০২:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অগ্নিকান্ডে সর্বশান্ত সুনামগঞ্জের ২২ ব্যবসায়ী

রিপোর্টার
  • সময় : ০২:০০:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
  • / ২৫ ভিউ

অগ্নিকান্ডে সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসে গেছেন সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ২২ ব্যবসায়ি। কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে কোটি টাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হারিয়ে দিশেহারা জেলার প্রথিতযশা এই ব্যবসায়িরা। ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো নিয়ে শঙ্কা তাদের। রয়েছে ব্যাংক লোন ও কোম্পানির দেনার দায়। তাই ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়িদের পুনবার্সনে সরকারকে এগিয়ে আশার আহ্বান সংশ্লিদের।

সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকার পপুলার ইলেক্ট্রনিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী এবিএম জাকির হোসেন পারভেজ। শহরের সবচেয়ে বড় ইলেক্ট্রনিক পণ্য দোকান তাঁর। রবিবার রাত সাড়ে ১০ টায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাসায় যান পারভেজ ও তাঁর কর্মচারীরা। রাত ১১ টার পর পার্শ্ববর্তী হক সুপার মার্কেটে লাগা আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পারভেজের পপুলার ইলেক্ট্রনিকের দোকানসহ আশেপাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। ফায়ার সার্ভিসের দুইঘন্টা চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণ হলেও রক্ষা হয়নি পারভেজে কোনো মালামাল। প্রায় আড়াই কোটি টাকার ইলেক্টনিক পণ্য পুড়ে ছাঁই। কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে কোটিপতি থেকে পথে বসে গেছেন তিনি। দীর্ঘদিনের গড়ে তোলা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হারিয়ে ঘুরে চরম অনিশ্চয়তায় সময় পার করছেন তিনি।

ব্যবসায়ি জাকির হোসেন পারভেজ বলেন, দীর্ঘদিনের কষ্টের ফসল কয়েক ঘন্টার আগুনে পুড়ে ছাঁই। এভাবে সব শেষ হয়ে যাবে তা কখনোই ভাবতে পারিনি। সারাজীবনে অর্জন শেষ। জীবদ্দশায় এই সম্পদ অর্জন করতে পারবো কি না জানি না। এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠা সম্ভব না। এক আল্লাহ ছাড়া কোনো উপায় নেই। ব্যবসায়ি পারভেজের মতো আগুনে সর্বস্ব হারিয়েছেন হক সুপার মার্কেটের অন্তত ২২ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ি। যে মার্কেটে ছিলো জুতা, কাপর, ফার্মেসীসহ সাঁজানো ঘুচানো বাহারি পণ্যের প্রতিষ্ঠান, একদিনের ব্যবধানে সেখানটাই অগ্নিদগ্ধ বিরানভূমিতে পরিণত হয়েছে। ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো পুড়ে যাওয়া অংশবিশেষ। দোকানের টিন ও লোহার ধাতব বস্তু কিছুই বাকি রাখেনি ভয়াল আগুন।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়িরা জানিয়েছেন, অগ্নিকান্ডে মার্কেটের ২২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ১৮টি গোডাউন সম্পূর্ণ পুরে ছাঁই হয়েগেছে। নগদ অর্থ, মালামালসহ অন্তত ১০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির হয়েছে। জীবন জীবিকার একমাত্র অবলম্ভন হারিয়ে দিশেহারা তারা। ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাড়ানো নিয়ে তৈরী হয়েছে অনিশ্চয়তা। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়িদের পুনবার্সনে সরকারকে এগিয়ে আসতে আহ্বান সংশ্লিষ্টদের।

সেলুন ব্যবসায়ি দাশ বলেন, ‘জমিজমা বিক্রি করে ও ব্যাংক লোন তুলে দোকান গড়ে তুলে ছিলাম। দোকানের এসি, টিভি, আসবাবপত্রসহ কিছুই বাকি নেই সব শেষ। কি করবো বুঝে উঠতে পারতেছি না। কেমনে ঘুরে দাঁড়াবো,কেমনে দেনা শোধ করবো তা জানি না।’ অগ্নিকান্ডের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়িদের পাশের থাকার কথা জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের নেতৃবৃন্দ।

সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো শামসুল হক বলেন, ‘অগ্নিকান্ডে ব্যবসায়িরা পথে বসে গেছেন। কিছুই অবশিষ্ট নেই। আমরা চেষ্টা করছি বিভিন্নভাবে ব্যবসায়িদের পাশে থাকার। আমরা অনুরোধ করবো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়িদের পাশে সরকার দাঁড়াবেন।’ এদিকে অগ্নিকান্ডের কারন ও ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনের ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে জেলা প্রশাসন। ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস জেলা প্রশাসকের।

জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, ব্যবসায়িরা জানিয়েছেন তাদের অনেকেরই এসএমই লোন রয়েছে। আমরা এসএমই ফাউন্ডেশনের সাথে কথা বলবো যাতে তাদের লোনের ইন্টারেস্ট যেনো মওকুফ করা হয়। তাছাড়া অগ্নিকান্ডের ক্ষয়ক্ষতির ব্যপারে সরকারের সংশ্লি দপ্তরকে অবহিত করার পাশাপাশি সামর্থ অনুয়ায়ী সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন তিনি। সরকারি বেসরকারি সহযোগিতা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়িরা আবারও ঘুরে দাড়াবে এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অগ্নিকান্ডে সর্বশান্ত সুনামগঞ্জের ২২ ব্যবসায়ী

সময় : ০২:০০:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

অগ্নিকান্ডে সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসে গেছেন সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ২২ ব্যবসায়ি। কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে কোটি টাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হারিয়ে দিশেহারা জেলার প্রথিতযশা এই ব্যবসায়িরা। ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো নিয়ে শঙ্কা তাদের। রয়েছে ব্যাংক লোন ও কোম্পানির দেনার দায়। তাই ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়িদের পুনবার্সনে সরকারকে এগিয়ে আশার আহ্বান সংশ্লিদের।

সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকার পপুলার ইলেক্ট্রনিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী এবিএম জাকির হোসেন পারভেজ। শহরের সবচেয়ে বড় ইলেক্ট্রনিক পণ্য দোকান তাঁর। রবিবার রাত সাড়ে ১০ টায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাসায় যান পারভেজ ও তাঁর কর্মচারীরা। রাত ১১ টার পর পার্শ্ববর্তী হক সুপার মার্কেটে লাগা আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পারভেজের পপুলার ইলেক্ট্রনিকের দোকানসহ আশেপাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। ফায়ার সার্ভিসের দুইঘন্টা চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণ হলেও রক্ষা হয়নি পারভেজে কোনো মালামাল। প্রায় আড়াই কোটি টাকার ইলেক্টনিক পণ্য পুড়ে ছাঁই। কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে কোটিপতি থেকে পথে বসে গেছেন তিনি। দীর্ঘদিনের গড়ে তোলা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হারিয়ে ঘুরে চরম অনিশ্চয়তায় সময় পার করছেন তিনি।

ব্যবসায়ি জাকির হোসেন পারভেজ বলেন, দীর্ঘদিনের কষ্টের ফসল কয়েক ঘন্টার আগুনে পুড়ে ছাঁই। এভাবে সব শেষ হয়ে যাবে তা কখনোই ভাবতে পারিনি। সারাজীবনে অর্জন শেষ। জীবদ্দশায় এই সম্পদ অর্জন করতে পারবো কি না জানি না। এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠা সম্ভব না। এক আল্লাহ ছাড়া কোনো উপায় নেই। ব্যবসায়ি পারভেজের মতো আগুনে সর্বস্ব হারিয়েছেন হক সুপার মার্কেটের অন্তত ২২ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ি। যে মার্কেটে ছিলো জুতা, কাপর, ফার্মেসীসহ সাঁজানো ঘুচানো বাহারি পণ্যের প্রতিষ্ঠান, একদিনের ব্যবধানে সেখানটাই অগ্নিদগ্ধ বিরানভূমিতে পরিণত হয়েছে। ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো পুড়ে যাওয়া অংশবিশেষ। দোকানের টিন ও লোহার ধাতব বস্তু কিছুই বাকি রাখেনি ভয়াল আগুন।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়িরা জানিয়েছেন, অগ্নিকান্ডে মার্কেটের ২২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ১৮টি গোডাউন সম্পূর্ণ পুরে ছাঁই হয়েগেছে। নগদ অর্থ, মালামালসহ অন্তত ১০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির হয়েছে। জীবন জীবিকার একমাত্র অবলম্ভন হারিয়ে দিশেহারা তারা। ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাড়ানো নিয়ে তৈরী হয়েছে অনিশ্চয়তা। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়িদের পুনবার্সনে সরকারকে এগিয়ে আসতে আহ্বান সংশ্লিষ্টদের।

সেলুন ব্যবসায়ি দাশ বলেন, ‘জমিজমা বিক্রি করে ও ব্যাংক লোন তুলে দোকান গড়ে তুলে ছিলাম। দোকানের এসি, টিভি, আসবাবপত্রসহ কিছুই বাকি নেই সব শেষ। কি করবো বুঝে উঠতে পারতেছি না। কেমনে ঘুরে দাঁড়াবো,কেমনে দেনা শোধ করবো তা জানি না।’ অগ্নিকান্ডের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়িদের পাশের থাকার কথা জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের নেতৃবৃন্দ।

সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো শামসুল হক বলেন, ‘অগ্নিকান্ডে ব্যবসায়িরা পথে বসে গেছেন। কিছুই অবশিষ্ট নেই। আমরা চেষ্টা করছি বিভিন্নভাবে ব্যবসায়িদের পাশে থাকার। আমরা অনুরোধ করবো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়িদের পাশে সরকার দাঁড়াবেন।’ এদিকে অগ্নিকান্ডের কারন ও ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনের ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে জেলা প্রশাসন। ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস জেলা প্রশাসকের।

জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, ব্যবসায়িরা জানিয়েছেন তাদের অনেকেরই এসএমই লোন রয়েছে। আমরা এসএমই ফাউন্ডেশনের সাথে কথা বলবো যাতে তাদের লোনের ইন্টারেস্ট যেনো মওকুফ করা হয়। তাছাড়া অগ্নিকান্ডের ক্ষয়ক্ষতির ব্যপারে সরকারের সংশ্লি দপ্তরকে অবহিত করার পাশাপাশি সামর্থ অনুয়ায়ী সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন তিনি। সরকারি বেসরকারি সহযোগিতা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়িরা আবারও ঘুরে দাড়াবে এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।