চান মিয়া, ছাতক (সুনামগঞ্জ)::

সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনকে ঘিরে সর্বত্র নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। ১১মার্চ সম্মেলন অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনে জেলা, উপজেলা ছাড়াও তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে সাজ সাজ রব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে সম্মেলন হচ্ছে কি- না এনিয়ে অনেকের মধ্যে সন্দেহ-সংশয় দেখা দিয়েছে। অতীতে কয়েক দফা তারিখ ঘোষণার পরও যথাসময়ে সম্মেলল না হওয়ায় জেলার ১১টি উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সম্মেলন ঘিরে এ সংশয় দেখা দেয়। জেলা ছাত্রলীগের দায়িত্বশীল কয়েকজন নেতা সম্মেলন নিয়ে তেমন একটা সরব ভূমিকায় না থাকলেও পদ প্রত্যাশী কয়েক ডজন নেতা কর্মী সরব ভূমিকা পালন করছেন। সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পর থেকে পদ প্রত্যাশিরা কেন্দ্র থেকে জেলাও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কাছে জোর লবিংয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। বর্তমান কমিটিতে থাকা কতিপয় বিতর্কিত ও ছাত্রলীগের ইমেজ ক্ষুন্নের সাথে জড়িত পদবীধারী একাধিক নেতা নতুন কমিটি থেকে ছিটকে পড়তে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব বিতর্কিত নেতারা পূনরায় পদ-পদবীতে আসীন তে কেন্দ্রসহ বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাপ দিচ্ছেন।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস.এম জাকির হোসাইন ২৮ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) সকালে গণমাধ্যমকে জানান, ১১মার্চই সম্মেলন অনুষ্টিত হবে। তিনি যথাসময়ে সম্মেলন সম্পন্ন করতে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতিও সাধারণ সম্পাদককে তাগিদ করেছেন বলে জানান। এক্ষেত্রে তারা যদি সম্মেলন করতে ব্যর্থ হন তাহলে ১১মার্চ-ই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।

একটি সুত্র জানায়, গত ২০১৭সালের ১৮ফেব্রুয়ারী সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্টানের তারিখ ১১মার্চ ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস.এম. জাকির হোসাইন স্বাক্ষরিত এক পত্রে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারন স¤পাদককে ১১মার্চ সম্মেলন করার নির্দেশ দেয়া হয়। অপরদিকে সম্মেলনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে জেলাও উপজেলা পর্যায়ে নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারে সম্মেলনের তোড়জোড় ব্যাপকভাবে লক্ষ্য করা না গেলেও জেলার সর্বত্র নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সারা দেশে ছাত্রলীগ চরম ইমেজ সংকটে হাবুডুবু খেলেও সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ এর ব্যতিক্রম। ছাত্রলীগের হাতেগোনা নেতাকর্মীরা ইমেজ সংকটের আচঁড়ে পড়লেও সকলেই ছিলেন দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের অতন্দ্র প্রহরী। এ পরিস্থিতি হয়েছে একমাত্র জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফজলে রাব্বি সরন ও সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম চৌধুরীর অক্লান্ত পরিশ্রমে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম চৌধুরীরর ভূঁয়সী প্রশংসা করে বলেন, রফিক হচ্ছেন একজন অত্যন্ত মেধাবী, দক্ষ ও বহুগুনের অধিকারী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি দল ক্ষমতায় থাকার পরও থানা এমনকি প্রশাসনে দালালী, ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডারবাজি, লুঠপাটসহ কোন অনিয়মের সাথে কখনো জড়িত নহেন। তার মতো স্বচ্ছ ও আদর্শবান ছাত্র থাকায় জেলা ছাত্রলীগের কমিটি ছিল একটি আদর্শের প্রতীকও স্বচ্ছ রাজনীতির কেন্দ্র বিন্দু। তবে কিছু নেতাকর্মী যে- দলের ইমেজ সংকটের খোলস গাঁেয় পরেছিলেন একথা কেউ উড়িয়ে দিতে পারবেনা।

জেলা ছাত্রলীগের দুর্যোগ ও ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক ইশতিয়াক আলম পিয়াল বলেন, কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যে নির্ধারিত তারিখ দিয়েছেন সেই তারিখেই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ছাত্রলীগ নেতা দেওয়ান সিজান এনায়েত রেজা বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন হচ্ছে না, অনেক উপজেলায় কমিটি হচ্ছে না। ছাত্রলীগের সম্মেলনের মাধ্যমে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সাংগঠনিক তৎপরতা আরো জোরদার হবে। ছাত্রলীগ নেতা দীপঙ্কর কান্তি দে বলেন, আমরা চাই নির্ধারিত তারিখেই সম্মেলন হোক। এই সম্মেলনের মাধ্যমেই প্রকৃত ছাত্র নেতৃত্ব বেরিয়ে আসুক এটাই আমাদের প্রত্যাশা। জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আরিফ-উল-আলম, শাহ মওদুদ আহমদ ও কাওছার আল-মামুন, মানব সম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল গাফ্ফার সম্মেলনের মাধ্যমে সৎ, যোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্ব বেরিয়ে আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, সময় সম্মেলন না করলে জেলা ও উপজেলার তৃনমূল নেতাকর্মীরা চরম হতাশা ভোগেন। এতে কর্মতৎপরতা শিথিল হয়ে পড়ে। তারা কেন্দ্র ঘোষিত তারিখেই সম্মেলনের মাধ্যমে একটি সুন্দর ও শক্তিশালী কমিটি গঠন করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।  জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, সম্মেলন সফল করতে সব ধরণের প্রস্তুতি চলছে। কেন্দ্র থেকে ১১মার্চ জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারিত হওয়ায় তৃণমূলে ও বইছে আনন্দের জোয়ার বইছে বলে দাবি করন তিনি।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফজলে রাব্বী সরণ বলেন, জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন, সুনামগঞ্জ-২ আসনে উপ-নির্বাচন নিয়ে আমরা ব্যস্ত সময় পার করছি। তবে শত ব্যস্ততার মধ্যেও কেন্দ্র থেকে নির্ধারিত তারিখেই সম্মেলন সম্পন্ন করতে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক দারুস সালাম শাকিল জানান, ১১মার্চ সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত থাকবেন। সম্মেলনের আগেই প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হবে। নেতৃত্বে আসতে ইচ্ছুক নেতাদের কাছ থেকে প্রত্যেকের সিভি গ্রহণ করা হবে। তবে অবশ্যই যোগ্যদের খুঁজে আনা হবে নতুন কমিটিতে।

দলের অপর একটি সুত্র জানায়, ইতিমধ্যে জেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে থাকা ছাত্রলীগের ইমেজ ক্ষুন্নকারি কয়েকজন এবারের নতুন কমিটি থেকে ছিটকে পড়তে পারেন বলে ধারনা করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি দাবিদার তাহিরপুরের জনৈক নেতা জেলা, উপজেলা, ইউনিয়নও বাদাঘাট সরকারি কলেজ কমিটিতে পদ পাইয়ে দেবার কথা বলে স্থানীয় সুজন মিয়াসহ ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর কাছ থেকে কয়েক লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন।

উল্ল্যেখ যে, ২০১১সালে ফজলে রাব্বী সরণকে সভাপতি ও রফিক আহমেদ চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক মনোনিত করে ১০সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় কমিটি। পরবর্তীতে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ঠিক রেখে ২০১৪ সালে ১২১সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়।

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterEmail this to someoneShare on LinkedIn