রহস্যেই থাকল ১৩০০ খুন
- সময় : ০২:৪০:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ৫৭ ভিউ
মাহবুব মমতাজী :: প্রায় ৯ বছর আগে রাজধানীর রামপুরায় মহানগর আবাসিক এলাকার নিজ বাসায় খুন হন আইনজীবী ফাহমিদা আক্তার মিথুন। লাশ পড়ে থাকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায়। সাক্ষী না পাওয়ায় খুনিদের চিহ্নিত করা যায়নি বলে আদালতকে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। রাজধানীতে ঘটা ১১টির বেশি চাঞ্চল্যকর খুনের ক্লু বের করতে পারেননি তদন্তসংশ্লিষ্টরা।
এর মধ্যে পাঁচটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ১০ বছরে সারা দেশে ১ হাজার ৩০০টির বেশি খুনের রহস্য উদ্্ঘাটন করতে না পেরে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে সিআইডি। আইনজীবী ফাহমিদা আক্তার মিথুন হত্যায় ২০২১ সালের ২৬ এপ্রিল চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। মামলাটির তদন্ত করেছিলেন পরিদর্শক নুরুন্নবী।
বিশিষ্ট সুরকার ও গীতিকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের ছোট ভাই মিরাজ আহমেদ খুন হন ২০১৩ সালের ৯ মার্চ। রাজধানীর খিলক্ষেত কুড়িল বিশ্বরোডের রেললাইনের পাশ থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। রহস্য উদ্্ঘাটনের জন্য তদন্তভার দেওয়া হয় ডিবিকে (গোয়েন্দা পুলিশ)। এরপর তদন্ত ন্যস্ত হয় সিআইডির কাছে।
ক্লু না পেয়ে ২০১৫ সালের ৩১ আগস্ট আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন সিআইডির তৎকালীন পরিদর্শক রেজাউল করিম। তিনি বর্তমানে সহকারী পুলিশ সুপার। সে সময় তিনি বলেন, ‘আমরা কিছু পাইনি। তাই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছি। পরবর্তী সময়ে কোনো ক্লু বের হলে আবার তদন্ত শুরু করা যাবে।’
২০১৫ সালের ১৩ মে পল্লবীতে নিজের ফ্ল্যাটে খুন হন গৃহবধূ সুইটি আক্তার ও তাঁর মামা আমিনুল ইসলাম। প্রথমে মামলাটি তদন্ত করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তিন বছর পর তদন্তভার দেওয়া হয় সিআইডিকে। খুনিদের খুঁজে না পেয়ে গত বছরের ১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সংস্থাটি। এরপর আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) পুনরায় তদন্তের জন্য পাঠায়। ওই মামলার সিআইডির তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা রতন কৃষ্ণ নাথ জানান, তদন্তের সময় থানা-পুলিশ ও ডিবি আলামত সুষ্ঠুভাবে সংগ্রহ করলে খুনিদের পাওয়া যেত।
পিবিআইর তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আবদুস সালাম বলেন, ‘আমরা অনেক চেষ্টা করেছি রহস্য বের করার। কোনো কিছু না পেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়।’ ২০১৬ সালের ৯ নভেম্বর মগবাজারের মধুবাগে বাসার ভিতর থেকে ডলি রানী বণিক নামে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়। ১৬ নভেম্বর রমনা থানায় হত্যা মামলা হয়। তদন্ত করে রহস্য বের করতে পারেনি পুলিশ।
২০১২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর হাজারীবাগের বাসায় ১২ বছরের স্কুলছাত্রী তাসনিম রহমান করবীকে শ্বাসরোধ ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। দীর্ঘ সময় তদন্ত শেষে গত বছরের ২৫ এপ্রিল আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক ময়নুল ইসলাম। করবীর মা আফরোজা ফারহানা আহম্মেদ এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘সিআইডিতে মামলাটি ছিল পাঁচ বছর। সবার আগ্রহ ছিল খুনিদের চিহ্নিত করার। হয়তো আল্লাহ আমার ভাগ্যে রাখেননি। আমার বিশ্বাস, আল্লাহ আমাকে এর বিচার কোনো না কোনোভাবে দেখাবেন। ’
২০১৪ সালের ২৭ আগস্ট পূর্ব রাজাবাজারে নিজ বাসায় খুন হন টেলিভিশনে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের উপস্থাপক মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে অন্তত পাঁচবার। এখনো রহস্য উদ্্ঘাটন করতে পারেনি সিআইডি। ২০১৩ সালের ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর গোপীবাগের বাসায় লুৎফর রহমান ফারুকসহ ছয়জনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় মামলা হয় ওয়ারী থানায়। সেই মামলার তদন্ত প্রায় ১১ বছরেও শেষ হয়নি।
আরও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২০ নভেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী আবু বকর আবুর লাশ পাওয়া যায় রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদে। ২২ নভেম্বর রাতে কেরানীগঞ্জ থানার ফেসবুক পেজে লাশটি দেখে তা শনাক্ত করেন তাঁর ভাতিজা হুমায়ূন কবির। এখনো আবু হত্যার ক্লু বের করতে পারেনি তদন্ত সংস্থা। খুনের রহস্য উদ্্ঘাটনে কাজ করে পিবিআইর ঢাকা ও যশোর জেলা।সৌজন্যে : বাংলাদেশ প্রতিদিন




















