প্রেমের পর বিয়ে ও ডিভোর্স অতঃপর নৃশংস হত্যাকাণ্ড
- সময় : ১০:৫৪:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ৭৩ ভিউ
প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ে, মনোমালিন্য ও বিচ্ছেদ। এরপরও থামেনি যোগাযোগ। সেই যোগাযোগই শেষ পর্যন্ত ডেকে আনে মর্মান্তিক পরিণতি। সম্পর্কের টানাপড়েনের জেরে সাবেক স্ত্রীকে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগে আটক হয়েছেন সেনাসদস্য মো. রবিন হোসেন (২৩)। বৃহস্পতিবার বিকালে নাটোরের লালপুর উপজেলার শোভদিদারপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মোছা. তাম্মি খাতুন (২১) উপজেলার নাবিরপাড়া গ্রামের মো. জিল্লুর রহমানের মেয়ে। অভিযুক্ত রবিন একই উপজেলার চংধুপইল ইউনিয়নের চণ্ডীগাছা গ্রামের কসিম উদ্দিনের ছেলে এবং তিনি বর্তমানে সেনাবাহিনীতে কর্মরত। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী ইউএনও পার্ক এলাকায় ছুরি দিয়ে তাম্মির গলা কেটে হত্যা করে রবিন। পরে লাশ কাঁধে করে শোভদিদারপাড়া রেললাইনের ২০৩ নম্বর পিলারের পাশে রেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় শোভ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে কাজ করা স্থানীয় কৃষকদের নজরে আসে তার রক্তমাখা শরীর ও পোশাক।
সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে বিষয়টি প্রকাশ পায়। তখন স্থানীয়রা তাকে আটক করে গণপিটুনি দেন। খবর পেয়ে লালপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রবিনকে থানা হেফাজতে নেয়। পরে ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাম্মির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা সদর হাসপাতালে পাঠায়। এ বিষয়ে ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানার ওসি জিয়াউর রহমান জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রবিন সাবেক স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি ধারালো ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, তাম্মি ও রবিন দু’জনেই করিমপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। সপ্তম শ্রেণি থেকেই তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
পরে তারা আব্দুলপুর সরকারি কলেজে ভর্তি হন। এ সময় রবিন সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। চাকরিতে যোগদানের পর তাদের সম্পর্কে অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে বিয়ের দাবিতে রবিনের বাড়িতে গিয়ে তাম্মি বিষপান করেন। সুস্থ হওয়ার পর ২০২৩ সালের ২৩ মার্চ তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর রবিনের বাবা ও ভগ্নিপতির অনীহার কারণে পারিবারিক কলহ শুরু হয়। এর জেরে আট মাসের মাথায় তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। তাম্মির ভাবি মোছা. রোকেয়া খাতুন (২৩) জানান, বিচ্ছেদের পরও রবিনের সঙ্গে তাম্মির যোগাযোগ ছিল। ২০২৪ সালে তাম্মির দ্বিতীয় বিয়ে দেয়া হলেও রবিনের প্ররোচনায় এক মাস পর তিনি দ্বিতীয় স্বামীর বাড়িতে যেতে অস্বীকৃতি জানান।
পাঁচ মাস পর সেই বিয়েরও বিচ্ছেদ ঘটে। এরপরও রবিনের সঙ্গে তাম্মির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় ছিল। তিনি আরও জানান, গত ৩০ অক্টোবর ২০২৫ রবিনের বিরুদ্ধে নাটোর আদালতে ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়। মামলা তুলে নেয়ার জন্য রবিন তাম্মিকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখাতে থাকে। এক মাস আগে রবিন তার ননদের সঙ্গে তাম্মির বাড়িতে এলে স্থানীয়রা তাকে আটক করলেও কৌশলে পালিয়ে যায়। গত বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাতে দীর্ঘ সময় তাম্মির সঙ্গে রবিনের মুঠোফোনে কথা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে তাম্মি তার ভাবিকে জানায়, রবিনের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছে আজই নাকি তাকে বিয়ে করবে। এ কথা বলে জামাকাপড় নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। রোকেয়া খাতুন আক্ষেপ করে বলেন, বিয়ে করার কথা বলে ডেকে নিয়ে তাকে এভাবে হত্যা করবে, তা আমরা কল্পনাও করিনি।




















