১০:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভোটে সিলেটে হাজারো প্রবাসী

রিপোর্টার
  • সময় : ০৯:২৭:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৬০ ভিউ

ওয়েছ খছরু-আক্ষেপ অনেকেরই। আওয়ামী লীগ জমানার নির্বাচনে আসতে পারেননি তারা। অনেকেরই ওপর ছিল হুলিয়া। এলেই গ্রেপ্তার। কেউ কেউ ঝুঁকি নিয়ে এসেও ছিলেন। হয়রানির মুখে  দেশ ছেড়েছেন। এমন দমবন্ধ নির্বাচন থেকে এখন মুক্তি মিলেছে। সামনে জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রবাসীদের মধ্যে বিরাজ করছে ভোট উৎসব। এই উৎসবে অংশ নিতে হাজার হাজার লন্ডন প্রবাসী দেশে আসতে শুরু করেছেন। অনেকেই এর মধ্যে এসেছেনও।

 নির্বাচনী মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। ভোটের মাঠে তারা নামায় ভিন্ন আমেজ বিরাজ করছে। ওল্ডহাম বিএনপি’র সভাপতি জামাল উদ্দিন। বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথে। সাবেক এমপি ইলিয়াস আলীর ঘনিষ্টজন ছিলেন। লন্ডনের ব্যবসায়ী তিনি। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনেক আগেই তিনি সিলেট এসেছেন। এখন যারা আসছেন তাদের রিসিভ করছেন। ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

– এবারের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে  রেখে সিলেটে আসছেন কয়েক হাজার প্রবাসী। জানুয়ারির প্রথমার্ধ্ব থেকে আসছেন বেশি। তার মতে; এবার শীত মৌসুমে নির্বাচন। এ জন্য যুক্তরাজ্য প্রবাসীরা পরিবার নিয়ে দেশে আসছেন। সরাসরি সিলেটে ফ্লাইটে সিট খালি মিলছে না। এ জন্য অনেকেই ঢাকা হয়ে সিলেট আসছেন। সিলেটের ভোটে এবারও আছেন প্রবাসী প্রার্থীরা। যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সাবেক সভাপতি এমএ মালিক, সাধারণ সম্পাদক এম কওছর আহমদ দু’জনই প্রার্থী। বিএনপি’র চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন নির্বাসনে থাকতে হয়েছে যুক্তরাজ্যে। তার সঙ্গে কয়েকশ’ প্রবাসী এরই মধ্যে সিলেট এসেছেন। হঠাৎ করেই সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট স্থগিতের ঘোষণা এসেছে। সেটি ছিল ১লা ফেব্রুয়ারি থেকে। ভোটের জন্য ফ্লাইটের টিকিট অনেক আগেই কিনেছিলেন প্রবাসীরা। বিমান কর্তৃপক্ষ কিছুটা নমনীয় হয়েছেন। এক মাস সময় বাড়িয়েছে। ১লা মার্চ থেকে ফ্লাইট স্থগিত হবে। ফলে যুক্তরাজ্যের নর্থ সাইডের অনেক প্রবাসী এখন নির্বাচনে আসতে পারছেন। বেশি দামেও মিলছে না টিকিটি।

ইউকে এরআরবি সোসাইটির ডাইরেক্টর ও প্রবাস বাংলা টিভি’র সিও জুনেদ আহমদ জানিয়েছেন- গত তিনটি নির্বাচনে অংশ নিতে প্রবাসীদের বেশির ভাগই দেশে আসতে পারেননি। এবারের নির্বাচনী উৎসবে শরিক হতে দলে দলে প্রবাসীরা আসছেন। পরিবার নিয়ে আসছেন। এটি আমাদের জন্য পজেটিভ দিক। প্রবাসীরা শুধু আসছেন না তারা পাউন্ডও নিয়ে আসছেন। সুতরাং দেশের অর্থনীতিতেও তারা ভূমিকা রাখছেন। জুনেদ বলেন- জানুয়ারির ১৫ তারিখের পর তিনি সহ বৃটেনের বড় ডেলিগেট টিম সিলেট আসবেন। ইতিমধ্যে তারা প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই তাদের এই দেশে আসা বলে জানান তিনি।

ক’দিন আগে দেশে এসেছেন বিশ্বনাথ যুবদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য সিরাজুল ইসলাম। তার বাড়ি জানাইয়া গ্রামে। জানালেন- বিগত নির্বাচনগুলো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল না। ইলিয়াসের আসনে তার স্ত্রী, সন্তানদের প্রার্থী হতে দেয়া হয়নি। এবার সিলেট-২ আসনের নির্বাচনে ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা প্রার্থী। কয়েকশ’ লন্ডন প্রবাসী এ আসনের নির্বাচনে অংশ নিতে এসেছেন। তিনি বলেন- দেশের নির্বাচনের প্রতি প্রবাসীদের আগ্রহ বেশি থাকে। মতামত দেয়ার সুযোগ থাকে। এ কারণে নির্বাচন এলেই দেশে ছুটে আসেন প্রবাসীরা। ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় যুক্তরাজ্য থেকে দেশে এসে ভোট উৎসবে শরিক হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন প্রবাসীরা। পরিস্থিতি অনুকূলে ছিল না।

নানাভাবে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। ওই সময় দেশে এসে শ’ শ’ প্রবাসী পুলিশের ভয়ে বাড়ি থাকতে পারেননি। প্রাণভয়ে অনেকেই পালিয়ে যান দেশ ছেড়ে। এটি ছিল অস্বাভাবিক ঘটনা। এ জন্য প্রবাসীরা মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না বলে জানিয়েছেন মিজানুর রহমান নামের আরেক লন্ডন প্রবাসী। তিনি জানিয়েছেন- প্রবাসীরা নির্বাচনে আসেন। অংশ নেন। এটা উৎসবের মতোই। পরিবার নিয়ে আসেন। এই সময়ে তাদের সহযোগিতা করা উচিত। বিমানের টিকিটের মূল্য সহনীয় রাখা প্রয়োজন। কারণ; বিগত তিনটি নির্বাচনে প্রবাসীরাও হয়রানির শিকার হয়েছেন।

এদিকে শুধু যুক্তরাজ্য থেকে নয়, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকেও দলে দলে সিলেট আসছেন প্রবাসীরা। আমেরিকা, কানাডা থেকেও প্রবাসীরা এসেছেন। সিলেটের চার জেলায়ই প্রবাসীরা আসছেন। কয়েকজন প্রবাসী প্রার্থী হয়েছেন। দ্বৈত নাগরিকত্বের সংকট কাটিয়ে এখন মাঠে রয়েছেন। তাদের ঘিরে ভোটারদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ। বিএনপি’র প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ব্যথিত প্রবাসীরা। তার মৃত্যুর আগে ও পরে অনেকেই ছুটে এসেছেন দেশে।

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের অল ইউরোপের সমন্বয়ক কামাল উদ্দিনও এসেছেন দেশে। তিনিও দীর্ঘ দিন দেশে আসতে পারেননি। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তার রুহের মাগফেরাত কামনা করে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বদলি গ্রামে জিয়াফতের আয়োজন করেন। এতে অংশ নিয়েছিলেন ১০ হাজার মানুষ। যুক্তরাজ্য বিএনপি’র আহ্বায়ক, সদস্য সচিবসহ অনেকেই এখন দেশে অবস্থান করছেন। তাদের পক্ষ থেকেও আয়োজন করা হয়েছে দোয়া মাহফিলের। এখন যারা আসছেন তারাও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করছেন বলে জানিয়েছেন প্রবাসীরা।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভোটে সিলেটে হাজারো প্রবাসী

সময় : ০৯:২৭:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

ওয়েছ খছরু-আক্ষেপ অনেকেরই। আওয়ামী লীগ জমানার নির্বাচনে আসতে পারেননি তারা। অনেকেরই ওপর ছিল হুলিয়া। এলেই গ্রেপ্তার। কেউ কেউ ঝুঁকি নিয়ে এসেও ছিলেন। হয়রানির মুখে  দেশ ছেড়েছেন। এমন দমবন্ধ নির্বাচন থেকে এখন মুক্তি মিলেছে। সামনে জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রবাসীদের মধ্যে বিরাজ করছে ভোট উৎসব। এই উৎসবে অংশ নিতে হাজার হাজার লন্ডন প্রবাসী দেশে আসতে শুরু করেছেন। অনেকেই এর মধ্যে এসেছেনও।

 নির্বাচনী মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। ভোটের মাঠে তারা নামায় ভিন্ন আমেজ বিরাজ করছে। ওল্ডহাম বিএনপি’র সভাপতি জামাল উদ্দিন। বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথে। সাবেক এমপি ইলিয়াস আলীর ঘনিষ্টজন ছিলেন। লন্ডনের ব্যবসায়ী তিনি। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনেক আগেই তিনি সিলেট এসেছেন। এখন যারা আসছেন তাদের রিসিভ করছেন। ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

– এবারের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে  রেখে সিলেটে আসছেন কয়েক হাজার প্রবাসী। জানুয়ারির প্রথমার্ধ্ব থেকে আসছেন বেশি। তার মতে; এবার শীত মৌসুমে নির্বাচন। এ জন্য যুক্তরাজ্য প্রবাসীরা পরিবার নিয়ে দেশে আসছেন। সরাসরি সিলেটে ফ্লাইটে সিট খালি মিলছে না। এ জন্য অনেকেই ঢাকা হয়ে সিলেট আসছেন। সিলেটের ভোটে এবারও আছেন প্রবাসী প্রার্থীরা। যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সাবেক সভাপতি এমএ মালিক, সাধারণ সম্পাদক এম কওছর আহমদ দু’জনই প্রার্থী। বিএনপি’র চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন নির্বাসনে থাকতে হয়েছে যুক্তরাজ্যে। তার সঙ্গে কয়েকশ’ প্রবাসী এরই মধ্যে সিলেট এসেছেন। হঠাৎ করেই সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট স্থগিতের ঘোষণা এসেছে। সেটি ছিল ১লা ফেব্রুয়ারি থেকে। ভোটের জন্য ফ্লাইটের টিকিট অনেক আগেই কিনেছিলেন প্রবাসীরা। বিমান কর্তৃপক্ষ কিছুটা নমনীয় হয়েছেন। এক মাস সময় বাড়িয়েছে। ১লা মার্চ থেকে ফ্লাইট স্থগিত হবে। ফলে যুক্তরাজ্যের নর্থ সাইডের অনেক প্রবাসী এখন নির্বাচনে আসতে পারছেন। বেশি দামেও মিলছে না টিকিটি।

ইউকে এরআরবি সোসাইটির ডাইরেক্টর ও প্রবাস বাংলা টিভি’র সিও জুনেদ আহমদ জানিয়েছেন- গত তিনটি নির্বাচনে অংশ নিতে প্রবাসীদের বেশির ভাগই দেশে আসতে পারেননি। এবারের নির্বাচনী উৎসবে শরিক হতে দলে দলে প্রবাসীরা আসছেন। পরিবার নিয়ে আসছেন। এটি আমাদের জন্য পজেটিভ দিক। প্রবাসীরা শুধু আসছেন না তারা পাউন্ডও নিয়ে আসছেন। সুতরাং দেশের অর্থনীতিতেও তারা ভূমিকা রাখছেন। জুনেদ বলেন- জানুয়ারির ১৫ তারিখের পর তিনি সহ বৃটেনের বড় ডেলিগেট টিম সিলেট আসবেন। ইতিমধ্যে তারা প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই তাদের এই দেশে আসা বলে জানান তিনি।

ক’দিন আগে দেশে এসেছেন বিশ্বনাথ যুবদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য সিরাজুল ইসলাম। তার বাড়ি জানাইয়া গ্রামে। জানালেন- বিগত নির্বাচনগুলো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল না। ইলিয়াসের আসনে তার স্ত্রী, সন্তানদের প্রার্থী হতে দেয়া হয়নি। এবার সিলেট-২ আসনের নির্বাচনে ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা প্রার্থী। কয়েকশ’ লন্ডন প্রবাসী এ আসনের নির্বাচনে অংশ নিতে এসেছেন। তিনি বলেন- দেশের নির্বাচনের প্রতি প্রবাসীদের আগ্রহ বেশি থাকে। মতামত দেয়ার সুযোগ থাকে। এ কারণে নির্বাচন এলেই দেশে ছুটে আসেন প্রবাসীরা। ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় যুক্তরাজ্য থেকে দেশে এসে ভোট উৎসবে শরিক হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন প্রবাসীরা। পরিস্থিতি অনুকূলে ছিল না।

নানাভাবে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। ওই সময় দেশে এসে শ’ শ’ প্রবাসী পুলিশের ভয়ে বাড়ি থাকতে পারেননি। প্রাণভয়ে অনেকেই পালিয়ে যান দেশ ছেড়ে। এটি ছিল অস্বাভাবিক ঘটনা। এ জন্য প্রবাসীরা মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না বলে জানিয়েছেন মিজানুর রহমান নামের আরেক লন্ডন প্রবাসী। তিনি জানিয়েছেন- প্রবাসীরা নির্বাচনে আসেন। অংশ নেন। এটা উৎসবের মতোই। পরিবার নিয়ে আসেন। এই সময়ে তাদের সহযোগিতা করা উচিত। বিমানের টিকিটের মূল্য সহনীয় রাখা প্রয়োজন। কারণ; বিগত তিনটি নির্বাচনে প্রবাসীরাও হয়রানির শিকার হয়েছেন।

এদিকে শুধু যুক্তরাজ্য থেকে নয়, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকেও দলে দলে সিলেট আসছেন প্রবাসীরা। আমেরিকা, কানাডা থেকেও প্রবাসীরা এসেছেন। সিলেটের চার জেলায়ই প্রবাসীরা আসছেন। কয়েকজন প্রবাসী প্রার্থী হয়েছেন। দ্বৈত নাগরিকত্বের সংকট কাটিয়ে এখন মাঠে রয়েছেন। তাদের ঘিরে ভোটারদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ। বিএনপি’র প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ব্যথিত প্রবাসীরা। তার মৃত্যুর আগে ও পরে অনেকেই ছুটে এসেছেন দেশে।

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের অল ইউরোপের সমন্বয়ক কামাল উদ্দিনও এসেছেন দেশে। তিনিও দীর্ঘ দিন দেশে আসতে পারেননি। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তার রুহের মাগফেরাত কামনা করে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বদলি গ্রামে জিয়াফতের আয়োজন করেন। এতে অংশ নিয়েছিলেন ১০ হাজার মানুষ। যুক্তরাজ্য বিএনপি’র আহ্বায়ক, সদস্য সচিবসহ অনেকেই এখন দেশে অবস্থান করছেন। তাদের পক্ষ থেকেও আয়োজন করা হয়েছে দোয়া মাহফিলের। এখন যারা আসছেন তারাও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করছেন বলে জানিয়েছেন প্রবাসীরা।