০৯:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জ-৩ আসনে মামলা জটে আটকে আছে প্রার্থীদের ভাগ্য

রিপোর্টার
  • সময় : ০৪:১৮:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৫২ ভিউ

জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-৩ আসনটি জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী আসন। এ আসনে এবার জেলার সর্বোচ্চ সংখ্যক ৯ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। গত ৩রা জানুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইকালে চারজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এবং পাঁচজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ এনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। এসব ঘটনায় নির্বাচন কমিশনে সাতটি আপিল মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে চারটি আপিল মামলা ও কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মনোনয়ন ফিরে পেতে আরও তিনটি মামলা দায়ের হয়।

সাতটি মামলাই শুনানির জন্য ধার্য রয়েছে। শুনানিতে কী হচ্ছে প্রার্থীদের ভাগ্যে এ নিয়ে নির্বাচনী এলাকায় ভোটার প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে চলছে সরব আলোচনা। প্রার্থীরাও মাঠে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগের সময় বাদ দিয়ে মামলার পেছনে ঘুরছেন। তবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কয়ছর আহমেদ দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ অস্বীকার করায় তার কর্মী সমর্থকরা এ বিষয় গুরুত্ব দিচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী কয়ছর এম আহমেদকে দ্বৈত নাগরিক উল্লেখ করে হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ এনে তার মনোনয়ন বাতিলের জন্য বিএনপি’র মনোনয়ন বঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন নির্বাচন কমিশনে গত ৮ই জানুয়ারি আপিল মোকদ্দমা ৪৩১ দায়ের করেন। একই অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ইয়াসীন খান আপিল মোকদ্দমা ৫৪১ দায়ের করেন। অপরদিকে, কয়ছর এম আহমেদ স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ এনে আপিল ৫৮০ মোকদ্দমা দায়ের করেন।

একই অভিযোগে স্বতন্ত্র প্রার্থী হুসাইন আহমেদ ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে আপিল ৪৯৮ মোকদ্দমা দায়ের করেন। এ ছাড়া, মনোনয়ন ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশন ইসি’র বিরুদ্ধে আমার বাংলাদেশ এবি পার্টির প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম আপিল মোকদ্দমা ৪৩৯ দায়ের করেছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হুসাইন আহমেদ নির্বাচন কমিশন ইসি’র বিরুদ্ধে আপিল মোকদ্দমা ৪৭৮ দায়ের করেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহফুজুর রহমান খালেদ নির্বাচন কমিশন ইসি’র বিরুদ্ধে মনোনয়ন ফিরে পেতে আপিল মোকদ্দমা ৫৬৬ দায়ের করেছেন।

সাতটি আপিল মামলার জটে পড়েছেন এ আসনের পাঁচজন সংসদ সদস্য প্রার্থী। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কয়ছর এম আহমেদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেনের মধ্যে দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে লড়াই চলছে। দুই জনই যুক্তরাজ্যে বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং মাঠে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে পরিচিত। তাদের সমর্থকদের মধ্যে এ নিয়ে চলছে টান টান চাপা উত্তেজনা।

যদিও দুই প্রার্থীই এ বিষয়ে তাদের সমর্থকদের মনোনয়ন বৈধতা অক্ষুণ্ন্ন থাকার অভয় দিচ্ছেন। অপর তিনজনের মধ্যে এবি পার্টির প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম, স্বতন্ত্র প্রার্থী হুসাইন আহমেদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহফুজুর রহমান খালেদ মনোনয়ন ফিরে পেতে মামলা করছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ আলী মনোনয়ন বাতিলের পর ফিরে পেতে আপিল করেননি। মনোনয়ন সংক্রান্ত মামলা জট থেকে নিরাপদে আছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা শাহীনুুর পাশা চৌধুরী, খেলাফত মজলিস প্রার্থী যুক্তরাজ্য প্রবাসী মুশতাক আহমেদ ও বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট ইয়াসীন খান।

তাদের প্রার্থিতা নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই। এডভোকেট ইয়াসীন খান বলেন, নির্বাচনী বিধি মোতাবেক প্রার্থীদের নির্বাচনী হলফনামার সব তথ্য সঠিক থাকবে। এখানে ভুল তথ্য, মিথ্যা তথ্য দেয়ার সুযোগ নেই। এটা নিশ্চিতের জন্য মূলত আমি আপিল করেছি। আমি নির্বাচিত হলে এ বিষয়টি নিশ্চিতে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখবো। জগন্নাথপুর উপজেলা নাগরিক অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক এম এ কাদির বলেন, এ আসনের প্রার্থীদের কাছে মানুষের প্রত্যাশা বেশি। কিন্তু প্রার্থীরা যদি ভুল তথ্য দিয়ে ভোটারদের বিভ্রান্ত করেন তা হবে দুঃখজনক।

 তিনি বলেন, আমরা সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা ও সৌহার্দ্য সম্পর্ক বজায় রেখে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখতে চাই। একে অন্যের বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাতিলের মতো অভিযোগ পাল্টা অভিযোগসহ মামলা জট আমাদের কাছে কাম্য ছিল না। উল্লেখ্য, নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী ১৮ই জানুয়ারি আপিল মোকদ্দমা নিষ্পত্তির শেষ দিন। ২০শে জানুয়ারি প্রত্যাহার, ২১শে জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ ও ১২ই ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণ হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সুনামগঞ্জ-৩ আসনে মামলা জটে আটকে আছে প্রার্থীদের ভাগ্য

সময় : ০৪:১৮:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-৩ আসনটি জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী আসন। এ আসনে এবার জেলার সর্বোচ্চ সংখ্যক ৯ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। গত ৩রা জানুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইকালে চারজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এবং পাঁচজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ এনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। এসব ঘটনায় নির্বাচন কমিশনে সাতটি আপিল মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে চারটি আপিল মামলা ও কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মনোনয়ন ফিরে পেতে আরও তিনটি মামলা দায়ের হয়।

সাতটি মামলাই শুনানির জন্য ধার্য রয়েছে। শুনানিতে কী হচ্ছে প্রার্থীদের ভাগ্যে এ নিয়ে নির্বাচনী এলাকায় ভোটার প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে চলছে সরব আলোচনা। প্রার্থীরাও মাঠে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগের সময় বাদ দিয়ে মামলার পেছনে ঘুরছেন। তবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কয়ছর আহমেদ দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ অস্বীকার করায় তার কর্মী সমর্থকরা এ বিষয় গুরুত্ব দিচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী কয়ছর এম আহমেদকে দ্বৈত নাগরিক উল্লেখ করে হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ এনে তার মনোনয়ন বাতিলের জন্য বিএনপি’র মনোনয়ন বঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন নির্বাচন কমিশনে গত ৮ই জানুয়ারি আপিল মোকদ্দমা ৪৩১ দায়ের করেন। একই অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ইয়াসীন খান আপিল মোকদ্দমা ৫৪১ দায়ের করেন। অপরদিকে, কয়ছর এম আহমেদ স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ এনে আপিল ৫৮০ মোকদ্দমা দায়ের করেন।

একই অভিযোগে স্বতন্ত্র প্রার্থী হুসাইন আহমেদ ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে আপিল ৪৯৮ মোকদ্দমা দায়ের করেন। এ ছাড়া, মনোনয়ন ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশন ইসি’র বিরুদ্ধে আমার বাংলাদেশ এবি পার্টির প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম আপিল মোকদ্দমা ৪৩৯ দায়ের করেছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হুসাইন আহমেদ নির্বাচন কমিশন ইসি’র বিরুদ্ধে আপিল মোকদ্দমা ৪৭৮ দায়ের করেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহফুজুর রহমান খালেদ নির্বাচন কমিশন ইসি’র বিরুদ্ধে মনোনয়ন ফিরে পেতে আপিল মোকদ্দমা ৫৬৬ দায়ের করেছেন।

সাতটি আপিল মামলার জটে পড়েছেন এ আসনের পাঁচজন সংসদ সদস্য প্রার্থী। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কয়ছর এম আহমেদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেনের মধ্যে দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে লড়াই চলছে। দুই জনই যুক্তরাজ্যে বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং মাঠে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে পরিচিত। তাদের সমর্থকদের মধ্যে এ নিয়ে চলছে টান টান চাপা উত্তেজনা।

যদিও দুই প্রার্থীই এ বিষয়ে তাদের সমর্থকদের মনোনয়ন বৈধতা অক্ষুণ্ন্ন থাকার অভয় দিচ্ছেন। অপর তিনজনের মধ্যে এবি পার্টির প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম, স্বতন্ত্র প্রার্থী হুসাইন আহমেদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহফুজুর রহমান খালেদ মনোনয়ন ফিরে পেতে মামলা করছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ আলী মনোনয়ন বাতিলের পর ফিরে পেতে আপিল করেননি। মনোনয়ন সংক্রান্ত মামলা জট থেকে নিরাপদে আছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা শাহীনুুর পাশা চৌধুরী, খেলাফত মজলিস প্রার্থী যুক্তরাজ্য প্রবাসী মুশতাক আহমেদ ও বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট ইয়াসীন খান।

তাদের প্রার্থিতা নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই। এডভোকেট ইয়াসীন খান বলেন, নির্বাচনী বিধি মোতাবেক প্রার্থীদের নির্বাচনী হলফনামার সব তথ্য সঠিক থাকবে। এখানে ভুল তথ্য, মিথ্যা তথ্য দেয়ার সুযোগ নেই। এটা নিশ্চিতের জন্য মূলত আমি আপিল করেছি। আমি নির্বাচিত হলে এ বিষয়টি নিশ্চিতে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখবো। জগন্নাথপুর উপজেলা নাগরিক অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক এম এ কাদির বলেন, এ আসনের প্রার্থীদের কাছে মানুষের প্রত্যাশা বেশি। কিন্তু প্রার্থীরা যদি ভুল তথ্য দিয়ে ভোটারদের বিভ্রান্ত করেন তা হবে দুঃখজনক।

 তিনি বলেন, আমরা সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা ও সৌহার্দ্য সম্পর্ক বজায় রেখে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখতে চাই। একে অন্যের বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাতিলের মতো অভিযোগ পাল্টা অভিযোগসহ মামলা জট আমাদের কাছে কাম্য ছিল না। উল্লেখ্য, নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী ১৮ই জানুয়ারি আপিল মোকদ্দমা নিষ্পত্তির শেষ দিন। ২০শে জানুয়ারি প্রত্যাহার, ২১শে জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ ও ১২ই ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণ হবে।