‘উরসে চন্দন গন্ধ’ জীবন্ত দলিল
- সময় : ০১:২৫:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
- / ১০৩ ভিউ
জ্ঞান অর্জন করতে চাইবেন অথচ বই পড়বেন না, তা কি করে সম্ভব! আপনি চান সন্তান জ্ঞানী হবে অথচ ঘরে বইয়ের জন্য এতোটুকুও জায়গা হবে না — তাহলে কি করে তা হবে! পড়তে হবে। বই কিনে পড়তে হবে। বই পাঠাগারে গিয়ে পড়তে হবে। বাসায় অনেককিছুর সাথে এবং বহু সৌখিন জিনিসের আগে বই থাকতে হবে। বইয়ের জন্য যত্নের সাথে বাসায় একটা আলাদা জায়গা থাকতে হবে। বই — উপহার দেয়ার ক্ষেত্রে প্রথম পছন্দ হতে হবে।
আমি একটি বই উপহার হিসেবে পেয়েছি। লেখককে ধন্যবাদ। লেখক দূরে থাকেন। লেখক সুনামগঞ্জের হলেও ইংল্যান্ডে থিতু হয়েছেন। তাই তিনি আরেকজন গুণী মানুষ যিনি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল জনাব মো. আব্দুল জলিল মহোদয়ের মাধ্যমে সিলেটে আমার বসবাসের একেবারে দোরগোড়ায় তাঁর লেখা বইটি আমার হস্তগত করেছেন। আমি উনার এই কষ্ট স্বীকারকে অনেক বড়ো করে দেখছি। সেই সাথে লেখক যে আমাকে এতোটা গুরুত্ব দিয়েছেন সেটা আমার জন্য অনেক বড়ো বিষয় এবং এ বিষয়টি আমার কাছে স্মরণীয় হয়ে রইলো।
লেখক যখন আগ্রহভরে তাঁর লেখা বইটি কোনো মাধ্যমে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেন, তখন কিন্তু মনোযোগী পাঠকের দায় আরও বেড়ে যায়। এর প্রথম মূল্যায়ন হলো উপহার হিসেবে পাওয়া বইটি আগ্রহের সাথে পড়া এবং পরবর্তী দায়িত্ব হলো গ্রন্থটি নিয়ে কিছু লিখে আরও পাঠকের কাছে পৌঁছে দেয়া। নিশ্চয়ই একটি গ্রন্থের একটি লাইনও ভালো পাওয়ার কথা। অনেকে এক্ষেত্রে কার্পণ্যতা দেখান অবহেলায়। অথচ এমন কাজ কখনও খারাপ কিছু নয়। কোনো ক্ষতি নেই তাতে, সমাজ উপকৃত হয় যাতে।
উপহার হিসেবে পাওয়া ‘উরসে চন্দন গন্ধ’ গ্রন্থটি স্মৃতিকথনে ভরা। স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ সাধারণত একজন মানুষের জীবনের ফেলে আসা দিন, অভিজ্ঞতা এবং বিচিত্র সব অনুভূতির এক জীবন্ত দলিল। এই গ্রন্থটি মূলত লেখকের জীবনের একটি দীর্ঘ ভ্রমণের প্রতিচ্ছবি। এই গ্রন্থটি কেবল কিছু ঘটনার বর্ণনা নয়, বরং সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাওয়া কিছু অমূল্য মুহূর্তের সংকলন বলা যায়।
উরসে চন্দন গন্ধ গ্রন্থটির লেখক ইমানুজ্জামান মহী। তিনি মূলত সুনামগঞ্জের মানুষ। তাঁর গ্রন্থের মূল উপজীব্য বিষয় হলো শৈশব কৈশোর ও যৌবনের শেকড়ের টান। বইটির একটি বড় অংশ জুড়ে বলা হয়েছে, লেখকের শৈশব, বেড়ে ওঠা এবং জন্মভূমির সাথে তাঁর আত্মিক সম্পর্কের কথা। বয়সকালে সুনামগঞ্জের রাজনীতি নিয়েও তার ভাবনা ফুটে উঠেছে। আছে অনেক বিষয় আছে, এখানে চেনা মানুষ, খেলার সাথী এবং পারিবারিক আবহের নিখুঁত চিত্র ফুটে উঠেছে। ভিন্ন ভিন্ন পর্বে ভিন্ন ভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখা গ্রন্থটি পড়তে বিরক্ত লাগে না। ভালো লাগে। একবারে একটানে শেষ করতে হবে এমন নয়। থেমে থেমে পড়া যায়। গ্রন্থটি বাসায় আরও অনেক গ্রন্থের সাথে রেখে দেয়ার মতো একটি চমৎকার বই — মনে করি। গ্রন্থের সূচিপত্র অনুযায়ী একেকটি পর্ব পড়লে কিছু সময় মনে ধরে থাকে। কিছু পর্ব, যেমন — ফিরোজা বু, অধ্যায়ের সূচনা, হাবীব ছিলো প্রেমিক সেই সাথে বিপ্লবী, নাম হাইজ্যাকের সংস্কৃতি বন্ধ হোক — এরকম অনেক অনেক শিরোনাম দিয়ে একেকটি পর্ব। সবশেষে রয়েছে লেখকের সংগ্রহ থেকে ছাপানো বেশ কয়েকটি ছবি যা ‘স্মৃতির অ্যালবাম’। সবমিলিয়ে চারশো বত্রিশ পৃষ্ঠার স্মৃতি কথন মূলক একটি গ্রন্থ। আছে, হ্যাঁ, গ্রন্থটিতে মননশীল পাঠকের জন্য অনেককিছু খুঁজে পাওয়ার সুযোগ আছে।।
— মোহাম্মদ আব্দুল হক


















