০৮:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জলাবদ্ধতায় বাঁধ কাটার অনুমতি দেখার হাওরে

রিপোর্টার
  • সময় : ০২:০৭:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৫৮ ভিউ

ইয়াকুব শাহরিয়ার: দেখার হাওরে ডুবরার পানিতে অনেক কৃষকের চাষকৃত ধানী জমি ডুবে আছে। অনেক কৃষকের জমি নষ্ট হয়েছে। অনেকে নষ্ট হওয়ার চেয়ে গো—খাদ্য হিসেবে কাঁচা ধান কেটে এনেছেন। এ অবস্থায় দেখার হাওরের আস্তমা—আসামপুর অংশে উথারিয়া বাঁধ কেটে মহাসিং নদীতে পানি বের করে দেওয়ার অনুমতি পেয়েছেন কৃষকরা। রবিবার দুপুর ২টায় দেখার হাওরের উথারিয়া বাঁধ পরিদর্শনে গিয়ে উত্তেজিত কৃষকদের দাবির মুখে বাঁধ কেটে হাওরের জলাবদ্ধতার পানি বের করার মৌখিক অনুমতি দিয়েছেন সুনামগঞ্জ—৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. নূরুল ইসলাম নূরুল ও জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া। এসময় বাঁধে কোদাল দিয়ে প্রতীকী মাটি কেটেছেন সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম নূরুল। পরিদর্শনে গিয়ে তুমুল কালবৈশাখীর কবলে পড়েন পুরো পরিদর্শন টিম।

জানা যায়, দেখার হাওরের সুনামগঞ্জ সদর, ছাতক, দোয়ারাবাজার ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা অংশে প্রায় ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। হাওরের বেশ কিছু অংশে বৃষ্টির পানি জমে হাওরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে যা অনেক কৃষকের ধানের ব্যপক ক্ষতি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে হাওরের বেড়িবাঁধ কেটে জলাবদ্ধতার পানি বের করার আবেদন করে আসছেন কৃষকরা। ১১ এপ্রিল শনিবার পানির চাপে হাওরের মেলানী কিত্তায় গুজাউনী বাঁধ ভেঙে নদী, খাল ও ডুবরার পানি ফসলি জমিতে প্রবেশ করতে থাকে। শনিবার গুজাউনীতে কৃষকদের একটাই দাবি ছিলো, উথারিয়া বাঁধ কেটে মহাসিং নদীতে পানি বের করে দেওয়া। এরই প্রেক্ষিতে পরিদর্শনে আসেন সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম নূরুল ও জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসক সকলের সামনে কোন জায়গা কাটতে হবে তা দেখিয়ে দিয়েছেন এবং সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম নূরুল কোদাল দিয়ে মাটিতে কোপ দিয়ে মাটি চিহ্নিত করে দিয়েছেন। এসময় সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আনছার উদ্দিন, ফারুক আহমদ, নাদির আহমদ, আবদুল হক সহ উপজেলা—জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, জেলা ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ অনেক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে সংসদ সদস্য এড. নূরুল ইসলাম নুরুল ও জেলা প্রশাসন ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া উথারিয়া বেড়িবাঁধে পৌঁছানোর আগে আস্তমা, আসামপুর, কামরুপদলংসহ আশপাশের এলাকা থেকে শতাধিক কৃষক বাঁধে উপস্থিত ছিলেন। প্রচণ্ড বেগে তখন বৃষ্টি সমত  কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। বৃষ্টিতে ভিজে সংসদ সদস্য, ডিসি ও উপস্থিত নেতাকর্মীরা বাঁধ পরিদর্শন করেন। তখন অনেক কৃষক আগে বাঁধ কাটার অনুমিত না দেওয়ায় জেলা প্রশাসকের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন, তখন উত্তেজনার তৈরি হয়। পরিস্থিতি শান্ত্ব করে বাঁধ কাটার স্থান দেখিয়ে দেন জেলা প্রশাসক। কৃষকরা তার দেখানো স্থানে নয়, অন্য স্থানে বাঁধ কাটতে বেশ বিতর্ক করেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান জেলা প্রশাসকসহ সকলেই।

আস্তমা গ্রামের কৃষক আঙ্গুর মিয়া, মদনপুরের ইকবাল হোসেন ও পাগলার কৃষক সুন্দর আলী বলেন, আমরা বাঁধে ছিলাম। ডিসি সাহেব এবং এমপি সাহেব আমাদেরকে জায়গা দেখিয়ে গিয়েছেন যে, কোন দিকে কাটতে হবে। তাদেরকে ধন্যবাদ, তারা আমাদের আকুতি শোনেছেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জলাবদ্ধতায় বাঁধ কাটার অনুমতি দেখার হাওরে

সময় : ০২:০৭:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

ইয়াকুব শাহরিয়ার: দেখার হাওরে ডুবরার পানিতে অনেক কৃষকের চাষকৃত ধানী জমি ডুবে আছে। অনেক কৃষকের জমি নষ্ট হয়েছে। অনেকে নষ্ট হওয়ার চেয়ে গো—খাদ্য হিসেবে কাঁচা ধান কেটে এনেছেন। এ অবস্থায় দেখার হাওরের আস্তমা—আসামপুর অংশে উথারিয়া বাঁধ কেটে মহাসিং নদীতে পানি বের করে দেওয়ার অনুমতি পেয়েছেন কৃষকরা। রবিবার দুপুর ২টায় দেখার হাওরের উথারিয়া বাঁধ পরিদর্শনে গিয়ে উত্তেজিত কৃষকদের দাবির মুখে বাঁধ কেটে হাওরের জলাবদ্ধতার পানি বের করার মৌখিক অনুমতি দিয়েছেন সুনামগঞ্জ—৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. নূরুল ইসলাম নূরুল ও জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া। এসময় বাঁধে কোদাল দিয়ে প্রতীকী মাটি কেটেছেন সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম নূরুল। পরিদর্শনে গিয়ে তুমুল কালবৈশাখীর কবলে পড়েন পুরো পরিদর্শন টিম।

জানা যায়, দেখার হাওরের সুনামগঞ্জ সদর, ছাতক, দোয়ারাবাজার ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা অংশে প্রায় ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। হাওরের বেশ কিছু অংশে বৃষ্টির পানি জমে হাওরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে যা অনেক কৃষকের ধানের ব্যপক ক্ষতি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে হাওরের বেড়িবাঁধ কেটে জলাবদ্ধতার পানি বের করার আবেদন করে আসছেন কৃষকরা। ১১ এপ্রিল শনিবার পানির চাপে হাওরের মেলানী কিত্তায় গুজাউনী বাঁধ ভেঙে নদী, খাল ও ডুবরার পানি ফসলি জমিতে প্রবেশ করতে থাকে। শনিবার গুজাউনীতে কৃষকদের একটাই দাবি ছিলো, উথারিয়া বাঁধ কেটে মহাসিং নদীতে পানি বের করে দেওয়া। এরই প্রেক্ষিতে পরিদর্শনে আসেন সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম নূরুল ও জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসক সকলের সামনে কোন জায়গা কাটতে হবে তা দেখিয়ে দিয়েছেন এবং সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম নূরুল কোদাল দিয়ে মাটিতে কোপ দিয়ে মাটি চিহ্নিত করে দিয়েছেন। এসময় সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আনছার উদ্দিন, ফারুক আহমদ, নাদির আহমদ, আবদুল হক সহ উপজেলা—জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, জেলা ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ অনেক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে সংসদ সদস্য এড. নূরুল ইসলাম নুরুল ও জেলা প্রশাসন ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া উথারিয়া বেড়িবাঁধে পৌঁছানোর আগে আস্তমা, আসামপুর, কামরুপদলংসহ আশপাশের এলাকা থেকে শতাধিক কৃষক বাঁধে উপস্থিত ছিলেন। প্রচণ্ড বেগে তখন বৃষ্টি সমত  কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। বৃষ্টিতে ভিজে সংসদ সদস্য, ডিসি ও উপস্থিত নেতাকর্মীরা বাঁধ পরিদর্শন করেন। তখন অনেক কৃষক আগে বাঁধ কাটার অনুমিত না দেওয়ায় জেলা প্রশাসকের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন, তখন উত্তেজনার তৈরি হয়। পরিস্থিতি শান্ত্ব করে বাঁধ কাটার স্থান দেখিয়ে দেন জেলা প্রশাসক। কৃষকরা তার দেখানো স্থানে নয়, অন্য স্থানে বাঁধ কাটতে বেশ বিতর্ক করেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান জেলা প্রশাসকসহ সকলেই।

আস্তমা গ্রামের কৃষক আঙ্গুর মিয়া, মদনপুরের ইকবাল হোসেন ও পাগলার কৃষক সুন্দর আলী বলেন, আমরা বাঁধে ছিলাম। ডিসি সাহেব এবং এমপি সাহেব আমাদেরকে জায়গা দেখিয়ে গিয়েছেন যে, কোন দিকে কাটতে হবে। তাদেরকে ধন্যবাদ, তারা আমাদের আকুতি শোনেছেন।