বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ায় গায়িকাকে কানাডা থেকে এসে হত্যা
- সময় : ১১:২৯:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
- / ৯ ভিউ
টানা ছয় দিন নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে উদ্ধার হলো ভারতের পাঞ্জাবের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ইন্দর কৌর ওরফে যশিন্দর কৌরের (২৯) মরদেহ। মঙ্গলবার (১৯ মে) ভোরে লুধিয়ানার নীলো খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। ইকোনোমিক টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। এর আগে, গত ১৩ মে রাতে ফোর্ড ফিগো গাড়ি নিয়ে বাজার করার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন ইন্দর। গভীর রাত পেরোলেও আর বাড়ি ফেরেন না। পরিবার অপহরণের আশঙ্কা করে পুলিশকে জানালে নিখোঁজের ৬ দিন পর খালে পাওয়া যায় গায়িকার মরদেহ। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনে সুখবিন্দর সিং নামের এক ব্যক্তির হাত রয়েছে এবং সে ইতোমধ্যেই কানাডায় পালিয়ে গেছে বলে নিহত গায়িকার পরিবার দাবি করছে।
নিহত গায়িকার ভাই যতিন্দর সিংয়ের দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৩ মে রাত আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে ইন্দর কৌর তার ‘ফোর্ড ফিগো’ গাড়িতে করে প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি কিনতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। কিন্তু এরপর আর তিনি বাড়ি ফিরে আসেননি, তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। ইন্দরের এই রহস্যজনক নিখোঁজের পর তার পরিবার মোগা জেলার ভালোঁর গ্রামের বাসিন্দা সুখবিন্দর সিং ওরফে সুখার ওপর সন্দেহ প্রকাশ করে। সুখবিন্দর দীর্ঘদিন ধরে ইন্দরকে বিয়ে করার জন্য মানসিকভাবে প্রচণ্ড চাপ দিয়ে আসছিল।
পারিবারের দাবি, ইন্দরকে খুন করেছেন সুখবিন্দর সিং। প্রায় তিন বছর আগে ইনস্টাগ্রামে মোগা জেলার ভালুর গ্রামের বাসিন্দা সুখবিন্দর সিংয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় ইন্দরের। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। কিন্তু কিছুদিন পর ইন্দর জানতে পারেন যে, সুখবিন্দর বিবাহিত এবং তার একটি সন্তান রয়েছে। এরপরই নিজেকে সম্পর্ক থেকে গুটিয়ে নেন ইন্দর। পরিবারের অভিযোগ, এই সত্য জানার পর ইন্দর তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং তার বিয়ের প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। এই প্রত্যাখ্যান মেনে নিতে না পেরে সুখবিন্দর মনে মনে গভীর ক্ষোভ ও প্রতিশোধের আগুন পুষে রেখেছিল। এরপরই ক্ষীপ্ত হয়ে সুখবিন্দর ইন্দরকে বিভিন্নভাবে লাগাতার হুমকি দিতে শুরু করে।
হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, ইন্দরকে হত্যার উদ্দেশ্যে কানাডা থেকে একটি নিখুঁত পরিকল্পনা করেছিল সুখবিন্দর। তিনি কানাডা থেকে সরাসরি ভারতে না এসে প্রথমে নেপালে পৌঁছায়। এরপর নেপাল সীমান্ত দিয়ে অত্যন্ত গোপনে পাঞ্জাবে প্রবেশ করে।পরিকল্পনা অনুযায়ী, তার সহযোগীদের নিয়ে ইন্দর কৌরের গাড়ি থামিয়ে বন্দুকের মুখে তাকে অপহরণ করা হয়। এরপর তাকে হত্যা করে মরদেহ ভাসিয়ে দেওয়া হয় খালে। আর এই অপরাধ সংঘটিত করেই সুখবিন্দর তড়িঘড়ি করে আবার কানাডায় পালিয়ে যায়। এদিকে এ ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি ও ধীরগতির তদন্ত নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছে নিহত ইন্দরের পরিবার।
গায়িকার ভাই জানান, গত ১৫ মে জামালপুর থানায় সুখবিন্দর সিং এবং তার সহযোগী করমজিৎ সিংয়ের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট তথ্যসহ এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। পুলিশ যদি নিখোঁজের পরদিনই তৎপর হতো এবং সময়মতো পদক্ষেপ নিত, তবে হয়তো ইন্দরকে আজ জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হতো।পুলিশ ইতোমধ্যে খাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সমরালার সিভিল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। জামালপুর থানার এসএইচও বলবীর সিং জানিয়েছেন, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।পলাতক মূল আসামি সুখবিন্দরকে ফিরিয়ে আনা এবং দেশে থাকা তার বাকি সহযোগীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের বিশেষ টিম অভিযান চালাচ্ছে।
উদীয়মান এই পাঞ্জাবি গায়িকা তার আঞ্চলিক পরিবেশনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দারুণ জনপ্রিয় ছিলেন। ‘সোনে দি চিড়ি’, ‘জিজা’, ‘সোহনা লাগদা’ এবং ‘দেশি সিরে দা’-এর মতো বেশ কিছু জনপ্রিয় গান গেয়ে সংগীত ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের অবস্থান তৈরি করছিলেন তিনি।






















