাব্য নির্বাচনী ব্যয় মাত্র ৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে নিজের আয় থেকে ১ লাখ টাকা এবং দান হিসেবে মা ও চার ভাই ৩ লাখ টাকা ও দলীয় নেতাকর্মী ১ লাখ টাকা দেবেন।

ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী মো. শামীম মিয়ার সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৩৪ লাখ ৮৭০ টাকা। নির্বাচনে তিনি নিজের আয় থেকে কোন ব্যয় করবেন না। প্রবাসী ভাই ও ৬ বন্ধু ও পরিচিত আরও ১২ ব্যক্তির কাছ থেকে ২১ লাখ টাকা দান নিয়ে তিনি নির্বাচনে খরচ করবেন। জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমানের সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৭৪ লাখ ২৩ হাজার ৩০৩ টাকা। তিনি কোন দান-অনুদান নয়, নির্বাচনে নিজের আয় থেকে ব্যয় করবেন ৩০ লাখ টাকা।

সিলেট-২ আসনে ২ কোটি ৩৯ লাখ ৬৭ হাজার ৬৫৯ টাকার সম্পদের মালিক বিএনপি প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর (ইলিয়াসপত্মী) সম্ভাব্য নির্বাচনী ব্যয় ২০ লাখ টাকা। এর মধ্যে নিজের আয় থেকে ৫ লাখ টাকা, ভগ্নিপতির কাছ থেকে ঋণ ৫ লাখ টাকা ও দুই প্রবাসীর কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা দান নিয়ে ব্যয় করবেন।

খেলাফত মজলিসের মো. মুনতাসির আলীর সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ১৫ লাখ ৪০ হাজার ৬৩৪ টাকা। তিনি নিজের আয় থেকে ১০ লাখ ৫৫ হাজার টাকা, দুই বোনের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা ঋণ, দান হিসেবে দুই বোনের কাছ থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা এবং যুক্তরাজ্য ৩ প্রবাসীর কাছ থেকে ২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা নিয়ে নির্বাচনে ব্যয় করবেন।

জামায়াতের আব্দুল হান্নানের রয়েছে ১ কোটি ৬০ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৭ টাকার সম্পদ। তিনি নিজের আয় থেকে ১০ লাখ টাকা ও ইউকে ও ইউএসএ প্রবাসী  আত্মীয়দের কাছ থেকে ২৫ লাখ টাক দান নিয়ে নির্বাচন করবেন। জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান চৌধুরীর আছে ১ কোটি ৫ লাখ ৮২ হাজার টাকার সম্পদ। তিনি নিজের আয় থেকে ১ লাখ ও ছেলের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা দান নিয়ে নির্বাচন করতে চান।

সিলেট-৩ আসনের ৭ প্রার্থীর মধ্যে ৫ জনই কোটিপতি। ৫ কোটি ৭৯ লাখ ১ হাজার ৫৩৩ টাকার সম্পদের মালিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুছলেহ উদ্দিন রাজুর সম্পূর্ণ নিজের আয় থেকে ৫৯ লাখ ১ হাজার ৫৩৩ টাকা নির্বাচনে ব্যয় করতে চান।  জাপা প্রার্থী আতিকুর রহমানের ৪ কোটি ৬৬ লাখ ৪৯ হাজার ৮৩৩ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। তিনিও নিজস্ব আয় থেকে ২০ লাখ টাকা ব্যয় করবেন।বিএনপির মো. আবদুল মালিকের ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে। তিনি নিজের আয় থেকে ২০ লাখ টাকা ও ছেলের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা দান নিয়ে ব্যয় করবেন।

খেলাফত মজলিসের দিলওয়ার হোসাইনের ৩ কোটি ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৯২ টাকার সম্পদ রয়েছে। তাঁর সম্ভাব্য ব্যয়ের ২৫ লাখ টাকার মধ্যে নিজস্ব আয় থেকে ১৫ লাখ ও ৫ জন প্রবাসী আত্মীয়ের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা দান গ্রহণ করবেন।

জামায়াতের লোকমান আহমদের সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৫৬ লাখ ৮২ হাজার ১৯২ টাকা। নির্বাচনে তিনি নিজস্ব আয় থেকে ১০ লাখ টাকা, প্রবাসী আত্মীয় ও পরিচিতজনদের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা দান গ্রহণ করে ব্যয় করবেন।

সিলেট-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর ১৯ কোটি ৫৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৬৬ টাকার সম্পদ রয়েছে। তার সম্ভাব্য ব্যয় ৩৫ লাখ টাকার পুরোটাই তিনি ব্যয় করবেন নিজস্ব আয় থেকে। এনসিপির মো. রাশেদ উল আলমের ২ কোটি ৭৫ লাখ ৮৫ হাজার ৯৩৫ টাকার সম্পদ রয়েছে। তিনি নিজস্ব আয় থেকে ২৫ লাখ টাকা ও মায়ের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ব্যয় করবেন। জামায়াতের জয়নাল আবেদীনের ১ কোটি ১৮ লাখ ৯৭ হাজার ৯৭৬ টাকার সম্পদ রয়েছে। তিনি নিজের আয় থেকে ২০ লাখ টাকা ও বাবার কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে নির্বাচনে ব্যয় করবেন।

সিলেট-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপির বিদ্রোহী) মামুনুর রশিদের ১ কোটি ২২ লাখ ৫৫ হাজার ২৯৪ টাকার সম্পদ থাকলেও তিনি নিজের আয় থেকে নির্বাচনে কোন ব্যয় করবেন না। চিকিৎসক ভাইয়ের কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা দান নিয়ে খরচ করতে চান তিনি। একই আসনে জমিয়তের মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকের সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ২২ হাজার টাকা। তিনি নিজের আয় থেকে ২ লাখ টাকা, প্রবাসী মেয়ে ও ভাতিজাদের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা দান নিয়ে নির্বাচন করতে চান।

সিলেট-৬ আসনে ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪ জনই কোটিপতি। ৫২ কোটি ৭৩ লাখ ৯৩ হাজার ৫৭৫ টাকার সম্পদের মালিক গণঅধিকার পরিষদের জাহিদুর রহমান নিজস্ব আয় থেকে ২৫ লাখ টাকা খরচ করতে চান। বিএনপির ফয়সল আহমদ চৌধুরীর ১১ কোটি ১৬ লাখ ২১ হাজার ৯০২ টাকা ও একই দলের প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরীর ১ কোটি ৫ লাখ ৫০ হাজার ৮১০ টাকা ও জামায়াতের মো. সেলিম উদ্দিনের সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ২৫ লাখ ৬৬ হাজার ১২৪ টাকা।

এর মধ্যে ফয়সল আহমদ চৌধুরী নিজের আয় থেকে ৫০ লাখ ও ভাই-বোনদের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা দান নিয়ে খরচ করবেন। এমরান আহমদ চৌধুরী নিজের আয় থেকে ১৫ লাখ টাকা ও প্রবাসী আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা দান নিয়ে ব্যয় করবেন নির্বাচনে। আর মো. সেলিম উদ্দিন নিজের আয় থেকে ১৫ লাখ ৬৩ হাজার টাকা ও সাড়ে ৮ লাখ টাকা দান নিয়ে নির্বাচনে ব্যয় করবেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সিলেটে ‘দানের টাকায়’ নির্বাচন করতে চান কোটিপতি প্রার্থীরা!

সময় : ০৪:০৮:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

মোহাম্মদ শাহ্ দিদার আলম চৌধুরী-সিলেট জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ৩৯ জন। এর মধ্যে ৩৮ জনই বিভিন্ন দল মনোনীত। এই ৩৯ প্রার্থীর মধ্যে ২২ জনই কোটিপতি। স্থাবর ও অস্থাবর মিলে তাদের রয়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ। অনেকের স্ত্রীর নামেও রয়েছে কোটি টাকার উপরে সম্পদ। এরপরও এসব কোটিপতি প্রার্থীদের বেশিরভাগই নির্বাচন করতে চান ‘দানের টাকায়’।

পরিবারের দেশি-বিদেশি সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, পরিচিতজন ও দলীয় নেতাকর্মীদের কাছ থেকে দান-অনুদান নিয়ে কোটিপতি প্রার্থীরা নির্বাচনী ব্যয় মেটাতে চান। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। সিলেট-১ আসনে সবেচেয় বেশি সম্পদের মালিক বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তার সম্পদের পরিমাণ ৩৪ কোটি ৩৫ লাখ ৬৪ হাজার ৭৩০ টাকা। হলফনামায় তিনি সম্ভাব্য নির্বাচনী ব্যয় ধরেছেন ৫৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে নিজের আয় থেকে তিনি ব্যয় করবেন ২৫ লাখ টাকা। আর স্ত্রীর কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা, ভগ্নিপতি ও ভাগ্নের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা দান হিসেবে নিয়ে ব্যয় করবেন নির্বাচনে।

মুক্তাদিরের পরই সম্পদের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন। ৩ কোটি ৮০ লাখ ১১ হাজার ২৫ টাকার সম্পদের মালিক এ প্রার্থীর সম্ভাব্য নির্বাচনী ব্যয় মাত্র ৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে নিজের আয় থেকে ১ লাখ টাকা এবং দান হিসেবে মা ও চার ভাই ৩ লাখ টাকা ও দলীয় নেতাকর্মী ১ লাখ টাকা দেবেন।

ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী মো. শামীম মিয়ার সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৩৪ লাখ ৮৭০ টাকা। নির্বাচনে তিনি নিজের আয় থেকে কোন ব্যয় করবেন না। প্রবাসী ভাই ও ৬ বন্ধু ও পরিচিত আরও ১২ ব্যক্তির কাছ থেকে ২১ লাখ টাকা দান নিয়ে তিনি নির্বাচনে খরচ করবেন। জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমানের সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৭৪ লাখ ২৩ হাজার ৩০৩ টাকা। তিনি কোন দান-অনুদান নয়, নির্বাচনে নিজের আয় থেকে ব্যয় করবেন ৩০ লাখ টাকা।

সিলেট-২ আসনে ২ কোটি ৩৯ লাখ ৬৭ হাজার ৬৫৯ টাকার সম্পদের মালিক বিএনপি প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর (ইলিয়াসপত্মী) সম্ভাব্য নির্বাচনী ব্যয় ২০ লাখ টাকা। এর মধ্যে নিজের আয় থেকে ৫ লাখ টাকা, ভগ্নিপতির কাছ থেকে ঋণ ৫ লাখ টাকা ও দুই প্রবাসীর কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা দান নিয়ে ব্যয় করবেন।

খেলাফত মজলিসের মো. মুনতাসির আলীর সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ১৫ লাখ ৪০ হাজার ৬৩৪ টাকা। তিনি নিজের আয় থেকে ১০ লাখ ৫৫ হাজার টাকা, দুই বোনের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা ঋণ, দান হিসেবে দুই বোনের কাছ থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা এবং যুক্তরাজ্য ৩ প্রবাসীর কাছ থেকে ২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা নিয়ে নির্বাচনে ব্যয় করবেন।

জামায়াতের আব্দুল হান্নানের রয়েছে ১ কোটি ৬০ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৭ টাকার সম্পদ। তিনি নিজের আয় থেকে ১০ লাখ টাকা ও ইউকে ও ইউএসএ প্রবাসী  আত্মীয়দের কাছ থেকে ২৫ লাখ টাক দান নিয়ে নির্বাচন করবেন। জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান চৌধুরীর আছে ১ কোটি ৫ লাখ ৮২ হাজার টাকার সম্পদ। তিনি নিজের আয় থেকে ১ লাখ ও ছেলের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা দান নিয়ে নির্বাচন করতে চান।

সিলেট-৩ আসনের ৭ প্রার্থীর মধ্যে ৫ জনই কোটিপতি। ৫ কোটি ৭৯ লাখ ১ হাজার ৫৩৩ টাকার সম্পদের মালিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুছলেহ উদ্দিন রাজুর সম্পূর্ণ নিজের আয় থেকে ৫৯ লাখ ১ হাজার ৫৩৩ টাকা নির্বাচনে ব্যয় করতে চান।  জাপা প্রার্থী আতিকুর রহমানের ৪ কোটি ৬৬ লাখ ৪৯ হাজার ৮৩৩ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। তিনিও নিজস্ব আয় থেকে ২০ লাখ টাকা ব্যয় করবেন।বিএনপির মো. আবদুল মালিকের ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে। তিনি নিজের আয় থেকে ২০ লাখ টাকা ও ছেলের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা দান নিয়ে ব্যয় করবেন।

খেলাফত মজলিসের দিলওয়ার হোসাইনের ৩ কোটি ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৯২ টাকার সম্পদ রয়েছে। তাঁর সম্ভাব্য ব্যয়ের ২৫ লাখ টাকার মধ্যে নিজস্ব আয় থেকে ১৫ লাখ ও ৫ জন প্রবাসী আত্মীয়ের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা দান গ্রহণ করবেন।

জামায়াতের লোকমান আহমদের সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৫৬ লাখ ৮২ হাজার ১৯২ টাকা। নির্বাচনে তিনি নিজস্ব আয় থেকে ১০ লাখ টাকা, প্রবাসী আত্মীয় ও পরিচিতজনদের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা দান গ্রহণ করে ব্যয় করবেন।

সিলেট-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর ১৯ কোটি ৫৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৬৬ টাকার সম্পদ রয়েছে। তার সম্ভাব্য ব্যয় ৩৫ লাখ টাকার পুরোটাই তিনি ব্যয় করবেন নিজস্ব আয় থেকে। এনসিপির মো. রাশেদ উল আলমের ২ কোটি ৭৫ লাখ ৮৫ হাজার ৯৩৫ টাকার সম্পদ রয়েছে। তিনি নিজস্ব আয় থেকে ২৫ লাখ টাকা ও মায়ের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ব্যয় করবেন। জামায়াতের জয়নাল আবেদীনের ১ কোটি ১৮ লাখ ৯৭ হাজার ৯৭৬ টাকার সম্পদ রয়েছে। তিনি নিজের আয় থেকে ২০ লাখ টাকা ও বাবার কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে নির্বাচনে ব্যয় করবেন।

সিলেট-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপির বিদ্রোহী) মামুনুর রশিদের ১ কোটি ২২ লাখ ৫৫ হাজার ২৯৪ টাকার সম্পদ থাকলেও তিনি নিজের আয় থেকে নির্বাচনে কোন ব্যয় করবেন না। চিকিৎসক ভাইয়ের কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা দান নিয়ে খরচ করতে চান তিনি। একই আসনে জমিয়তের মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকের সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ২২ হাজার টাকা। তিনি নিজের আয় থেকে ২ লাখ টাকা, প্রবাসী মেয়ে ও ভাতিজাদের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা দান নিয়ে নির্বাচন করতে চান।

সিলেট-৬ আসনে ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪ জনই কোটিপতি। ৫২ কোটি ৭৩ লাখ ৯৩ হাজার ৫৭৫ টাকার সম্পদের মালিক গণঅধিকার পরিষদের জাহিদুর রহমান নিজস্ব আয় থেকে ২৫ লাখ টাকা খরচ করতে চান। বিএনপির ফয়সল আহমদ চৌধুরীর ১১ কোটি ১৬ লাখ ২১ হাজার ৯০২ টাকা ও একই দলের প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরীর ১ কোটি ৫ লাখ ৫০ হাজার ৮১০ টাকা ও জামায়াতের মো. সেলিম উদ্দিনের সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ২৫ লাখ ৬৬ হাজার ১২৪ টাকা।

এর মধ্যে ফয়সল আহমদ চৌধুরী নিজের আয় থেকে ৫০ লাখ ও ভাই-বোনদের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা দান নিয়ে খরচ করবেন। এমরান আহমদ চৌধুরী নিজের আয় থেকে ১৫ লাখ টাকা ও প্রবাসী আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা দান নিয়ে ব্যয় করবেন নির্বাচনে। আর মো. সেলিম উদ্দিন নিজের আয় থেকে ১৫ লাখ ৬৩ হাজার টাকা ও সাড়ে ৮ লাখ টাকা দান নিয়ে নির্বাচনে ব্যয় করবেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।