জাতীয় পার্টির মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন করার চেষ্টা হচ্ছে
- সময় : ১১:৫৫:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫
- / ৪০ ভিউ
জুলাই গণহত্যাকারীদের বিচারের রায় কার্যকর এবং দল হিসেবে আওয়ামী লীগ ও জোটসঙ্গীদের বিচারের দাবিতে গণমিছিল আয়োজন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শনিবার বিকাল ৪টার পর রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ের নিচ থেকে গণমিছিলটি শুরু হয়ে শাহবাগ মোড় হয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এনসিপি ছাড়াও গণমিছিলে অংশ নেয় জাতীয় শ্রমিক শক্তি, জাতীয় ছাত্রশক্তি ও যুব শক্তির নেতা-কর্মীরা। এ সময় মিছিলকারীদের ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘মুজিববাদ মুজিববাদ, মুর্দাবাদ মুর্দাবাদ’, ‘দড়ি লাগলে দড়ি নে, হাসিনারে ফাঁসি দে’, ‘লীগ ধর, জেলে ভর’ প্রভৃতি স্লোগান দিতে দেখা যায়।
মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, হাসিনার রায় অতিদ্রুত কার্যকর করা উচিত। এ রায় কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, এটি বাংলাদেশের নির্যাতিত মানুষের ন্যায়বিচার। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ ইনসাফ পাবে। শেখ হাসিনাকে ফেরাতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করবে বলে আমরা আশা করছি। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলো তৎপরতা শুরু করেছে। তাদের প্রতি আহ্বান জানাই বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে হাসিনার বিচার নিয়ে কোনো আপস করবেন না। আমরা দেখতে পাচ্ছি জাতীয় পার্টির মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে এনসিপি মাঠে থাকবে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত ৫০ বছর ধরে ভারত বন্ধু রাষ্ট্রের নামে বাংলাদেশকে শোষণ করে গিয়েছে। ভারতের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ সহযোগিতায় বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছিল। তারা শেখ হাসিনাকে জায়গা দিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে। তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভারত সরকারের উদ্দেশ্যে বলতে চাই আপনারা শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন সমপর্ক গড়ে তুলুন।
দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি সংসদে যাওয়ার জন্য সবাই ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছে। কিন্তু নির্বাচন ঘিরে ভোট ব্যাংক ভারী করার জন্য রাজনৈতিক দলগুলো ভারত প্রশ্নে, আওয়ামী লীগের বিচার ও জাতীয় পার্টির প্রশ্নে মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যতদিন এনসিপি থাকবে ততদিন আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারবে না। আমাদের দাবি সুস্পষ্ট শেখ হাসিনা দলের সভাপতি হিসেবে গণহত্যার নির্দেশ দিয়েছিল তাই দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার করতে হবে। পাশপাশি তাদের সহযোগী জাতীয় পার্টিকেও বিচারের আওয়তায় আনতে হবে। এ নেতা আরও বলেন, ভারত যতই চোখ রাঙানি দিক না কেন, আমরা ভারতকে ভয় পাই না। যদি কোনো দল ভারতের সঙ্গে আঁতাত করে ক্ষমতায় যেতে চায়, তাদের পরিণতি হাসিনার মতো হবে বলে সাবধান করেন তিনি। শেখ হাসিনার পক্ষে বিভিন্ন শিক্ষকদের প্রেস রিলিজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিছু শিক্ষক শেখ হাসিনার পক্ষে প্রেস রিলিজ দিচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় যেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। নাহলে তাদেরকে বিদায়ের জন্য এ ছাত্র শক্তি একাই যথেষ্ট।
মিছিলে দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, সামান্তা শারমিন, সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও সিনিয়র সদস্য সচিব তাসনিম জারাসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




















