কেন ভিসা পাচ্ছেন না বাংলাদেশিরা?
- সময় : ০৯:৪১:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১১৫ ভিউ
বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য বিভিন্ন দেশের ভিসা পাওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞ ও ভুক্তভোগীদের মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অবৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা—সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে একটি নেতিবাচক পরিবেশ। যার প্রভাব পড়ছে ভিসা নীতিতেও।
সম্প্রতি ডয়েচে ভেলের এক প্রতিবেদনে ভিসা প্রত্যাখ্যানের অভিজ্ঞতা ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামতের ভিত্তিতে উঠে এসেছে নানা দিক।
আর্কিটেক্ট মো. মারুফ হাসান জানান, তিনি কানাডা ও তুরস্কে যাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন, কিন্তু দুই দেশই ভিসা দেয়নি। তাঁর ভাষায়, “মনে হচ্ছে সবাই ভাবছে আমরা পালানোর চেষ্টা করছি। ব্যাংকে ৬০ লাখ টাকার ব্যালান্স দেখালেও বলেছে টাকাটা নাকি যথেষ্ট নয়। এটি ভিসা না দেওয়ার অজুহাত।”
এমিরেটস এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা আজমাইন আশরাফ বলেন, বিদেশ ভ্রমণে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও এবার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস থেকে ভিসা পাননি। তাঁর মন্তব্য, “যেদিন পাসপোর্ট ফেরত দেয়, সেদিন প্রায় ৪০-৪৫টি পরিবারকে ভিসা দেয়নি।”
স্বর্ণকুটির ডেভেলপারের চেয়ারম্যান প্রদীপ চন্দ্র নন্দী জানান, দেশে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিক হওয়া, কোটি টাকার লেনদেন থাকা এবং ৪০টিরও বেশি দেশ ভ্রমণ করার পরও তিনি যুক্তরাজ্যের ভিসা পাননি। তাঁর হতাশা—“বুঝতে পারছি না কী কারণে ভিসা প্রত্যাখ্যান করলো।”
লেক্সাস ট্যুরস অ্যান্ড ট্র্যাভেলসের স্বত্বাধিকারী অজিত কুমার সাহা মনে করেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর “অনেক বাংলাদেশি দেশ ছাড়বে” এমন গুঞ্জন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে দূতাবাসগুলো ভাবছে, আবেদনকারীরা হয়তো আর দেশে ফিরবে না। সেই সঙ্গে পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন তুলে নেওয়ার কারণে রোহিঙ্গাদের হাতে পাসপোর্ট যাওয়ার বিষয়টি বিদেশি কর্তৃপক্ষকে আরও সতর্ক করেছে।
সাবেক কূটনীতিক মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বলেন, দেশের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক অস্থিরতা আন্তর্জাতিক মহলে নেতিবাচক বার্তা পাঠাচ্ছে। ভারত যখন ভিসা বন্ধ করল, তখন বিশ্বের অনেক দেশই মনে করেছে বাংলাদেশের ভেতরে বড় কোনো সমস্যা রয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আ ন হ মুনিরুজ্জামান মনে করেন, বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশিদের আবেদনকে সন্দেহের চোখে দেখছে। তিনি বলেন, “মানবপাচারে বাংলাদেশের অনেক লোক জড়িত—এ তথ্য বিদেশে খুব গুরুত্ব পায়। ফলে পাসপোর্ট দেখলেই তারা সতর্ক হয়ে যায়।”
ব্র্যাকের অভিবাসন প্রোগ্রামের পরিচালক শরিফুল হাসান মনে করেন, আন্তর্জাতিকভাবে ধারণা তৈরি হয়েছে যে অনেক বাংলাদেশি বৈধ ভিসা নিয়েও আর ফিরে আসে না। তিনি বলেন, “মেডিকেল ভিসায় যারা যাচ্ছে তারা রোগী নয়, ট্যুরিস্ট ভিসায় যারা যাচ্ছে তারা পর্যটক নয়—এমন ধারণা তৈরি হওয়ায় ভিসা নিয়ে হয়রানি বাড়ছে। এর পেছনে সুশাসনের ঘাটতি বড় কারণ।”
অ্যাসোসিয়েশন অব ট্র্যাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের সভাপতি রাফিউজ্জামান রাফি জানান, ভারত, ইউএই, উজবেকিস্তান, কাতার, ভিয়েতনাম, ওমান, কুয়েত, বাহরাইন—এসব দেশ বর্তমানে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের ভিসা দিচ্ছে না। থাইল্যান্ড সীমিত ভিসা দিচ্ছে, তবে প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীর; লাগছে কমপক্ষে ৪৫ দিন।
অন্যদিকে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, জাপান—সবাই ভিসা দিচ্ছে খুব কম। তাঁর মতে, “আমাদের পাসপোর্টের মান কমে যাচ্ছে। অতীতে ভিসা ‘মিসইউজ’ করার প্রভাবও এখন দেখা যাচ্ছে।”




















