সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজে; শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা
- সময় : ০২:৪০:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৪৯ ভিউ
পাঁচ বছরেও শেষ হয় নি সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ। এ কারণে হাসপাতালও চালু হয় নি। এতে হাতে কলমে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কলেজের শিক্ষার্থীরা। গেল বছরের এপ্রিলে মাসে এ নিয়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনেও নেমেছিলেন। ওই সময়ে ডিসেম্বরের মধ্যে হাসপাতাল চালুর আশ্বাস মিললেও, এখনো অবকাঠামো নির্মাণ কাজই শেষ করতে পারেনি গণপূর্ত বিভাগ। এছাড়াও পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় নিয়মিত ও জরুরি পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা।সুনামগঞ্জ ভ্রমণ
সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজে পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল ক্লাস নিশ্চিত ও কলেজের হাসপাতাল চালুর দাবিতে গত বছরের এপ্রিল মাসে ক্লাস বর্জনসহ নানা কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা। টানা কয়েকদিনের আন্দোলনে সিলেট সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কও অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে সমর্থন জানান সুনামগঞ্জবাসী। এক পর্যায়ে লাগাতার আন্দোলন শুরু হয়।
এই আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ডিসেম্বরে হাসপাতাল চালু করে শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল ক্লাস নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দেন দায়িত্বশীলরা। তবে ডিসেম্বর পাড় হলেও এখনো হাসপাতালের অবকাঠামোর কাজ শেষ করতে পারে নি গণপূর্তবিভাগ। ক্লিনিক্যাল ক্লাস ছাড়াও শিক্ষকের অভাবে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজে। বিশেষ করে বিষয়ভিত্তিক একাধিক শিক্ষক না থাকায় পিছিয়ে পড়ছেন এই কলেজের শিক্ষার্থীরা। পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় নিয়মিত ও জরুরি পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এ কারণে পেশাগত জীবনে নানামুখি বাধার মুখে পড়তে হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন এই মেডিকেলের ভবিষ্যত ডাক্তাররা।
কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনবল নিয়োগের জন্য ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এই মাসেই শিক্ষক নিয়োগ হওয়ার কথা।
স্বাস্থ্য শিক্ষার এই প্রতিষ্ঠানে অধ্যাপকের পদ রয়েছে ১২টি। এরমধ্যে ১০টি শূন্য। সহযোগী অধ্যাপকের ২৫ পদের মধ্যে ১৭ টি শূন্য। সহকারী অধ্যাপকের ২৬ পদের ১৩টি শূন্য। এছাড়া প্রভাষকের ২৮ পদের নয়টি শূন্য রয়েছে। ডার্মাটোলজি, অর্থপেডিক্স ও রেডিওলজি বিভাগের কোন শিক্ষক নেই। একারণে এই তিন বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিষয়ভিত্তিক পাঠদান থেকে পিছিয়ে আছে।
কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম সাকিব বললেন, আমরা কিছু যৌক্তিক দাবি নিয়ে গতবছরের এপ্রিলে আন্দোলন করেছিলাম। কর্তৃপক্ষ নানা আশ^াসে শ্রেণিকক্ষে ফিরে শিক্ষার্থীরা। বছর পাড় হলেও প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই পাই নি। চারটি ব্যাচের প্রায় দুইশ’ শিক্ষার্থীর ক্লিনিক্যাল ক্লাস প্রয়োজন। সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে রোগীর চেয়ে শিক্ষার্থী বেশি হয়ে গেছে। ওখানে আমাদের শিখানোর মতো কোনো শিক্ষক নেই, উপযোগী পরিবেশও নেই। অন্যদিকে, মেডিকেল কলেজের হাসপাতাল ভবন এখনও হস্তান্তর করা হয় নি। হস্তান্তরের পরে জনবল নিয়োগ এবং সরঞ্জাম লাগবে। সবমিলিয়ে এটি কবে চালু হবে, আমরা কিছুই জানি না। একটি ব্যাচ ইন্টার্নি করবে, তারা কোথায় যাবে? আমরা দ্বিতীয় ব্যাচ পরে ইন্টার্নিতে যাবো- কে কোথায় যাবে, কিছুই জানি না। আশাকরি এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ উদ্যোগ নেবে।
দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. তানভির হোসেন বলেন, শিক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেই। অনেক কিছু থেকেই পিছিয়ে রয়েছি। যেকোনো ভাবেই হোক হাসপাতালের সংকট ও শিক্ষক সংকট নিরসন করতে হবে।
চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শামসিয়া তাবাস্সুম মাইশা বলেন, কলেজে প্রথম থেকেই শিক্ষক সংকট রয়েছে। ক্লিনিক্যাল ক্লাসের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালেও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই। গেল বছরের আন্দোলনের পরে ক্লিনিক্যাল ক্লাসের জন্য কয়েকজন শিক্ষক নিয়োগ হন। তাদের মধ্যে একজন যোগদান করেন নি, বাকীরা যোগদান করলেও পরে কেউ কেউ চলেও গেছেন।
একই বর্ষের শিক্ষার্থী পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, গেল বছরের ১৫ এপ্রিল থেকে নানা দাবি নিয়ে আন্দোলনে নামি। ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে হাসপাতাল চালু, পর্যাপ্ত কিনিক্যাল ক্লাসের শিক্ষক নিয়োগ, সপ্তাহে ৬ দিন ক্লাসের সুযোগ সুবিধার জন্য ওই আন্দোলন ছিলো। ওই সময়ে নানানভাবে আমরা শারীরিক নির্যাতনেরও শিকার হয়েছি। কর্তৃপক্ষ ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে হাসপাতাল চালু করবেন বলে আশ^স্ত করেছিলেন। এই আশ^াসে আন্দোলন প্রত্যাহার হয়। ২০২৬ সালে এসেও এসব প্রতিশ্রুতির কোনো বাস্তবায়ন আমরা দেখছি না। এখনও অবকাঠামো নির্মাণের অনেক কাজ বাকি রয়ে গেছে।
সুনামগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী মোল্লা রবিউল ইসলাম বললেন, জুন ২০২৬’এর মধ্যে অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শেষ হবে। ওই সময় পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ আছে জানালেন তিনি। ভবন হস্তান্তরের পর জনবল এবং সরঞ্জামেরও প্রয়োজন হবে মন্তব্য করলেন এই প্রকৌশলী।সুনামগঞ্জ ভ্রমণ
সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মোস্তাক আহমদ ভূইয়া বললেন, কলেজে ৫০ ভাগ জনবল রয়েছে। বাকী জনবল নিয়োগের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশাকরি দ্রুত বাকী জনবল পাবো। তিনি জানালেন, হাসপাতালের অবকাঠামোর কাজ শেষের দিকে। এলপি গ্যাস ও অক্সিজেন প্লান্ট- এর কাজও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই কাজগুলো করতে আরও তিন মাস সময় লাগবে। জনবলের চাহিদা অর্থ মন্ত্রলনালয়ে রয়েছে। ওখান থেকে পাস হলে লোক নিয়োগ করে কার্যক্রম শুরু করা যাবে।
গণপূর্ত বিভাগের কাজের ধীরগতির কথা উল্লেখ করলেন তিনিও। বললেন, ভবন নির্মাণ ও পেছনের রাস্তার কাজ চাইলে কমপ্লিট করে দিতে পারতো। কিন্তু এখনও তারা পুরোপুরি হস্তান্তর করতে পারে নি।-সূত্র সুনামগঞ্জের খবর























