শামীমুল হক-রাজনীতি আসলে কৌশলের খেলা। যে দল কৌশলে এগিয়ে থাকবে সে দলই জয়ী হবে। রাজনীতির শুরু থেকেই চলে আসছে এটি। বর্তমান সময়ে এর তীব্রতা বেড়েছে। সঙ্গে যোগ হয়েছে বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের পারদ। আবার কেউ কেউ কৌশলকে পাশ কাটিয়ে প্রতারণাকে রাজনীতিতে টেনে এনেছে। প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েলের চেষ্টা বেশ ক’বছর ধরে জাতি দেখছে। ফলে রাজনীতি যে রাজার নীতি সেটি হারিয়ে গেছে। জনগণ হয়ে পড়েছে জিম্মি। বিশেষ করে ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে যে বৈঠক হয়েছিল সেই বৈঠকই কাল হয়ে দাঁড়িযেছে এ সময়ে

অবিশ্বাস জন্ম নিয়েছে মাঠের বিরোধী দলগুলোর মাঝে। আসলে বিশ্ব রাজনীতিই এখন টালমাটাল। এ অবস্থার বাইরে বাংলাদেশও নয়।  বর্তমানে সরকার ও বিরোধীদল দুই ধারায় বিভক্ত। আগামী নির্বাচন নিয়ে এ বিভক্তি কোন ধারায় রূপ নেয় তা বলা এ মুহূর্তে কঠিন। তবে এবার বিরোধীদল ছাড় দেবে এমনটা মনে হয় না। সরকারি দলও চেষ্টা চালাবে তাদের তৈরি করা আইনে নির্বাচন করতে। এই ইস্যুতে যখন মাঠ গরম তখন ইসি গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। বলা যায় একেবারে বাধাহীনভাবে ইসি গঠন হয়েছে। কাজী হাবিব কমিশন দায়িত্ব নিয়ে বিভিন্ন পেশা ও সুশীল সমাজের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সুন্দর সুন্দর কথা বলেছেন কাজী হাবিবুল আউয়াল। এসব আলোচনায় ইভিএম নিয়ে কমিশনের অনীহার কথাই ফুটে উঠেছিল। কিন্তু আমরা কি দেখছি? 

গত সপ্তাহে শতাধিক ইউপি নির্বাচন ও কুমিল্লা সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়েছে। একইসঙ্গে ঘোষণা করা হয়েছে সবকটি নির্বাচনই হবে ইভিএম-এ। ইসির এ ঘোষণায় অবাক দেশবাসী। প্রশ্ন জাগে যেখানে ইভিএম নিয়ে এতো আলোচনা-সমালোচনা, তারপরও কেন ইসি এটি বেছে নিল? এখানে কি কৌশল কাজ করেছে। যাইহোক বিরোধীদল যদিও বলছে, আগামী নির্বাচন হতে হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। অবশ্য এ নাম নিয়ে ব্যখ্যাও এসেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে। কেউ বলছেন, অন্তবর্তীকালীন সরকার, নিরপেক্ষ সরকার যে নামেই হোক হতে হবে। এমনটা না হলে তারা আগামী ২০২৩ সালের নির্বাচনে অংশ নেবে না। এরই মধ্যে একটি জোট গঠনের চেষ্টা চলছে। নেতাদের মধ্যে এ নিয়ে কথাবার্তাও হচ্ছে। ঈদের পর এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও আসতে পারে। কিন্তু সরকার? সরকার পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হচ্ছে এ দেশে আইন অনুযায়ী নির্বাচন হবে। কে নির্বাচনে এলো কে এলো না সেটা দেখার বিষয় নয়। সরকারি দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অবশ্য প্রায়ই বলে থাকেন বিরোধীদল আন্দোলনই তো করতে পারছে না। তারা আন্দোলনে জনগণকে টানতে পারছে না। তাদের আন্দোলন ফাঁকবুলি। এ কথা বলে তিনি কি বুঝাতে চাচ্ছেন তিনিই জানেন। কিন্তু বিরোধী দল  যে আন্দোলন করতে পারছে না এ কথাকে উড়িয়ে দেয়া যায় না। বর্তমান সময়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে যে বৈরী ভাব তা সব কিছুকে ছাপিয়ে গেছে। আগে ঈদে এক দল আরেক দলকে শুভেচ্ছা জানাত। এটাও এখন হারিয়ে গেছে। নির্বাচন যতই সামনে আসবে ততই উত্তাপ ছড়াবে রাজনীতির মাঠে এটা নির্দ্বিধায়  বলা যায়। ঘোলাটে হবে পরিস্থিতি। কিন্তু এমনটা তো হওয়ার কথা ছিল না। শুধু দলে দলে বিভক্তি তা কিন্ত নয়। ইতিহাসে দেখা যায় নিজ দলের গ্রুপিংও দলকে অনেক সময় বেকায়দায় ফেলেছে। বড় দুটি দলেই এমন গ্রুপিং এখন চোখে পড়ার মতো।  

 
দেশের প্রধান দুটি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের গ্রুপিংয়ের জেরেই রাজনীতিতে নামেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আওয়ামী লীগের সভাপতি তখন আব্দুল মালেক উকিল ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক। ১৯৮১ সালের কথা। হোটেল ইডেনে আওয়ামী লীগের সম্মেলন। দ্বন্দ্ব তখন চরমে। নেতায় নেতায় গ্রুপ। ভাঙনের মুখে আওয়ামী লীগ। এক গ্রুপের নেতৃত্বে মালেক উকিল। আরেক গ্রুপের নেতৃত্বে জোহরা তাজউদ্দিন। এ দুজনকে ঘিরে নেতারাও দু’ভাগে বিভক্ত। দেশজুড়ে শঙ্কা কে হবেন আওয়ামী লীগের কাণ্ডারি?  মালেক উকিল, জোহরা তাজউদ্দিন, আবদুস সামাদ আজাদ, ড. কামাল হোসেন, আব্দুল মান্নান, আব্দুর রাজ্জাক নাকি তোফায়েল আহমেদ? হোটেল ইডেনের বাতাস গরম। সম্মেলনে হাজির সারা দেশের নেতাকর্মীরা। টানটান উত্তেজনা। উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা সবার মাঝে। বক্তৃতা পর্বের পর শুরু হয় নেতা নির্বাচনের বৈঠক। কি হবে সেখানে। কে হবেন দলের সভাপতি? বৈঠকের শুরুতেই নাটকীয় ঘটনার মধ্য দিয়ে পাল্টে যায় দৃশ্যপট। সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর স্বামী আকবর হোসেন চৌধুরী বাইরে থেকে কলকাঠি নাড়তে থাকেন। তিনি শেখ হাসিনাকে সভাপতি করার চূড়ান্ত ফর্মুলা নিয়ে হাজির হন। আব্দুর রাজ্জাকের মাধ্যমে সেই প্রস্তাব বৈঠকের শুরুতেই উপস্থাপন করান। শেখ হাসিনার নাম সভাপতি হিসেবে প্রস্তাব আসার পর ইডেনের টান টান উত্তেজনা মুহূর্তেই মিইয়ে যায়। গ্রুপিংয়ে লিপ্ত নেতারাও একেবারে চুপ হয়ে যান। সর্বসম্মতিক্রমে শেখ হাসিনা হন আওয়ামী লীগের সভাপতি। কিন্তু শেখ হাসিনা যে নির্বাসনে। কি করা যায়। তা নিয়েও সেখানে আলোচনা হয়। সভা শেষে সবাই হাসিমুখে বেরিয়ে আসেন। ভাঙন থেকে রক্ষা পায় আওয়ামী লীগ। এখানেই শেষ নয়। বছর দুয়েক না যেতেই ছাত্রলীগের কমিটি গঠন নিয়ে ফের গ্রুপিং দেখা দেয় আওয়ামী লীগে। সে সময় আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয় আব্দুর রাজ্জাক, মালেক উকিল, মহিউদ্দিন আহমেদ, আব্দুল মমিন তালুকদার, অধ্যাপক আবু সাঈদসহ ৬ জনকে। অবশ্য দুই দিন পর মালেক উকিল আওয়ামী লীগে ফিরে আসেন। মহিউদ্দিন-রাজ্জাক বাকশাল গঠন করেন। অবশ্য এ দুজনই ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে বাকশাল বিলুপ্ত করে আওয়ামী লীগে ফিরে আসেন। ১৯৯৩ সালে ফের গ্রুপিংয়ে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে গঠন করেন গণফোরাম। সে সময় যুবলীগের চেয়ারম্যান মোস্তফা মহসিন মন্টু, সাবেক মন্ত্রী মতিউর রহমানসহ অনেকেই গণফোরামে যোগ দেন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়  আসে। এর দুই বছরের মাথায় বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এখানেও কাজ করেছে দলীয় গ্রুপিং। তখন কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে গঠিক হয় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। এ দলের সাধারণ সম্পাদক হন একসময়ের ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি ফজলুর রহমান। অন্যদিকে বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের হাত থেকে জেনারেল এরশাদ ক্ষমতা গ্রহণের পর বিএনপিতে দেখা দেয় চরম অরাজকতা। আব্দুস সাত্তার তখন বিএনপি প্রধান। সে সময় স্পিকার শামসুল হুদা চৌধুরী ও ডাক্তার এমএ মতিনের নেতৃত্বে বিএনপির একটি বড় অংশ যোগ দেয় এরশাদের সঙ্গে। সে সময় বিএনপিতে হুদা-মতিন গ্রুপ নামে আলাদা গ্রুপই ছিল। বাকি যারা ছিলেন তাদের অনেকেও প্রকাশ্যে বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। সেসময় বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক খালেকুজ্জামান খান দুদু ও কৃষি সম্পাদক শেখ শওকত হোসেন নিলুর নেতৃত্বে আরেকটি গ্রুপ তৈরি হয়। এ গ্রুপের দুদু দলীয় প্রধান চেয়ারম্যান পদে বিচারপতি আবদুস সাত্তারের বিরুদ্ধে প্রার্থিতা ঘোষণা করেন। এমন চরম এক দুর্যোগ মুহূর্তে অন্য নেতারা খালেদা জিয়াকে সামনে ঠেলে দেন। তিনি দলের ভাইস চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত হন। আর চেয়ারম্যান আবদুস সাত্তার। 

এর কিছুদিন পরই খালেদা জিয়াকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন কেন্দ্রীয় নেতা কে এম ওবায়দুর রহমানও গ্রুপিংয়ে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে বিএনপি ছেড়ে নিজে জনতা দল নামে পার্টি গঠন করেন। যদিও পরে তিনি ফের বিএনপিতে ফিরে এসেছিলেন। আর গ্রুপিংয়ের জেরে তো বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সেক্রেটারি অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছিল। শুধু তাই নয়, বিএনপি ছেড়ে নতুন দল গঠন করেন তিনি। আর বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা তো একাধিকবার দল ছাড়েন আবার নতুন দল গঠন করেন। ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের মন্ত্রী কর্নেল অলি আহমদও গ্রুপিংয়ে জড়িয়ে বিএনপি ছাড়েন। তিনি গঠন করেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি নামে নতুন দল। তার সঙ্গে যোগ দেন বিএনপির এমপি ও মন্ত্রী অনেকে। গ্রুপিংয়ের শিকার হয়ে দল ছাড়াই নয়, একই নামে পৃথক দল গঠন করে দলীয় সম্পত্তিও ভাগ-বাটোয়ারার ঘটনা ঘটে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিতে। এর এক গ্রুপে মঞ্জুরুল আহসান খান ও মোজাহিদুল ইসলাম সেলিম। অন্য গ্রুপে সাইফুদ্দিন আহমেদ মানিক ও নুরুল ইসলাম নাহিদ। পরে সাইফুদ্দিন আহমেদ মানিক গণফোরামে ও নুরুল ইসলাম নাহিদ আওয়ামী লীগে যোগ দেন। আশির দশকে গ্রুপিং এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, জাসদ ভাঙনের শিকার হয়। জাসদ থেকে বেরিয়ে যান খালেকুজ্জামান ভূঁইয়া, হাবিবুল্লাহ বাহার, শুদ্রাংশু চক্রবর্তী, আ.ফ.ম মাহবুবুল হক, সাবেক এমপি আবদুল্লাহ সরকারসহ অনেকে। তারা গঠন করেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। এরপর জাসদ ফের ভাঙনের শিকার হয়। এবার জাসদ ব্র্যাকেটবন্দি হয়। একপক্ষে আসম আব্দুর রব, অন্যপক্ষে শাজাহান সিরাজ। যাদের পরিচয় ছিল জাসদ (রব) ও জাসদ (সিরাজ)। এরপর শাজাহান সিরাজ থেকে পৃথক হয়ে শরীফ নূরুল আম্বিয়া ও হাসানুল হক মিলে গঠন করেন জাসদ (ইনু)। ওদিকে শাজাহান সিরাজ থেকে পৃথক হয়ে মহিউদ্দিনও আলাদা জাসদ গঠন করেন। পরে মহিউদ্দিন গ্রুপ নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। আর শাজাহান সিরাজ বিএনপিতে যোগ দেন। ২০১৬ সালে হাসানুল হক ইনুর জাসদ (ইনু) ভেঙে যায়। এক গ্রুপে হাসানুল হক ইনু, শিরিন আক্তার, জিকরুল হকসহ অন্যরা। অপর পক্ষে শরীফ নূরুল আম্বিয়া, মাঈনুদ্দিন খান বাদল, শরীফুল ইসলাম জিন্নাহসহ অনেকেই। গ্রুপের কারণে ন্যাপ ভেঙে এখন দলটিই প্রায় বিলুপ্তির পথে। পাকিস্তান আমলে আদর্শিক কোন্দলে মওলানা ভাসানী ও মোজাফফর দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছিলেন। স্বাধীনতার পর যাদু মিয়ার নেতৃত্বে মওলানা ভাসানী গ্রুপের একাংশ যোগ দেয় বিএনপিতে। আর কাজী জাফরের নেতৃত্বে গঠন হয় ইউনাইটেড পিপলস পার্টি (ইউপিপি)। কাজী জাফর সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় যোগ দেয়ার পর ভেঙে যায় ইউপিপি। আর তখনই ইউপিপি ছেড়ে রাশেদ খান মেনন ও হায়দর আকবর খান রনো গঠন করেন ওয়ার্কার্স পার্টি। অন্যদিকে ইউপিপির চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন আবদুল হালিম যোগ দেন বিএনপিতে। অপরদিকে ন্যাপের মোজাফফর গ্রুপ ছেড়ে চলে যান চৌধুরী হারুনুর রশীদ ও মতিয়া চৌধুরী। গঠন করেন ন্যাপের হারুন-মতিয়া গ্রুপ। এর কিছুদিন পরই মতিয়া চৌধুরী যোগ দেন আওয়ামী লীগে। ন্যাপ এখানেই থেমে থাকেনি। হামিদুল কবীরের নেতৃত্বে গঠন হয় একতা পার্টি। যাতে যোগ দেন সুরঞ্জিৎ সেনগুপ্ত, মোহাম্মদ আফজালসহ আরো অনেকে। এরশাদের জাতীয় পার্টি এখন বহু ভাগে বিভক্ত। গ্রুপিংয়ে জড়িয়ে একাধিক নেতা জাপা ছেড়ে নতুন দল গঠন করেন। ৯০-এর পর নাজিউর রহমান মঞ্জুর নেতৃত্বে একটি গ্রুপ এরশাদকে ছেড়ে যান। তারা জাতীয় পার্টি (মঞ্জুর) নামে নতুন দল গঠন করেন। পরবর্তীতে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও শেখ শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে জেপি (মঞ্জু) গঠন করেন। সর্বশেষ কাজী জাফরের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি ভেঙে যায়। কাজী জাফর আরেক জাতীয় পার্টি গঠন করেন। এছাড়াও গ্রুপিংয়ের কারণে দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছেন অনেক নেতা। এমন নেতার তালিকাও কম নয়। 

বর্তমানে জেলায় জেলায় নিজ দলের নেতাদের গ্রুপিং প্রকাশ্যে। এখানে কোনো রাখঢাক নেই। মন্ত্রীর প্রভাব বেশি না এমপির- এনিয়ে গ্রুপিং সর্বত্র। আবার জেলা সদরের এমপির সঙ্গে পার্শ্ববর্তী আসনের এমপির দা-কুমড়া সম্পর্ক। নেতারাও থাকেন দুই এমপিকে ঘিরে দুই বলয়ে।  এর রেশ ধরে অঙ্গ সংগঠনেও গ্রুপিং ডালপালা ছড়ায়। ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির কোনো সদস্যকে জিজ্ঞেস করলে সে অকপটে বলেন আমি সভাপতি বলয়ের কিংবা বলেন সম্পাদক বলয়ের। মধুর ক্যান্টিনে বসলেও ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদক এক সঙ্গে বসেন না। দু’জন দুপাশে বসেন। তাদের ঘিরে রাখেন নিজ নিজ বলয়ের নেতারা। ছাত্রদলেও এমন পরিস্থিতি। তারা প্রকাশ্যে রাজনীতির মাঠে হরহামেশা না থাকলেও গ্রুপিংয়ে কেউ পিছিয়ে নেই।

নিজ নিজ দলে এত গ্রুপিং সামলে এগুতে হয় দলীয় প্রধানকে। বিরোধী দল তো রয়েছেই। সব কিছুকে সামাল দিতে রাজনীতির কৌশল বাদ দিয়ে হাতিয়ার হয়ে উঠে প্রতারণা। এই প্রতারণা থেকে রাজনীতি যতদিন বেরিয়ে না আসবে ততদিন রাজনীতিতে সহ-অবস্থান কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। গ্রুপিং, কোন্দল যত কিছুই হউক রাজনীতিতে স্বচ্ছতা জরুরি। তার চেয়ে বেশি জরুরি বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা।

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterEmail this to someoneShare on LinkedIn