শান্তিগঞ্জে কিশোরী ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ১
- সময় : ০৭:২০:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
- / ১৪ ভিউ
ইয়াকুব শাহরিয়ার: শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নে বাক প্রতিবন্ধী বাবার ১৩ বছরের এক কিশোরী মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ। ২ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) রাত ১১টায় ঘটনাটি ঘটেছে ইউনিয়নের ধরমপুর গ্রামের বন্দেরবাড়িতে। গ্রেপ্তারকৃত যুবক একই গ্রামের (নির্যাতিতার প্রতিবেশী) কালামন মিয়ার ছেলে স্বপন আহমদ (১৯)। ধর্ষণকাণ্ডে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় শান্তিগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি প্রথম দু’একদিন চাপা থাকলেও পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ছড়ানোর পর পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। একজন গ্রেপ্তার হলেও ধর্ষণের সাথে জড়িত অভিযুক্ত বাকী আসামীরা রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। স্বপন আহমদ ছাড়াও অভিযুক্ত একজন হচ্ছেন একই গ্রামের আশকর আলীর ছেলে মোজাহিদ আহমদ (১৯)।
স্থানীয়রা বলছেন, স্বপন ছাড়া বাকীরা আত্মগোপন করেছে। এলাকায় কেউ নেই, পালিয়ে গিয়েছে। যদি প্রকৃত দোষীদের খোঁজে বের করে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় না আনা হয় তাহলে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ ধরণের কুকাণ্ড আরো বেড়ে যাবে। পুলিশ বলছে, অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।
ঘটনার খবর পেয়ে নির্যাতিতা কিশোরীর বাড়িতে যান এই প্রতিবেদক। কথা বলেন স্থানীয়দের সাথে। তার মা বুদ্ধি ও মানসিক প্রতিবন্ধী এবং বাবা বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী বলে জানান পাড়ার লোকজন ও আত্মীয়রা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন আত্মীয় ও গ্রামবাসী জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে নিজের বসত ঘর থেকে বের করে জোরপূর্বক পাশর্^বর্তী হাওরে ধান ক্ষেতের পাশে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় কিশোরীকে। ধর্ষণের সময় ভিডিও ধারণ করে ধর্ষণকারীরা। এই ভিডিওর ১৩ সেকেন্ডের একটি ক্লিপ এই প্রতিবেদকের কাছে আছে, যেখানে দু’জন ছেলে কিশোরীকে নিয়ে ধস্তাধস্তি করতে দেখা যায়। এই ঘটনার পর রাত ১২টার দিকে মেয়েটি বাড়িতে এসে কাঁদতে থাকে। প্রথমে মা, বোন বিষয়টি গোপন রাখলেও পরে সে বলে যে স্বপন ও মোজাহিদ মিলে তাকে ধর্ষণ করেছে। তখন থেকেই এলাকায় থমথমে ভাব বিরাজ করছে। এর চার দিন পর সোমবার রাতে ধরমপুরে অভিযান চালিয়ে স্বপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে থানা পুলিশ। স্বপন বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে।
গত মঙ্গলবার দিনে কিশোরীর আত্মীয়স্বজন অভিযোগ তুলেন যে, স্বপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করার পর রাতেই স্বপনের ভাই, বাবা ও অন্যান্য আত্মীয়রা মিলে নির্যাতিতা কিশোরীর আধভাঙা টিন শেডের একচালা ঘরে হামলা করেন। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে অন্যত্র আশ্রয় নেন অসহায় বাক্ প্রতিবন্ধী ও নির্যাতিতার পরিবার। এসময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে টিনে ও বৈদ্যুতিক মিটার আঘাত করে ভাঙচুর করেন তারা। ভুক্তভোগী পরিবার এ ঘটনায় দু’জনের (স্বপন ও মোজাহিদ) বিরুদ্ধে অভিযোগ করে যাচ্ছেন।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা ও ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রুজেল আহমদ (প্যানেল চেয়ারম্যান-১) উত্তেজনা ছড়ানোর কথা স্বীকার করে জানান, ভাঙচুর হওয়ার আগেই আমাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তারা আর ভাঙচুর বা মারামারি করেন নি। তবে যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এতো কিছু, যারা প্রকৃত দোষী তাদের শাস্তি হওয়া উচিত। আমরা আশা করবো, নিরপরাধ কাউকে এ ঘটনায় জড়ানো হবে না। দোষীরা শাস্তি পাক। আমাদের এলাকায় এ ধরণের ঘটনা আগে ঘটেনি। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। পরিস্থিতি এখন শান্ত আছে। স্বপন আহমদের বাবা কালামন বলেন, আমার ছেলে নির্দোষ। সে এসবের সাথে জড়িত নয়। তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। ফয়জুন নূরের ছেলে জামিল ঘটনার সাথে জড়িত আছে। মূলত: যে মেয়ের কথা বলা হয়েছে সে ভালো না, তার পরিবারের নানা নেতিবাচক ঘটনার খবর আমরা অতীতে পেয়েছি। আর আমরা কারও বাড়িতে হামলা করিনি।
মোজাহিদ আহমদের মা বলেছেন, আমার ছেলে নির্দোষ। এটি একটি চক্রান্ত। এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।জামিল আহমদের ভাই রুমন মিয়া বলেন, যে মেয়েকে নিয়ে কথা উঠেছে সে আমার রক্তের সম্পর্কে ফুফু হয়, তার সাথে কোনো খারাপ কাজের কথা আমার ভাই ভাবতেও পারে না। এটি মিথ্যা। নিজেদের বাঁচাতে অভিযুক্তদের পরিবার আমার ভাইকে জড়াচ্ছে। নির্যাতিত মেয়ের চাচা বলেন, আমি এই ঘটনায় জড়িত প্রকৃত দোষীদের শাস্তি চাই। যে রাতে ঘটনা সে রাতে আমরা মেয়েকে জিজ্ঞেস করেছি, সে স্বপন ও মোজাহিদের কথাই বলেছে। একটি ভিডিও আছে সেখানে এই দু’জনকে দেখা যাচ্ছে মেয়েকে নিয়ে ধস্তাধস্তি করতে। জামিল ছিলো কি না? এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের জানা মতো সে ছিলো না। এখন কেউ যদি তাকে ফাঁসানোর জন্য নাম বলে তাহলে আমাদের কি করার আছে।
শান্তিগঞ্জ থানার ওসি অলী উল্লাহ বলেন, এই ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। একজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। বাকী কাজ তদন্তাধীন। ঘটনার একটি ভিডিও ক্লিপে দু’জনের চেহারা সনাক্ত করা গেছে। এখানে আর কেউ জড়িত কি না তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।আমরা বাকী আসামীদের ধরতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।




















