হাদি হত্যা:‘অভিযুক্ত ফয়সালের’ ভিডিও, আমি দুবাইয়ে আছি
- সময় : ০৮:০৩:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১১১ ভিউ
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যায় প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ অজ্ঞাত স্থান থেকে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। সেখানে তিনি নিজের অবস্থান দুবাই এবং হাদি হত্যায় তার কোনো সম্পৃক্ততা নাই বলে দাবি করেছেন। যদিও ভিডিও বার্তাটি ফয়সালের নাকি প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি করা- সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ছাড়া, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তরফ থেকে এ নিয়ে কিছু বলা হয়নি। ৪ মিনিট ১ সেকেন্ডের ভিডিও বার্তায় দেখা যায়, খয়েরি রঙের হুডি পরা এক যুবক বলছেন, হ্যালো এভরিওয়ান। আমি ফয়সাল করিম মাসুদ। আপনারা হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আমার জড়িত থাকার কথা জানেন, প্রকৃতপক্ষে আমি হাদি হত্যার ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবে জড়িত না। এটা একটা মিথ্যা বানোয়াট, একটা চক্রান্ত। যে কারণে আমি দেশ ছেড়ে চলে আসতে বাধ্য হয়েছি। এখন আমি দুবাইতে থাকি। দুবাইয়ের পাঁচ বছরের মাল্টিপল ভিসা ছিল। যেভাবেই হোক কষ্ট করে দুবাই চলে এসেছি। আপনারা এই হাদি হত্যাকাণ্ডের জন্য মিথ্যাভাবে আমার পরিবারের সবাইকে জড়িয়েছেন। তাদের কোনো দোষ নাই। তাদের সবাইকে আপনারা মিথ্যা হয়রানি করছেন। যেভাবে পারছেন সেভাবে অত্যাচার করছেন। মিথ্যাভাবে তাদেরকে ফাঁসিয়েছেন, আমাকে ফাঁসিয়েছেন। হাদির সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল। আমি গিয়েছিলাম। তার অফিসে যাওয়ার কারণ আমি ব্যবসা করি। আমার একটা আইটি ফার্ম আছে।
দীর্ঘ ১০ বছর ধরে আমি ব্যবসা করছি। এই আইটি ফার্মে অনেক কাজই হয়। সব সরকারি কাজ হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ে ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ে কাজ ছিল। এই দুটি কাজের জন্য কথা বলতে গিয়েছিলাম। সে আমাকে পাইয়ে দেবে আশ্বস্ত করেছিল। আমি তাকে ৫ লাখ টাকাও দিয়েছি। অগ্রিম চেয়েছিল। যে প্রোগ্রামগুলো হয়, সেগুলোর ডোনার হিসেবে থাকতে বলেছিল। আমি থেকেছি এবং তার প্রোগ্রামের জন্য যত টাকা লাগতো সেগুলো দিয়েছি। ওইদিনও আমি তাকে ১০ হাজার টাকা দিয়েছি। তিনি বলেন, আমাকে মিথ্যাভাবে ফাঁসানো হয়েছে। হাদির সঙ্গে আগে থেকেই জামায়াতের যোগাযোগ ছিল। সে জামায়াতের লোক।
এদিকে, ফয়সালের ভিডিও ও তার বিভিন্ন দাবির সত্যতা নিয়ে তৈরি হওয়া জনমনে কৌতূহল ও বিভ্রান্তি পর্যালোচনা করে ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান ‘দ্য ডিসেন্ট’ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে ‘দ্য ডিসেন্ট’ নিশ্চিত করে যে, ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্বারা তৈরি নয়। ‘দ্য ডিসেন্ট’ ফয়সাল করিমের বাস্তব চেহারা ও মুখভঙ্গির সঙ্গে ভিডিও’র দৃশ্যের পূর্ণ সাযুজ্য পেয়েছে। এ ছাড়া, ভিডিও’র ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজ বিশ্লেষণ এবং চারটি নির্ভরযোগ্য এআই যাচাই টুল ব্যবহার করে ভিডিওটির সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। ভিডিও’র কিছু ফ্রেমে ফয়সালের থুতনির দাড়ি অদৃশ্য হওয়া প্রসঙ্গে ‘দ্য ডিসেন্ট’ বলছে, এটি ভিডিও রেকর্ড করার সময় ব্যবহৃত কোনো ‘ফিল্টার’র প্রভাব। এই কারিগরি ত্রুটি পুরো ভিডিওকে এআই-সৃষ্ট প্রমাণ করে না। ভিডিওতে ফয়সাল নিজেকে বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থানকারী বলে দাবি করেন। তবে ‘দ্য ডিসেন্ট’ বলছে, কেবল এই ভিডিও’র মাধ্যমে তার ভৌগোলিক অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। ফয়সাল তার দাবির স্বপক্ষে মৌখিক বক্তব্য ছাড়া অন্য কোনো প্রমাণ (যেমন- লোকেশন বা পাসপোর্ট সিল) উপস্থাপন করেনি। তিনি দাবি করেন, হাদিকে হত্যার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে তিনি ছিলেন না। ‘দ্য ডিসেন্ট’ এই দাবিকে সরাসরি ‘মিথ্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। প্রতিষ্ঠানটির আগের বিশ্লেষণ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে, মোটরসাইকেলের পেছনে বসে ফয়সাল করিমই গুলি চালিয়েছিলেন এবং চালকের আসনে ছিলেন তার সহযোগী আলমগীর শেখ। দেশের শীর্ষ গণমাধ্যমগুলোতেও এই তথ্য প্রমাণসহ প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া, ফয়সাল ভিডিওতে অভিযোগ করেন, ওসমান হাদি তাকে মন্ত্রণালয় থেকে কাজ পাইয়ে দেয়ার বিনিময়ে অগ্রিম ৫ লাখ টাকা নিয়েছিল। তবে হাদির মৃত্যুর পর এই দাবির কোনো সত্যতা মেলেনি। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হাদি জীবিত থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে তদবির বাণিজ্যের কোনো অভিযোগ ছিল না। বরং তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের ১৮ দিন পর গত রোববার সকালে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ধারণা করা হচ্ছে আসামিরা অবৈধ পথে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে প্রবেশ করেছেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ছয়জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং চারজন সাক্ষী ১৬৪ ধারায় সাক্ষ্য প্রদান করেছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি- হাদি হত্যায় অভিযুক্ত ফয়সাল করিম ওরফে দাউদ খান মেঘালয় সীমান্ত হয়ে ভারতে পালিয়ে এসেছেন। যদিও সেই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে বিএসএফ। মেঘালয় সীমান্ত পেরিয়ে ফয়সাল যে ভারতে প্রবেশ করেছেন, তার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে মেঘালয় পুলিশও।




















