হাওরের জলাবদ্ধতা কমাতে প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বাঁধ কর্তন!
- সময় : ০১:০৩:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
- / ৮ ভিউ
অবশেষে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা ভেঙে ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের টঙ্গী ফসলরক্ষা বাঁধ কেটে দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা। শুক্রবার দুপুরে ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ও মধ্যনগর উপজেলার চামরদানি ইউনিয়নের কৃষকেরা টগার হাওরের জলাবদ্ধতা কমাতে প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বাঁধটি কেটে দেন। এতে করে টগার হাওর থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে বাঁধটি কেটে দেওয়ায় বাইরের পানি হাওরে প্রবেশ ঠেকাতে বেগ পোহাতে হবে বলে ধারণা করছে পাউবো। আর বাঁধ কাটার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। ওইদিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধিসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায়, ধর্মপাশা থানার ওসি মোহাম্মদ সহিদ উল্যা ও পাউবোর উপ—সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম ওই বাঁধটি পরিদর্শন করেছেন।
এবার ধর্মপাশা উপজেলায় ১৮ হাজার ২৯০ হেক্টর ও মধ্যনগর উপজেলায় ১৩ হাজার ৬২০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষাবাদ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার ৬৫৫ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। টগার হাওরে ২ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। এ হাওরে ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের কৃষক বোরো আবাদ করেন। বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে টগার হাওরের ১৮০ হেক্টরেরও বেশি জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে শুরু থেকে এ হাওরের পানি নিষ্কাশনের জন্য কাইল্যানি হাওরের ৫৯ নম্বর প্রকল্পের অধীনে টঙ্গীর বাঁধ কেটে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়ে আসছিলেন কৃষকেরা। কিন্তু বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশন করা হলে বাইরের পানি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হতে পারে। আর প্রশাসনিকভাবে বাঁধ কাটায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় কৃষকেরা চাইলেও এমন উদ্যোগ নিতে পারেননি। কিন্তু জলাবদ্ধতায় কৃষকের ফসলে পচন ধরেছে। তাই গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মাইকিং করে বাঁধ কাটার জন্য কৃষকদের আহ্বান জানানো হয়। এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে হাজারও কৃষক শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে টঙ্গীর বাঁধ কাটা শুরু করেন। এ সময় পুলিশ সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
কাইল্যানি হাওরের ৫৯ নম্বর প্রকল্পের সভাপতি সবক্ত গীণ বলেন, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মাইকিং করে লোকজনকে বাঁধে এসে তা কেটে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে পাইকুরাটি ও চামরদানি ইউনিয়নের হাজারও কৃষক জড়ো হয়ে বাঁধটি কাটা শুরু করেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিক জেলা প্রশাসক, ইউএনও ও পাউবোর কর্মকর্তাকে অবগত করি এবং কৃষকদের বাঁধ কাটতে নিষেধ করি। কিন্তু কেউ তা শুনেনি।
ধর্মপাশা উপজেলার দায়িত্বে থাকা সুনামগঞ্জ পাউবোর উপ—সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সুমেশ^রী ও বৌলাই নদী সংযোগ স্থল এটি। নদীতে পানির চাপ বাড়লে বাঁধের কেটে দেওয়া অংশ মেরামত করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। বাঁধটি কাটা উচিত হয়নি।ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় বলেন, বাঁধটি পরিদর্শন করেছি। প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়া বাঁধটি কাটা হয়েছে। যে বা যারা এর সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




















