০৭:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এডমিন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেন তানিয়া আক্তার তিন্নি

রিপোর্টার
  • সময় : ০৬:১৪:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২৭ ভিউ

হিল্লোল পুরকায়স্থ -দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আব্দুল খালেকের ছোট মেয়ে, হাওরপাড়ের গর্ব তানিয়া আক্তার তিন্নি ৪৫তম বিসিএস পরীক্ষায় প্রশাসন (এডমিন) ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাঁর এ অর্জনে পুরো রফিনগর গ্রামসহ এলাকার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে আনন্দের জোয়ার বইছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সন্তানদের উন্নত শিক্ষার সুযোগ করে দিতে ২০০৫ সালে তিন্নির পিতা খালেকুজ্জামান পরিবারসহ সিলেটে স্থায়ী হন। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী তিন্নি সিলেট বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে গোল্ডেন এ—প্লাস নিয়ে এসএসসি পাস করেন। পরে সিলেট এমসি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসিতে জিপিএ—৫ অর্জন করেন। এরপর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন তিনি।

পরিবারের অবদান স্মরণ করে তিন্নি বলেন, আমার বড় বোন তানভিন লায়লা শিরিন আপুর অবদান না থাকলে আমি এতদূর আসতে পারতাম না। ছোটবেলা থেকে আপু আমাকে হাতে—কলমে শিখিয়েছে। বাবা মারা যাওয়ার পর আম্মু আমাদের জন্য অনেক কষ্ট করেছেন। স্কুল—কলেজে আসা—যাওয়া থেকে শুরু করে পরীক্ষা দিতে ঢাকা যাওয়া—সব জায়গাতেই আম্মু ও আপু ছিলেন ছায়ার মতো। তিনি বলেন, বাবা বেঁচে থাকতে আমাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখতেন। আমার জন্য অনেক পরিশ্রম করেছেন। আমাকে উৎসাহ দিতেন। বাবার কথা মনে হলে আমার এখনও অনেক কষ্ট লাগে। আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেই তার ১ সপ্তাহ আগে বাবা মারা যান।

তিন্নি আরও বলেন, ২০২৪ সালে বিয়ের পর স্বামীর সহযোগিতায় তাঁকে আরও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে বলেও জানান তিনি। তিন্নি বলেন, এডমিন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার ক্ষেত্রে আমার স্বামীর সহায়তা সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে ছিল আমার। এডমিন ক্যাডার বেছে নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিন্নি বলেন, প্রথমদিকে আমার ইচ্ছে ছিল পুলিশ প্রশাসনে যোগ দেওয়ার। কিন্তু পরে এডমিন ক্যাডারের দিকে ঝুঁকে পড়ি।

অবশ্য এর পিছনে তিনটা কারণ আছে। বিসিএসসে ফাস্ট চয়েজ দেওয়ার বিষয় নিয়ে এক সিনিয়র ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে দেখি, তিনি নিজে এডমিন ক্যাডারে থাকা সত্ত্বেও এ ক্যাডারটি সাজেস্ট করেননি। বিষয়টি আমাকে আরও কৌতূহলী করে তোলে।

এরপর বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় একদিন বেড়াতে গিয়ে  হাওর বিলাসসহ  উপজেলা প্রশাসনের কিছু উন্নয়নমূলক স্থাপনা দেখে মনে হলো—একজন ইউএনও চাইলে একটি উপজেলাকে বদলে দিতে পারেন। তখন থেকেই মনে স্বপ্ন জন্মে—আমি ইউএনও হয়ে বিভিন্ন উপজেলার উন্নয়নের রূপকার হতে চাই।

তিন নম্বর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন সাহিত্যের প্রতি তাঁর অনুরাগের কথা তিনি বলেন সমরেশ মজুমদারের সাতকাহন উপন্যাসের ‘দীপাবলী’ চরিত্রটি আমাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। একজন প্রশাসক হিসেবে সমাজে উন্নয়নমূলক পরিবর্তন আনার স্বপ্ন আরও জোরালো হয়েছে সেখানে থেকেই।

এদিকে তানিয়া আক্তার তিন্নির প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্তির খবরে রফিনগর গ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পরিবার, আত্মীয়—স্বজন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সফল কর্মজীবন কামনা করেছেন। তান্নির এই অর্জন হাওরপাড়ের মেয়েদের জন্য এক অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে থাকবে — এমনটাই মনে করছেন উপজেলার স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি সামসুল ইসলাম খেজুর, সন্দীপন দাস, জাহির মিয়া।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এডমিন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেন তানিয়া আক্তার তিন্নি

সময় : ০৬:১৪:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

হিল্লোল পুরকায়স্থ -দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আব্দুল খালেকের ছোট মেয়ে, হাওরপাড়ের গর্ব তানিয়া আক্তার তিন্নি ৪৫তম বিসিএস পরীক্ষায় প্রশাসন (এডমিন) ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাঁর এ অর্জনে পুরো রফিনগর গ্রামসহ এলাকার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে আনন্দের জোয়ার বইছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সন্তানদের উন্নত শিক্ষার সুযোগ করে দিতে ২০০৫ সালে তিন্নির পিতা খালেকুজ্জামান পরিবারসহ সিলেটে স্থায়ী হন। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী তিন্নি সিলেট বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে গোল্ডেন এ—প্লাস নিয়ে এসএসসি পাস করেন। পরে সিলেট এমসি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসিতে জিপিএ—৫ অর্জন করেন। এরপর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন তিনি।

পরিবারের অবদান স্মরণ করে তিন্নি বলেন, আমার বড় বোন তানভিন লায়লা শিরিন আপুর অবদান না থাকলে আমি এতদূর আসতে পারতাম না। ছোটবেলা থেকে আপু আমাকে হাতে—কলমে শিখিয়েছে। বাবা মারা যাওয়ার পর আম্মু আমাদের জন্য অনেক কষ্ট করেছেন। স্কুল—কলেজে আসা—যাওয়া থেকে শুরু করে পরীক্ষা দিতে ঢাকা যাওয়া—সব জায়গাতেই আম্মু ও আপু ছিলেন ছায়ার মতো। তিনি বলেন, বাবা বেঁচে থাকতে আমাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখতেন। আমার জন্য অনেক পরিশ্রম করেছেন। আমাকে উৎসাহ দিতেন। বাবার কথা মনে হলে আমার এখনও অনেক কষ্ট লাগে। আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেই তার ১ সপ্তাহ আগে বাবা মারা যান।

তিন্নি আরও বলেন, ২০২৪ সালে বিয়ের পর স্বামীর সহযোগিতায় তাঁকে আরও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে বলেও জানান তিনি। তিন্নি বলেন, এডমিন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার ক্ষেত্রে আমার স্বামীর সহায়তা সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে ছিল আমার। এডমিন ক্যাডার বেছে নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিন্নি বলেন, প্রথমদিকে আমার ইচ্ছে ছিল পুলিশ প্রশাসনে যোগ দেওয়ার। কিন্তু পরে এডমিন ক্যাডারের দিকে ঝুঁকে পড়ি।

অবশ্য এর পিছনে তিনটা কারণ আছে। বিসিএসসে ফাস্ট চয়েজ দেওয়ার বিষয় নিয়ে এক সিনিয়র ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে দেখি, তিনি নিজে এডমিন ক্যাডারে থাকা সত্ত্বেও এ ক্যাডারটি সাজেস্ট করেননি। বিষয়টি আমাকে আরও কৌতূহলী করে তোলে।

এরপর বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় একদিন বেড়াতে গিয়ে  হাওর বিলাসসহ  উপজেলা প্রশাসনের কিছু উন্নয়নমূলক স্থাপনা দেখে মনে হলো—একজন ইউএনও চাইলে একটি উপজেলাকে বদলে দিতে পারেন। তখন থেকেই মনে স্বপ্ন জন্মে—আমি ইউএনও হয়ে বিভিন্ন উপজেলার উন্নয়নের রূপকার হতে চাই।

তিন নম্বর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন সাহিত্যের প্রতি তাঁর অনুরাগের কথা তিনি বলেন সমরেশ মজুমদারের সাতকাহন উপন্যাসের ‘দীপাবলী’ চরিত্রটি আমাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। একজন প্রশাসক হিসেবে সমাজে উন্নয়নমূলক পরিবর্তন আনার স্বপ্ন আরও জোরালো হয়েছে সেখানে থেকেই।

এদিকে তানিয়া আক্তার তিন্নির প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্তির খবরে রফিনগর গ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পরিবার, আত্মীয়—স্বজন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সফল কর্মজীবন কামনা করেছেন। তান্নির এই অর্জন হাওরপাড়ের মেয়েদের জন্য এক অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে থাকবে — এমনটাই মনে করছেন উপজেলার স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি সামসুল ইসলাম খেজুর, সন্দীপন দাস, জাহির মিয়া।