০৪:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফেসবুক থেকেঃ কিসের স্বাধীনতা

রিপোর্টার
  • সময় : ১০:৪৮:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১২৯ ভিউ

সকাল সকাল দেখলাম একজন আমার এক পোস্টে কমেন্ট করেছে, ভারতীয় আগ্রাসনের মধ্যে কিসের স্বাধীনতা।লোকটার লেখার স্টাইলে দেখলাম লোকটা শিক্ষিত এজন্য ভাবলাম, সংক্ষিপ্ত আকারে উত্তর না দিলে অন্যায় হয়ে যাবে। আমি জানি এই লেখার জন্য বিএনপি জামায়াতের অনেক ছেলেরা গালিগালাজ করবে। অশিক্ষিত মূর্খরা এ ধরনের কথা বলে সেটা মানা যায়। এজন্য আমি তাদের কমেন্টস এর কোন উত্তর দেইনা। মূর্খরা যা মন চায় তা বলতে পারে লিখতে পারে, তাদের কোন জবাবদীহিতা থাকেনা।

কিন্তু আপনার লেখার স্টাইলে বুঝা যাচ্ছে আপনি একজন শিক্ষিত মানুষ, অথচ আপনিও ভারতের আধিপত্যের কথা বললেন যেটা একেবারেই মিথ্যা ও বানোয়াট। ভারতীয় আগ্রাসনের কথা বললেন অথচ ভারত থেকে চাউল না দিলে আমাদের দেশে চাউলের কেজিতে ২০/৩০ টাকা দাম বেড়ে যায়। ভারত থেকে পেয়াজ না দিলে পেঁয়াজের কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়ে যায়। ভারত থেকে কাঁচা মরিচ না দিলে কাঁচা মরিচের দাম ১২০০ টাকা পর্যন্ত উঠে। এভাবে গার্মেন্টস এর কাঁচামাল ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল থেকে শুরু করে সবকিছু ভারত থেকে সহজে এবং কম দামে আমদানি করতে পারাকে আপনি ভারতীয় আগ্রাসন বলছেন ?

আগ্রাসন করে ভারত কি আমাদের সীমান্তে কতটুকু জমি দখল করে নিয়েছে ? বরং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৮০ বছরের সমস্যা ছিটমহল সমস্যার সমাধান করে দশ হাজার একর জমি বাংলাদেশের মানচিত্রে যোগ করেছে, এটাকে ভারতীয় আগ্রাসন বলছেন ? আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে বিশাল সমুদ্র সীমা ভারত থেকে জয় করেছেন আমাদের প্রাণপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী, এটাকে ভারতীয় আগ্রাসন বলছেন ? ভারত কিভাবে বাংলাদেশে আগ্রাসন চালালো যদি একটু বিস্তারিত বলতেন জনগণ বুঝত আপনার মত শিক্ষিত মানুষেরা কিভাবে গুজব ছড়ায়। গত ১৫ মাস আপনাদের পছন্দের সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায় ভারতের সাথে করা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যুক্তি গুলোর মধ্যে একটি অসম চুক্তি বের করে দেখাতে পারেনি। তারপরও আপনারা বলেন ভারতীয় আগ্রাসনে বাংলাদেশ।

পুরো বাংলাদেশটা দুবার দখলে নেওয়ার সুযোগ হয়েছিল ভারতের, কিন্তু তারা নেয়নি। প্রথমবার ১৯৬৫ সালে ভারত পাকিস্তান শিয়াল কোর্টের যুদ্ধের সময় পুরো পূর্ব পাকিস্তানকে অরক্ষিত রেখে ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট এর সকল সেনাকে পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেদিন ভারত চাইলে সহজেই পূর্ব পাকিস্তান দখলে নিয়ে যেতে পারতো। আরেকবার ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর। সেদিন ভারতীয় মিত্র বাহিনী ফেরত না গেলে বাংলাদেশের কিছুই করার ছিলনা। কিন্তু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে অত্যন্ত কম সময়ের মধ্যে ভারত তাদের সৈন্য ফেরত নিয়েছিল। যা বিশ্বের যুদ্ধের ইতিহাসে বিরল, ৯০ দিনের মধ্যে মিত্রবাহিনীর সেনা ফেরত গেছে।

আসলে ভারত বিরোধিতা আমাদের দেশের কিছু মানুষের রক্তে। এবং পারিবারিকভাবে এটা তাদের চুলকানি রোগে পরিণত হয়েছে। বিবেক বুদ্ধি লাজ লজ্জা থাকা মানুষ এ ধরনের কথা বলতে পারেনা। আমাদের জাতিতে বেশ কিছু মানুষ ইতিমধ্যে একেবারেই অকৃতজ্ঞতার চরমসীমায় পৌঁছে গেছে। সকালে উঠে নাস্তা খায় ভারতের ডিম টমেটো কাঁচা মরিচ দিয়ে আর স্লোগান দেয় পাকিস্তান জিন্দাবাদ। নিচে পোস্টার গুলোতে কিছু মানুষ দেখছেন মূলত এরাই সিন্ডিকেট সদস্য। প্রতিবেশী ভারতের বিরোধীতা ও ভারতের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের মূল কারিগর এরাই। এদের প্ররোচনায় সহযোগিতায় বাংলাদেশের কিছু মানুষ ভারত বিরোধী হয়ে উঠেছে। অথচ এই মানুষগুলোই বছরে দুইবার ভারতে যায় একবার চিকিৎসার জন্য আরেকবার শপিং করতে। মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সহযোগিতার কথা এরা স্বীকার করেনা। কারণ এই চক্রের প্রায় সবাই স্বাধীনতা বিরোধী ছিল মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল।-মোঃ সাঈদ মজুমদার। তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ফেসবুক থেকেঃ কিসের স্বাধীনতা

সময় : ১০:৪৮:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫

সকাল সকাল দেখলাম একজন আমার এক পোস্টে কমেন্ট করেছে, ভারতীয় আগ্রাসনের মধ্যে কিসের স্বাধীনতা।লোকটার লেখার স্টাইলে দেখলাম লোকটা শিক্ষিত এজন্য ভাবলাম, সংক্ষিপ্ত আকারে উত্তর না দিলে অন্যায় হয়ে যাবে। আমি জানি এই লেখার জন্য বিএনপি জামায়াতের অনেক ছেলেরা গালিগালাজ করবে। অশিক্ষিত মূর্খরা এ ধরনের কথা বলে সেটা মানা যায়। এজন্য আমি তাদের কমেন্টস এর কোন উত্তর দেইনা। মূর্খরা যা মন চায় তা বলতে পারে লিখতে পারে, তাদের কোন জবাবদীহিতা থাকেনা।

কিন্তু আপনার লেখার স্টাইলে বুঝা যাচ্ছে আপনি একজন শিক্ষিত মানুষ, অথচ আপনিও ভারতের আধিপত্যের কথা বললেন যেটা একেবারেই মিথ্যা ও বানোয়াট। ভারতীয় আগ্রাসনের কথা বললেন অথচ ভারত থেকে চাউল না দিলে আমাদের দেশে চাউলের কেজিতে ২০/৩০ টাকা দাম বেড়ে যায়। ভারত থেকে পেয়াজ না দিলে পেঁয়াজের কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়ে যায়। ভারত থেকে কাঁচা মরিচ না দিলে কাঁচা মরিচের দাম ১২০০ টাকা পর্যন্ত উঠে। এভাবে গার্মেন্টস এর কাঁচামাল ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল থেকে শুরু করে সবকিছু ভারত থেকে সহজে এবং কম দামে আমদানি করতে পারাকে আপনি ভারতীয় আগ্রাসন বলছেন ?

আগ্রাসন করে ভারত কি আমাদের সীমান্তে কতটুকু জমি দখল করে নিয়েছে ? বরং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৮০ বছরের সমস্যা ছিটমহল সমস্যার সমাধান করে দশ হাজার একর জমি বাংলাদেশের মানচিত্রে যোগ করেছে, এটাকে ভারতীয় আগ্রাসন বলছেন ? আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে বিশাল সমুদ্র সীমা ভারত থেকে জয় করেছেন আমাদের প্রাণপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী, এটাকে ভারতীয় আগ্রাসন বলছেন ? ভারত কিভাবে বাংলাদেশে আগ্রাসন চালালো যদি একটু বিস্তারিত বলতেন জনগণ বুঝত আপনার মত শিক্ষিত মানুষেরা কিভাবে গুজব ছড়ায়। গত ১৫ মাস আপনাদের পছন্দের সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায় ভারতের সাথে করা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যুক্তি গুলোর মধ্যে একটি অসম চুক্তি বের করে দেখাতে পারেনি। তারপরও আপনারা বলেন ভারতীয় আগ্রাসনে বাংলাদেশ।

পুরো বাংলাদেশটা দুবার দখলে নেওয়ার সুযোগ হয়েছিল ভারতের, কিন্তু তারা নেয়নি। প্রথমবার ১৯৬৫ সালে ভারত পাকিস্তান শিয়াল কোর্টের যুদ্ধের সময় পুরো পূর্ব পাকিস্তানকে অরক্ষিত রেখে ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট এর সকল সেনাকে পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেদিন ভারত চাইলে সহজেই পূর্ব পাকিস্তান দখলে নিয়ে যেতে পারতো। আরেকবার ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর। সেদিন ভারতীয় মিত্র বাহিনী ফেরত না গেলে বাংলাদেশের কিছুই করার ছিলনা। কিন্তু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে অত্যন্ত কম সময়ের মধ্যে ভারত তাদের সৈন্য ফেরত নিয়েছিল। যা বিশ্বের যুদ্ধের ইতিহাসে বিরল, ৯০ দিনের মধ্যে মিত্রবাহিনীর সেনা ফেরত গেছে।

আসলে ভারত বিরোধিতা আমাদের দেশের কিছু মানুষের রক্তে। এবং পারিবারিকভাবে এটা তাদের চুলকানি রোগে পরিণত হয়েছে। বিবেক বুদ্ধি লাজ লজ্জা থাকা মানুষ এ ধরনের কথা বলতে পারেনা। আমাদের জাতিতে বেশ কিছু মানুষ ইতিমধ্যে একেবারেই অকৃতজ্ঞতার চরমসীমায় পৌঁছে গেছে। সকালে উঠে নাস্তা খায় ভারতের ডিম টমেটো কাঁচা মরিচ দিয়ে আর স্লোগান দেয় পাকিস্তান জিন্দাবাদ। নিচে পোস্টার গুলোতে কিছু মানুষ দেখছেন মূলত এরাই সিন্ডিকেট সদস্য। প্রতিবেশী ভারতের বিরোধীতা ও ভারতের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের মূল কারিগর এরাই। এদের প্ররোচনায় সহযোগিতায় বাংলাদেশের কিছু মানুষ ভারত বিরোধী হয়ে উঠেছে। অথচ এই মানুষগুলোই বছরে দুইবার ভারতে যায় একবার চিকিৎসার জন্য আরেকবার শপিং করতে। মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সহযোগিতার কথা এরা স্বীকার করেনা। কারণ এই চক্রের প্রায় সবাই স্বাধীনতা বিরোধী ছিল মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল।-মোঃ সাঈদ মজুমদার। তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি।