বিদ্রোহীতে ভয় বিএনপির, জোটেও অস্বস্তিবিদ্রোহীতে ভয় বিএনপির, জোটেও অস্বস্তি
- সময় : ০৫:৪৩:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৫৯ ভিউ
সিলেটে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে অস্বস্থিতে পড়েছে বিএনপি। কিছুতেই বাগে আনা যাচ্ছে না বিদ্রোহীদের। এতে বিএনপি নেতৃত্বাধিন জোটেও দেখা দিয়েছে দুরত্ব-অবিশ্বাস। সিলেট বিভাগে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া বিদ্রোহীদের সাথে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানও বৈঠক করেছেন। তারেক রহমানের অনুরোধ সত্ত্বেও মনোনয়ন প্রত্যাহারে রাজী হননি অনেক বিদ্রোহী। সিলেট বিভাগের অন্তত ৪টি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এসব আসনে দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের শক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার শঙ্কা রয়েছেন বিএনপি ও তাদের জোটের প্রার্থীর।
জানা গেছে, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন নেতা স্থানীয়ভাবে বেশ জনপ্রিয়। এতে আগামী নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীকে ভোট দেওয়া নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিলেট সফরে আগেই দলের এসব বিদ্রোহী প্রার্থীকে নিয়ে একটা সুরাহার প্রত্যাশা জানিয়েছেন বিএনপি ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের নেতারা।
সিলেট-৫ : সমঝোতার অংশ হিসেবে সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনটি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুককে ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। এ আসনে দীর্ঘদিনের মনোনয়নপ্রত্যাশী, জেলা বিএনপির প্রথম সহসভাপতি মামুনুর রশীদ (চাকসু মামুন) বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করায় তাঁকে ইতোমধ্যে বহিষ্কারও করা হয়েছে। এতে মামুন থমকে না গিয়ে নির্বাচনী প্রচারে গতি আরও বাড়িয়েছেন।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, বিএনপি জোটের মনোনীত প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক একজন হেভিওয়েট প্রার্থী। কানাইঘাট-জকিগঞ্জের অধিকাংশ মানুষ ধর্মপ্রাণ ও আলেম-উলামানির্ভর। সে হিসেবে মাওলানা উবাদুল্লাহ সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া তাঁর সঙ্গে উপজেলা বিএনপির নেতারাও প্রচারে আছেন।
অপরদিকে বিএনপির একটি অংশের ভাষ্য, এ আসনে মামুনুর রশীদ দীর্ঘদিন ধরে গণসংযোগ, উন্নয়ন ও সামাজিক কাজ করছেন। এ কারণে তিনি এলাকায় বেশ জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তৃণমূল বিএনপিতে তাঁর শক্ত অবস্থান ও গ্রহণযোগ্যতা আছে। অতীতে এ আসনটিতে অনেক স্বতন্ত্র প্রার্থীর জয়ী হওয়ার রেকর্ড রয়েছে। বহিষ্কার হওয়া বিএনপি নেতা মামুনুর রশীদ মামুন বলেন, ‘আমি নির্বাচন করব। এখন আর নির্বাচন না করার কোনো সুযোগ নেই।’
হবিগঞ্জ-১ : সিলেট বিভাগে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইস্যুতে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসন। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া। তাঁর বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত শেখ সুজাত মিয়া। রেজা কিবরিয়া এর আগে ২০১৮ সালের নির্বাচনেও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সে সময় ধানের শীষ চেয়ে বঞ্চিত হয়েছিলেন শেখ সুজাত। এবারও দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ সুজাত নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন না বলে জানিয়েছেন। তাঁর ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন, শেখ সুজাত দলের চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করেছেন। তিনি নির্বাচন করবেন। ভোটের মাঠে শেখ সুজাতের শক্ত অবস্থান থাকায় তাঁর প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে বিএনপি নেতাকর্মীদের।
মৌলভীবাজার-৪ : মৌলভীবাজার-৪ আসনে বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুজিবুর রহমানকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে। তবে স্থানীয়ভাবে আলোচিত শ্রীমঙ্গল পৌরসভার পাঁচবারের মেয়র মহসিন মিয়া মধু। তিনি জেলা বিএনপির সদস্য। মধু দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় এবং জনপ্রিয় নেতা। পৌর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, মধু বিএনপি প্রার্থীর সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেন। তাঁর জনপ্রিয়তার কারণে দলীয় প্রার্থী মুজিবুর রহমানকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হবে ধারণা করছেন বিএনপি নেতারা। নির্বাচন থেকে সরবেন না জানিয়ে মহসিন মিয়া মধু বলেন, ‘জনগণ আমার পাশে আছে। তারা আমাকে ভালোবাসে। তাদের কারণেই নির্বাচনে থাকতে হচ্ছে।’
সুনামগঞ্জ-৪ : তারেক রহমানের নির্দেশে সুনামগঞ্জ-৫ আসনের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান। তবে সুনামগঞ্জ-৪ (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) আসনে দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন এখনও অনড় অবস্থানে রয়েছেন। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল। এ ব্যাপারে দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন বলেন, ‘আমি সুনামগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলাম, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলাম। আমি এই এলাকার অনেক উন্নয়ন করেছি। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত সাধারণ মানুষের সঙ্গে থাকতে চাই। এ কারণে এলাকাবাসীর সমর্থনেই প্রার্থী থাকতে হচ্ছে।’
জানা গেছে, দলীয় ও জোটের মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের পাশাপাশি বিদ্রোহী প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয় থাকায় নির্বাচনী সমীকরণ জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ৪টি আসনে বিএনপির প্রার্থীদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় স্বতন্ত্র এসব প্রার্থী। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিকে গৌছ বলেন, ‘আমরা এখনও হতাশ নই। বিদ্রোহীদের সাথে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান কথা বলেছেন। অনেকেই সরে দাঁড়াবেন বলে জানিয়েছেন। যদি কেউ না সরেন তাহলে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে দলের স্বার্থে তারা সরে দাঁড়াবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।











