০২:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জের দেখার হাওরের বোরধান রক্ষা চেষ্টায় হাজারো কৃষক

রিপোর্টার
  • সময় : ১২:৫৬:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১০ ভিউ

হাজারো কৃষকের প্রাণান্তকর চেষ্টায় রক্ষা পেলো সুনামগঞ্জের দেখার হাওরের প্রায় নয় হাজার হেক্টর বোর ধান। শনিবার সকালে এই হাওরের গুজাউনি বেরী বাঁধ ভেঙে প্রবল বেগে পানি ঢুকা শুরু হয়। খবর পেয়ে আশপাশের গ্রামের কৃষকরা বাঁধে ছুটে গিয়ে কোনভাবে বাঁধ রক্ষা করছেন। তবে প্রায় দুইঘণ্টা ভাঙন অংশ দিয়ে পানি ঢুকে বেশ কিছু নীঁচু জমি ডুবে গেছে।

এই হাওরের একমাত্র ফসল বোর ধান নিয়ে গেল এক সপ্তাহ ধরে উৎকণ্ঠায় রয়েছেন কৃষকরা। তারা বলেছেন, অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত হাওরের সবচেয়ে বড় বাঁধ উতারিয়া এখন তাদের গলার কাঁটা হয়েছে। এই বাঁধের কারণে গেল কয়েকদিনের বৃষ্টিতে দরিয়াবাজ অংশের ফসল ডুবে গেছে। শনিবার হাওরের গুজাউনি বাঁধ ভেঙে আরেকাংশ (মেলাউনি হাওর) ডুবতে থাকে। হাজারো কৃষকের চেষ্টায় আপাতত বাঁধের ভাঙন ঠেকানো গেলেও একাংশে জলাবদ্ধতার যে পরিমাণ পানি আটকা আছে, তাতে অপরাংশ রক্ষা করা কঠিন জানিয়েছেন কৃষকরা।

হাওরপাড়ের আস্তমা ও গোবিন্দপুরের কৃষক কে এম ফখরুল ইসলাম, ইকবাল হোসেন, আমিরুল ইসলাম ও রেনু মিয়া জানান, শনিবার সকাল সাড়ে নয়টায় দেখার হাওরের মাঝখানের অর্থাৎ জনবসতি থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরের গুজাউনি বেরীবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকা শুরু হয় ডানদিকের জয়কলস, পাগলা ও পূর্ব পাগলা অংশের দেখার হাওরে। এসময় কৃষকরা চিৎকার কান্নাকাটি শুরু হরেন। এক পর্যায়ে বিভিন্ন গ্রাম থেকে হাজারো কৃষক বাঁশ, টুকরি, কুদাল নিয়ে ভাঙনস্থলে এসে বাঁধ ঠেকানোর চেষ্টা করতে থাকেন। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় বাঁধের ভাঙন রোধ এবং ভাঙা অংশ দিয়ে নীচের দিকে পানি নামা বন্ধ হবার পর স্বস্তির খবর ছড়ায় হাওরপাড়ে।

হাওরপাড়ের আস্তমার কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেছেন, আপাতত রক্ষা হলেও জলাবদ্ধতার পানি কমানো না গেলে, হাওরের একাংশ ডুবেছে, অন্য অংশও রক্ষা করা কঠিন হবে। অতিবৃষ্টিতে দেখার হাওরের বিভিন্ন অংশে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত উতারিয়া বাঁধের কারণে জলাবদ্ধতার পানি মহাসিং নদীতে নামতে না পারায় মেলানির হাওরেও পানরি চাপ বাড়ে। এ কারণে গত বুধবার উতারিয়া এলাকার কিছু অংশ স্থানীয় কৃষকেরা কেটে দেন পানি নিষ্কাশনের জন্য। এতে করে হাওর থেকে কিছুটা পানি নামেও। কিন্তু পরে প্রশাসনের নির্দেশে আবার বাঁধটি মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়। ফলে আবার পানির চাপ সৃষ্টি হয় মেলানির হাওরের বাঁধে। শনিবার সকালে প্রথমে ওই বাঁধে ছোট নালার সৃষ্টি হয়। কয়েকজন কৃষক সেটি রক্ষার চেষ্টা করেন। কিন্তু পারেন নি। এক পর্যায়ে ভাঙা অংশটি আরও বড় হয়ে হাওরে ব্যাপক পরিমাণে পানি ঢুকে ফসল তলিয়ে যেতে থাকে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জের দেখার হাওরে সদর, শান্তিগঞ্জ, দোয়ারাবাজার ও ছাতক উপজেলার মানুষের জমি আছে। এই হাওরে মোট জমির পরিমাণ ৪৫ হাজার ৮৫৯ হেক্টর। এর মধ্যে আবাদি জমি আছে ২৪ হাজার ২১৪ হেক্টর। হাওরে এবার অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ঝাওয়া, শেয়ালমারা, গুমরাসহ কয়েকটি জায়গায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, যে বাঁধটি ভেঙেছে সেটি পানি উন্নয়ন বোর্ডেও ফসল রক্ষা বাঁধের আওতায় ছিল না। বৃষ্টিতে নীঁচু এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে বাঁধ কাটার খবর পাওয়া গেছে। এই বাঁধের বিষয়ে কৃষকদের পক্ষ থেকে আগে থেকে কোন তথ্য জানানো হয় নি। আগে থেকে জানা গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হতো। উতারিয়া বাঁধ কেটে পানি আবারও নামানোর বিষয়ে কৃষকরা সম্মিলিতভাবে মতামত দিতে হবে মন্তব্য করেন তিনি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সুনামগঞ্জের দেখার হাওরের বোরধান রক্ষা চেষ্টায় হাজারো কৃষক

সময় : ১২:৫৬:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

হাজারো কৃষকের প্রাণান্তকর চেষ্টায় রক্ষা পেলো সুনামগঞ্জের দেখার হাওরের প্রায় নয় হাজার হেক্টর বোর ধান। শনিবার সকালে এই হাওরের গুজাউনি বেরী বাঁধ ভেঙে প্রবল বেগে পানি ঢুকা শুরু হয়। খবর পেয়ে আশপাশের গ্রামের কৃষকরা বাঁধে ছুটে গিয়ে কোনভাবে বাঁধ রক্ষা করছেন। তবে প্রায় দুইঘণ্টা ভাঙন অংশ দিয়ে পানি ঢুকে বেশ কিছু নীঁচু জমি ডুবে গেছে।

এই হাওরের একমাত্র ফসল বোর ধান নিয়ে গেল এক সপ্তাহ ধরে উৎকণ্ঠায় রয়েছেন কৃষকরা। তারা বলেছেন, অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত হাওরের সবচেয়ে বড় বাঁধ উতারিয়া এখন তাদের গলার কাঁটা হয়েছে। এই বাঁধের কারণে গেল কয়েকদিনের বৃষ্টিতে দরিয়াবাজ অংশের ফসল ডুবে গেছে। শনিবার হাওরের গুজাউনি বাঁধ ভেঙে আরেকাংশ (মেলাউনি হাওর) ডুবতে থাকে। হাজারো কৃষকের চেষ্টায় আপাতত বাঁধের ভাঙন ঠেকানো গেলেও একাংশে জলাবদ্ধতার যে পরিমাণ পানি আটকা আছে, তাতে অপরাংশ রক্ষা করা কঠিন জানিয়েছেন কৃষকরা।

হাওরপাড়ের আস্তমা ও গোবিন্দপুরের কৃষক কে এম ফখরুল ইসলাম, ইকবাল হোসেন, আমিরুল ইসলাম ও রেনু মিয়া জানান, শনিবার সকাল সাড়ে নয়টায় দেখার হাওরের মাঝখানের অর্থাৎ জনবসতি থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরের গুজাউনি বেরীবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকা শুরু হয় ডানদিকের জয়কলস, পাগলা ও পূর্ব পাগলা অংশের দেখার হাওরে। এসময় কৃষকরা চিৎকার কান্নাকাটি শুরু হরেন। এক পর্যায়ে বিভিন্ন গ্রাম থেকে হাজারো কৃষক বাঁশ, টুকরি, কুদাল নিয়ে ভাঙনস্থলে এসে বাঁধ ঠেকানোর চেষ্টা করতে থাকেন। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় বাঁধের ভাঙন রোধ এবং ভাঙা অংশ দিয়ে নীচের দিকে পানি নামা বন্ধ হবার পর স্বস্তির খবর ছড়ায় হাওরপাড়ে।

হাওরপাড়ের আস্তমার কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেছেন, আপাতত রক্ষা হলেও জলাবদ্ধতার পানি কমানো না গেলে, হাওরের একাংশ ডুবেছে, অন্য অংশও রক্ষা করা কঠিন হবে। অতিবৃষ্টিতে দেখার হাওরের বিভিন্ন অংশে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত উতারিয়া বাঁধের কারণে জলাবদ্ধতার পানি মহাসিং নদীতে নামতে না পারায় মেলানির হাওরেও পানরি চাপ বাড়ে। এ কারণে গত বুধবার উতারিয়া এলাকার কিছু অংশ স্থানীয় কৃষকেরা কেটে দেন পানি নিষ্কাশনের জন্য। এতে করে হাওর থেকে কিছুটা পানি নামেও। কিন্তু পরে প্রশাসনের নির্দেশে আবার বাঁধটি মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়। ফলে আবার পানির চাপ সৃষ্টি হয় মেলানির হাওরের বাঁধে। শনিবার সকালে প্রথমে ওই বাঁধে ছোট নালার সৃষ্টি হয়। কয়েকজন কৃষক সেটি রক্ষার চেষ্টা করেন। কিন্তু পারেন নি। এক পর্যায়ে ভাঙা অংশটি আরও বড় হয়ে হাওরে ব্যাপক পরিমাণে পানি ঢুকে ফসল তলিয়ে যেতে থাকে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জের দেখার হাওরে সদর, শান্তিগঞ্জ, দোয়ারাবাজার ও ছাতক উপজেলার মানুষের জমি আছে। এই হাওরে মোট জমির পরিমাণ ৪৫ হাজার ৮৫৯ হেক্টর। এর মধ্যে আবাদি জমি আছে ২৪ হাজার ২১৪ হেক্টর। হাওরে এবার অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ঝাওয়া, শেয়ালমারা, গুমরাসহ কয়েকটি জায়গায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, যে বাঁধটি ভেঙেছে সেটি পানি উন্নয়ন বোর্ডেও ফসল রক্ষা বাঁধের আওতায় ছিল না। বৃষ্টিতে নীঁচু এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে বাঁধ কাটার খবর পাওয়া গেছে। এই বাঁধের বিষয়ে কৃষকদের পক্ষ থেকে আগে থেকে কোন তথ্য জানানো হয় নি। আগে থেকে জানা গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হতো। উতারিয়া বাঁধ কেটে পানি আবারও নামানোর বিষয়ে কৃষকরা সম্মিলিতভাবে মতামত দিতে হবে মন্তব্য করেন তিনি।