সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ: সাত বছরে ৭৭ লাখ টাকা যাচ্ছে তাই প্রকল্পে ব্যয়
- সময় : ০৩:৫৫:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১৪৫ ভিউ
সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণের ফুলের বাগানেই পাঁচ আগস্টের আগের সাত বছরে খরচ হয়েছে ৭৭ লাখ টাকা। পরিষদের সামনে নানা জাতের কিছু ফুলের গাছ এখনো আছে, তবে গাছে ফুল নেই। কিছু গাছ মরে গেছে। এই বাগান সংস্কার, সৌন্দর্যবর্ধন, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ, আলোকসজ্জা এবং সামনের ফটকসহ নানা নামে গত সাত বছরে এখানে নয়টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে ৭৭ লাখ টাকা। খোঁজ নিয়ে দেখা যাচ্ছে, কোনো প্রকল্পে কাজ হয়েছে নামে মাত্র, কোনটি ভুয়া। ফটক নির্মাণের ২৫ লাখ টাকার কাজে বড়জোড় ব্যয় হয়েছে পাঁচ লাখ টাকা।
শুধু বাগান নয়, পরিষদ ভবন, রেস্ট হাউস, মিলনায়তন, চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কক্ষ সংস্কার, সৌন্দর্যবর্ধন, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবন সংস্কার, হাওরে বাঁশ—বস্তা সরবরাহ, করোনাকালে ত্রাণ বিতরণ ও সুরক্ষাসামগ্রী ক্রয়, খেয়াঘাট ইজারা, মসজিদ—ঈদগাহ, মন্দির—শ্মশান উন্নয়ন ও সংস্কারের নামে গত সাত বছর ইচ্ছেমতো এমন অনেক প্রকল্প নিয়ে সরকারি টাকা লোপাট হয়েছে জেলা পরিষদে। কোনটিতে কাজ হয়েছে নামমাত্র, কোনটি ভুয়া, আবার কিছু প্রকল্পে পুরাতন কাজের ছবি ব্যবহার করে দ্বিতীয়বার বিল তোলা হয়েছে। পরিষদের অভ্যন্তরীণ তদন্তে এসব তথ্য বেরিয়ে আসছে। এসব অনিয়মের সঙ্গে পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নূরুল হুদা মুকুট ও কয়েকজন কর্মকর্তা—কর্মচারী যুক্ত আছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্প্রতি, জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসকের পক্ষ থেকে অনিয়ম— দুনীতি ও লুটপাটের কিছু তথ্য চিঠি দিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদককে) জানানো হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সাবেক চেয়ারম্যান সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নূরুল হুদা মুকুট আত্মগোপনে আছেন। গত বছরের ৫ আগস্ট সুনামগঞ্জ শহরে তাঁর বাড়িতে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল হুদা মুকুট জেলা পরিষদে প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর। দ্বিতীয়বার ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর।
২০২১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়ম—দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন পরিষদের ১০ জন সদস্য। এরপর ওই সদস্যরা আর পরিষদে আসতে পারেন নি। তাঁদের সম্মানী ভাতা আটকে দেওয়া হয়। জুলাই অভ্যুত্থানের পর পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ হলে বকেয়া ভাতার জন্য আবেদন করেছেন তাঁরা। একাধিক সদস্য বলেছেন, পরিষদের সদস্যদের কোনো মতামত চেয়ারম্যান নিতেন না। ক্ষমতার দাপটে কিছু কর্মকর্তাদের নিয়ে তিনি ইচ্ছেমতো প্রকল্প গ্রহণ ও লুটপাট করেছেন। লিখিতভাবে অভিযোগ দেওয়ার পরও দলীয় প্রভাব ও জেলার একজন মন্ত্রীর আশীর্বাদ থাকায় তখন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় নি।
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের মল্লিকপুর এলাকায় জেলা পরিষদ কার্যালয়ের অবস্থান। বর্তমান ভবনটি ১৯৯৮ সালে নির্মাণ করা। পরিষদের প্রকল্প বাস্তবায়নের নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, বাগান সংস্কারের নামে ২০২৬—১৭ অর্থ বছরে ২০ লাখ টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। পরের বছর একই বাগান সংস্কারে আরও তিন প্রকল্পে ১৭ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়। পরিষদের অভ্যন্তরীণ তদন্তে বলা হয়েছে, এসব প্রকল্প ছিল ভুয়া। ২০১৯—২০ অর্থ বছরে আবার এখানে নান্দনিক বাগান নির্মাণ নামে আরও ১০ লাখ টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়। কিছু ফুলের চারা ও কিছু সার কিনে পুরো প্রকল্পের টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। এরপর এখানে আবার আলোকসজ্জা ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের নামে আরও পাঁচ লাখ টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে বলে পরিষদের ২০১৯ সালের ১৪ আগস্টের সভার কার্যবিবরণীতে উল্লেখ রয়েছে। পরিষদ ভবনের সামনে আগেই ফটক ছিল। এখানে ২০১৭—১৮ অর্থ বছরে দৃষ্টিনন্দন গেইট নির্মাণের জন্য ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়। এ বিষয়ে পরিষদের অভ্যন্তরীণ তদন্তের মন্তব্যে বলা হয়েছে, এই প্রকল্পে মাত্র পাঁচ লাখ টাকা ব্যয় করে বাকি টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বাগানের ভিতরে শাপলা ফুলের আদলে একটি পাকা কাঠামো আছে, যেটি অনেক আগে নির্মাণ করা।
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের স্টেডিয়ামের পাশে পরিষদের একটি রেস্ট হাউস আছে। এটি ১৯৯১ সালে নির্মাণ করা। এছাড়া জেলার সাতটি উপজেলায় পরিষদের আরও সাতটি রেস্ট হাউজ আছে। এসব রেস্ট হাউস সংস্কার ও নির্মাণ, আসবাব, ক্রোকারিজ সামগ্রী ক্রয়ের নামে গত সাত বছরে ৪১ টি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলে কাগজেপত্রে উল্লেখ আছে। এতে ব্যয় হয়েছে দুই কোটি ৪৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯১৬ টাকা।
জেলা শহরের রেস্ট হাউসে ১৪টি প্রকল্প নেওয়া হয়। এতে ব্যয় হয়েছে ৮৭ লাখ টাকা। এই ১৪ টি প্রকল্পের মধ্যে ২৫ লাখ টাকার দুটি প্রকল্প আছে রেস্ট হাউসের পাশে পতিত জমি উন্নয়নের নামে। ২০১৮—১৯ অর্থ বছরে ১০ লাখ এবং পরের বছর প্রকল্প নেওয়া হয় আরও ১৫ লাখ টাকার। প্রথম নেওয়া প্রকল্পে ওই জমিতে কিছু বালু ফেলা হয়। কিন্তু দ্বিতীয়টির কোনো কাজ না করে আগের বছরের কাজ দেখিয়ে বিল তুলে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া একই রেস্ট হাউসের ভবন ও সীমানাপ্রাচীর, দরজা—জানালা রং করা ও পরিবর্তন, ডরমেটরি সংস্কার, কক্ষ সংস্কার ও নির্মাণ, আসবাবক্রয় দেখিয়ে বাকি প্রকল্পগুলো নেওয়া হয়।
কাগজপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, একই নামে বারবার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ২০২০—২১ অর্থ বছরে নেওয়া আসবাব ক্রয়ের প্রায় চার লাখ টাকার একটি প্রকল্প সম্পূর্ণ ভুয়া বলে যাচাই করে উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে জেলার শাল্লায় রেস্ট হাউস সংস্কারে চারটি প্রকল্পে ২৩ লাখ, ধর্মপাশায় একটি প্রকল্পে ১০ লাখ, ছাতকে চারটি প্রকল্পে প্রায় ৩৮ লাখ, জগন্নাথপুরে তিনটি প্রকল্পে প্রায় ১১ লাখ, দোয়ারাবাজারে দুইটি প্রকল্পে প্রায় সাত লাখ, দিরাইয়ে দুটি প্রকল্পে ২৫ লাখ, তাহিরপুরে একটি প্রকল্পে তিন লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এছাড়া এসব রেস্ট হাউসে আসবাব, ক্রোকারিজ ক্রয়সহ নানা নামে আরও নয়টি প্রকল্পে প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এসব প্রকল্প যাচাই করে বেশির ভাগই যথাযথভাবে কাজ হয় নি এবং কিছু কিছু প্রকল্প ভুয়া বলে পেয়েছে পরিষদের একটি তদন্ত দল
সরেজমিনে সদরের রেস্ট হাউজে গিয়ে দেখা গেছে, ভবনের উপর—নিচ মিলে ১৪ টি কক্ষ আছে। দ্বিতীয়তলা ১৯৯৭ সালে বর্ধিত করা হয়। এই কক্ষগুলো বারবার সংস্কার, রং করা, গ্যারেজ নির্মাণ এসব নামে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ আছে, এসব প্রকল্পের কাজ নামেমাত্র হয়েছে।
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের তেঘরিয়া এলাকায় একটি ঈদগাহ ও পাশে কবরস্থান রয়েছে। এটি সাবেক চেয়ারম্যান নিজের এলাকায় অবস্থিত। এই ঈদগাহের উন্নয়নে বিভিন্ন সময়ে আটটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় আড়াই কোটি টাকা। ঈদগাহের গেইট, মিনার, সীমানাপ্রাচীর, মাঠ সলিং, সিসিকরণে ২০১৬—২০১৭ সালে প্রথম এক কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়। ২০১৮—২০১৯ অর্থ বছরে পাশের কবরস্থানের গেইট, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণে ২০ লাখ এবং উন্নয়নের ১৯ লাখ ৭০ হাজার টাকার দুটি প্রকল্প নেওয়া হয়। এই প্রকল্প যাচাই—বাছাই করে দেখা গেছে এর আগে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ ও উন্নয়নের একটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। দ্বিতীয় প্রকল্পের কোনো কাজ হয় নি। প্রথমটির ছবি দেখিয়ে দ্বিতীয় প্রকল্পের বিল তোলা হয়েছে। এছাড়া ঈদগাহের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে একই বছর আরও ৪৯ লাখ টাকার আরেকটি প্রকল্প নেওয়া হয়। ২০১৯—২০২০ অর্থ বছরে ঈদগাহের টাইসল করা হবে বলে আরেকটি প্রকল্প নেওয়া হয় ১০ লাখ টাকার। সর্বশেষ ২০২২—২০২৩ সালে আবার ঈদগাহ ও কবরস্থানের উন্নয়ন দেখিয়ে আরও ১৫ লাখ টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে।
২০১৭ সালে সুনামগঞ্জের হাওরে ব্যাপক ফসলহানির ঘটনা ঘটে। অকাল বন্যা থেকে ফসল রক্ষায় বিভিন্ন উপজেলায় বাঁশ, মাটি, বালুু ও বস্তা সরবারাহের নামে আটটি উপজেলায় ৫৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ জেলা পরিষদ আইন ২০০০ অনুযায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন প্রকল্পের কোনো কাজ জেলা পরিষদ করতে পারে না। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই চেয়ারম্যানের নির্দেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে এসব টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। পাঁচ আগস্টের পর জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে যাচাই করে দেখা গেছে এসব প্রকল্প ছিল সম্পূর্ণ ভুয়া।
করোনাকালীন পরিস্থিতিতে ২০১৯—২০২০ অর্থ বছরে জেলা পরিষদ ২৮ লাখ টাকার ত্রাণ বিতরণ এবং পরের বছর ৪৫ লাখ টাকার সাবান, হ্যান্ড ওয়াশ, সেনিটাইজার, মাস্কসহ বিভিন্ন সুরক্ষাসামগ্রী ক্রয় করা করেছে। এ নিয়ে তখই পরিষদের সদস্যরা নানা সমালোচনা করেন। নামকাওয়াস্তে কিছু ত্রাণ বিতরণ ও কেনাকাটা করে বরাদ্দ আত্মসাত করা হয়েছে বলে পরিষদের সদস্যরা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছিলেন।
সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদে গত সাত বছরে বাস্তবায়িত প্রকল্পের তালিকা পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, ৮০ ভাগ প্রকল্প ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও সংস্কারে নেওয়া। ২০২১—২০২২ সালে ২৩১টি প্রকল্পের মধ্যে ১৬১টি প্রকল্প মসজিদ, মাদ্রাসা, ঈদগাহ, মন্দির, শ্মশান, আখড়া সংস্কার ও উন্নয়নে নেওয়া। এসব প্রকল্প নিয়েও রয়েছে নানা অনিয়মের অভিযোগ।
সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের নিজস্ব কোনো মসজিদ নেই। তাই পরিষদ প্রাঙ্গণে খালি জায়গায় একটি মসজিদ নির্মাণের জন্য ২০২২—২০২৩ অর্থ বছরের ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। এরপর ভবনের তৃতীয়তলার একটি কক্ষ দুই লাখ টাকায় সংস্কার করে নামাজের স্থান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন মসজিদ নির্মাণ না হলেও পুরো প্রকল্পের টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ আছে। জেলার ধর্মপাশা উপজেলার চামারদানী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ২০১৮ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ১৬টি মন্দির, শ্মশানঘাট, আখড়া সংস্কারের নামে ৪৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা চিত্তরঞ্জন সরকার এসব প্রকল্প ভুয়া বলে লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে অভিযোগের সতত্য পাওয়া যায়।
প্রকল্পের কাগজপত্র পর্যবেক্ষণ করে আরও দেখা গেছে, জেলা পরিষদের মিলনায়তন সংস্কারে আটটি প্রকল্পে ৭২ লাখ টাকার বিল তোলা হয়েছে। মিলনায়তের জন্য একটি আইপিএস কেনার জন্য পাঁচ লাখ টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়। পরে আরও পাঁচ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে শুধু এটি লাগানোর জন্য। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবন সংস্কারে আটটি প্রকল্পে ব্যয় করা হয়েছে প্রায় ২১ লাখ টাকা। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস কক্ষ সংস্কারের নামে ২০২১—২০২২ অর্থ বছরের দুটি প্রকল্পে এক কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। এসব প্রকল্প যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ আছে। পৌর শহরর বাস টার্মিনালের উন্নয়নে দুটি প্রকল্পে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৪০ লাখ টাকা। টার্মিনালের শ্রমিকেরা বলেছেন, বাস টার্মিনালের কিছু মাটি ফেলা ছাড়া আর কোনো উন্নয়ন কাজ জেলা পরিষদ করে নি।
জেলা পরিষদের সাবেক একজন সদস্য বলেছেন, আমরা ১০ জন সদস্য লিখিতভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম—দুনীর্তি ও চেয়ারম্যানের স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলাম। চেয়ারম্যান কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে নিজের ইচ্ছেমতো প্রকল্প নিয়ে সরকারের টাকা আত্মসাত করেছেন। সভার কার্যবিবরণী কাউকে সরবরাহ করা হতো না। তদন্ত করলে দেখা যাবে, প্রকল্পের বেশিরভাগই ভুয়া।
জানতে চাইলে জেলা পরিষদের বর্তমান নির্বাহী কর্মকর্তা আয়েশা আক্তার বললেন, তাঁরা প্রাথমিকভাবে ২০২২—২০২৩ অর্থ বছরে নেওয়া প্রকল্পগুলো যাচাই—বাছাই করছেন। ২৬ টি প্রকল্পে অনিয়ম ধরা পড়ায় বাতিল করেছেন। পর্যায়ক্রমে গত পাঁচ বছরের সব প্রকল্পগুলো দেখা হবে। তিনি বলেন, সদস্যদের লিখিত অভিযোগ সম্পর্কে আমি অবহিত নই। তারপরও কেউ যদি কোনো অভিযোগ করেন আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। মুজিববর্ষ উপলক্ষে খরচ করা টাকা ও নির্মিত ম্যুরালের বিষয়ে দুদক তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেছে বলে জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক ও জেলা পলিষদের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বললেন, বিগত সময়ের অনেক দুর্নর্ীতির সঠিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। যাদের নামে ভুয়া প্রকল্প হয়েছে, তারা হয়তো জানেই না। আমরা কিছু প্রকল্পের কাগজপত্র পেয়েছি। তাও প্রপার মাধমে নয়। মুটামুটি সুনির্দিষ্ট তথ্য যেগুলোর পাওয়া গেছে সেগুলো সম্প্রতি দুদকের কাছে পাঠানো হয়েছে। দুদক তদন্ত করতে চাইলে, আমরা সহযোগিতা করবো।
জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুটের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ফোন দিলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া যায় নি।-সূত্র দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর।










