০৮:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জেলায় আওয়ামী লীগের ৪৬ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

রিপোর্টার
  • সময় : ০২:৫২:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৮৪ ভিউ

জেলায় আওয়ামী লীগের কর্মীরা গ্রেপ্তার আতঙ্কে ভুগছেন। ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ—২’ অভিযানে জেলায় ৪৬ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। সরকারের পতনের পর ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ—১’ এর সময়ই এই সংগঠন এবং এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের পদবিধারী অনেক নেতা—কর্মী এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন। কেউবা দেশ ছেড়েছে। গেল শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন ডেবিল হান্ট ফেজ—২’ এর অভিযান শুরু হলে এই সংগঠনের যারা বাড়ি ফিরেছিল, তারাও গ্রেপ্তার এড়ানোর ভয়ে আরেকবার বাড়ি ছেড়েছে। যাদেরকে এলাকায় পাওয়া গেছে এরমধ্যে শুক্রবার রাত পর্যন্ত ৪৬ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। শাল্লার একজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বললেন, বিএনপি ও জামায়েতের প্রার্থীদের কাফেলায় যুক্ত হয়েও থাকা যাচ্ছে না বাড়িতে। পুলিশ বাড়ি বাড়ি তল্লাশি করে গ্রেপ্তার করছে।

গেল ছয়দিনে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন—সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের উপ—প্রচার সম্পাদক শুভ বণিক, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জগলুল, জগন্নাথপুরের চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গফুর, যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম তাজ, এই উপজেলার ছাত্রলীগ নেতা কামিল আহমদ ও সায়েম আহমদ।

জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউনুস আলী, জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি গাউছেল আজম, ফেনারবাক ইউনিয়ন কৃষক লীগের সদস্য মঞ্জু হাসান চৌধুরী, উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য চয়ন রায়, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. আল আমিন। মধ্যনগর উপজেলা বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সহসভাপতি সজলু তালুকদার ও উপজেলা যুবলীগের সহ—সভাপতি আজাদ চৌধুরী, দিরাই উপজেলার রাজানগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সিলেট মহানগর যুবলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক জহিরুল ইসলাম জুয়েল, এই উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার দেব নাথ, দিরাই সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য তাহদীব হোসেন উজ্জ্বল, তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোতালিব, তাহিরপুর উপজেলা শ্রমিক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মতিউর রহমান, দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়ন যুবলীগের সহ—সভাপতি কাদের পাশা, উত্তর বড়দল ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সেলিম আহমেদ, বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. আবুল কাশেম, তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, ছাতক উপজেলা যুবলীগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগ মিয়া, বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদের ছাতক উপজেলা শাখার আইন বিষয়ক সম্পাদক মো. জুনেদ হাসান, যুগলীগ নেতা মো. আমিনুল হক, উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. উরুন মিয়া ও উপজেলা ওলামা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাদান আহমদ দুদু মিয়া এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার পান্ডারগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা সবুজ মিয়াসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ৪৬ নেতা কর্মীকে এবারের অভিযানে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।সুনামগঞ্জ ভ্রমণ

শাল্লা উপজেলার একটি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বললেন, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের কর্মীরা গেল কয়েকদিন হয় ঘরে থাকতে পারছে না। কর্মী বা সমর্থকদের কেউ নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত হয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেও রক্ষা হচ্ছে না। প্রতিদ্বন্দ্বি অপর প্রার্থীর সমর্থকরা পুলিশকে বলে দিচ্ছে, পুলিশও গ্রেপ্তার করে আনতে বাধ্য হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট থানার ওসিরা গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। জেলা পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানালেন, ছয়দিনে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৪৬ নেতা কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জেলায় আওয়ামী লীগের ৪৬ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

সময় : ০২:৫২:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

জেলায় আওয়ামী লীগের কর্মীরা গ্রেপ্তার আতঙ্কে ভুগছেন। ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ—২’ অভিযানে জেলায় ৪৬ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। সরকারের পতনের পর ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ—১’ এর সময়ই এই সংগঠন এবং এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের পদবিধারী অনেক নেতা—কর্মী এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন। কেউবা দেশ ছেড়েছে। গেল শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন ডেবিল হান্ট ফেজ—২’ এর অভিযান শুরু হলে এই সংগঠনের যারা বাড়ি ফিরেছিল, তারাও গ্রেপ্তার এড়ানোর ভয়ে আরেকবার বাড়ি ছেড়েছে। যাদেরকে এলাকায় পাওয়া গেছে এরমধ্যে শুক্রবার রাত পর্যন্ত ৪৬ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। শাল্লার একজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বললেন, বিএনপি ও জামায়েতের প্রার্থীদের কাফেলায় যুক্ত হয়েও থাকা যাচ্ছে না বাড়িতে। পুলিশ বাড়ি বাড়ি তল্লাশি করে গ্রেপ্তার করছে।

গেল ছয়দিনে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন—সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের উপ—প্রচার সম্পাদক শুভ বণিক, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জগলুল, জগন্নাথপুরের চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গফুর, যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম তাজ, এই উপজেলার ছাত্রলীগ নেতা কামিল আহমদ ও সায়েম আহমদ।

জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউনুস আলী, জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি গাউছেল আজম, ফেনারবাক ইউনিয়ন কৃষক লীগের সদস্য মঞ্জু হাসান চৌধুরী, উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য চয়ন রায়, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. আল আমিন। মধ্যনগর উপজেলা বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সহসভাপতি সজলু তালুকদার ও উপজেলা যুবলীগের সহ—সভাপতি আজাদ চৌধুরী, দিরাই উপজেলার রাজানগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সিলেট মহানগর যুবলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক জহিরুল ইসলাম জুয়েল, এই উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার দেব নাথ, দিরাই সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য তাহদীব হোসেন উজ্জ্বল, তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোতালিব, তাহিরপুর উপজেলা শ্রমিক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মতিউর রহমান, দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়ন যুবলীগের সহ—সভাপতি কাদের পাশা, উত্তর বড়দল ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সেলিম আহমেদ, বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. আবুল কাশেম, তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, ছাতক উপজেলা যুবলীগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগ মিয়া, বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদের ছাতক উপজেলা শাখার আইন বিষয়ক সম্পাদক মো. জুনেদ হাসান, যুগলীগ নেতা মো. আমিনুল হক, উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. উরুন মিয়া ও উপজেলা ওলামা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাদান আহমদ দুদু মিয়া এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার পান্ডারগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা সবুজ মিয়াসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ৪৬ নেতা কর্মীকে এবারের অভিযানে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।সুনামগঞ্জ ভ্রমণ

শাল্লা উপজেলার একটি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বললেন, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের কর্মীরা গেল কয়েকদিন হয় ঘরে থাকতে পারছে না। কর্মী বা সমর্থকদের কেউ নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত হয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেও রক্ষা হচ্ছে না। প্রতিদ্বন্দ্বি অপর প্রার্থীর সমর্থকরা পুলিশকে বলে দিচ্ছে, পুলিশও গ্রেপ্তার করে আনতে বাধ্য হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট থানার ওসিরা গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। জেলা পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানালেন, ছয়দিনে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৪৬ নেতা কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।