০২:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জগন্নাথপুরের ‘বিতর্কিত’ ইউএনও অবশেষে বদলি

রিপোর্টার
  • সময় : ১২:৪৫:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৭ ভিউ

জগন্নাথপুর উপজেলার বির্তকিত ইউএনও বরকত উল্লাহকে অবশেষে বদলি করা হয়েছে। সিনিয়র সহকারী কমিশনার উন্মে সালিক রুবাইয়া স্বাক্ষরিত এক আদেশে  তাকে জগন্নাথপুর উপজেলা থেকে বদলি করে জামালগঞ্জ উপজেলায় পদায়ন করা হয়। আর মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করতে আদেশে বলা হয়।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জনপ্রতিনিধি শুণ্য হয়ে পড়ে দেশ। জনপ্রতিনিধিদের পদে সরকারি কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেয় অন্তবর্তীকালীন সরকার। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজেকে মন্ত্রী, এমপি, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার ভূমি এই ৫ পদের ক্ষমতাসীন দাবি করে উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্প থেকে মোটা অংকের ঘুষ আদায় করতেন। ভূয়া প্রকল্প তৈরি করে সরকারের বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলার খাদ্য বান্ধব ডিলার নিয়োগে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী উপজেলার দিঘলবাক এলাকার বাসিন্দা রুহুল আমীন খানের নিকট থেকে দুই লক্ষ টাকা উৎকোচ নিয়েও ডিলার না দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। ঘুষের টাকা ফেরত চাইলে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তারের হুমকি দেন। এসব বিষয়ে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের নিকট ৩০ অক্টোবর লিখিতভাবে  অভিযোগ করা হলে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট সুনজন কুমার চন্দ কে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। ২৬ নভেম্বর তিনি তদন্ত করেন। এছাড়াও উপজেলা পরিষদ সড়ক বন্ধ করে দেয়ায় এলাকাবাসী তাঁর বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠেন। তাঁর অপসারণের দাবিতে ২১ ডিসেম্বর মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা কর্মসূচি পালিত হয়। ইউএনওর ঘুষ দুর্নীতি ক্ষমতার অপব্যবহারে উপজেলাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। হাওরের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ সংস্কার প্রকল্প কমিটি গঠনে তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠে। ৩৭টি পিআইসির অনেকের নিকট থেকে কাজের শুরুতেই মোটা অংকের উৎকোচ নেন।

ঘুষ দুর্নীতি ক্ষমতার অপব্যবহারে মানুষ অতীষ্ঠ হয়ে উঠলে অবশেষে তাঁর বদলীর আদেশ আসে গত মঙ্গলবার। তবে এখনও তিনি (শনিবার পর্যন্ত) জগন্নাথপুরে অবস্থান করছেন।জেলা সংবাদ বুলেটিন বিতর্কিত ইউএনও বরকত উল্লার বদলীর খবরে ভুক্ত ভোগী জনসাধারণের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। জগন্নাথপুর নাগরিক অধিকার ফোরামের আহবায়ক আব্দুল কাদির বলেন, ‘কোন দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কে আমরা জগন্নাথপুরে দেখতে চাইনা। সরকারের কর্মচারী গন সততার সহিত দায়িত্ব পালন করবেন এটাই আমরা আশা করি।’

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জগন্নাথপুরের ‘বিতর্কিত’ ইউএনও অবশেষে বদলি

সময় : ১২:৪৫:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

জগন্নাথপুর উপজেলার বির্তকিত ইউএনও বরকত উল্লাহকে অবশেষে বদলি করা হয়েছে। সিনিয়র সহকারী কমিশনার উন্মে সালিক রুবাইয়া স্বাক্ষরিত এক আদেশে  তাকে জগন্নাথপুর উপজেলা থেকে বদলি করে জামালগঞ্জ উপজেলায় পদায়ন করা হয়। আর মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করতে আদেশে বলা হয়।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জনপ্রতিনিধি শুণ্য হয়ে পড়ে দেশ। জনপ্রতিনিধিদের পদে সরকারি কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেয় অন্তবর্তীকালীন সরকার। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজেকে মন্ত্রী, এমপি, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার ভূমি এই ৫ পদের ক্ষমতাসীন দাবি করে উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্প থেকে মোটা অংকের ঘুষ আদায় করতেন। ভূয়া প্রকল্প তৈরি করে সরকারের বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলার খাদ্য বান্ধব ডিলার নিয়োগে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী উপজেলার দিঘলবাক এলাকার বাসিন্দা রুহুল আমীন খানের নিকট থেকে দুই লক্ষ টাকা উৎকোচ নিয়েও ডিলার না দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। ঘুষের টাকা ফেরত চাইলে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তারের হুমকি দেন। এসব বিষয়ে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের নিকট ৩০ অক্টোবর লিখিতভাবে  অভিযোগ করা হলে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট সুনজন কুমার চন্দ কে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। ২৬ নভেম্বর তিনি তদন্ত করেন। এছাড়াও উপজেলা পরিষদ সড়ক বন্ধ করে দেয়ায় এলাকাবাসী তাঁর বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠেন। তাঁর অপসারণের দাবিতে ২১ ডিসেম্বর মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা কর্মসূচি পালিত হয়। ইউএনওর ঘুষ দুর্নীতি ক্ষমতার অপব্যবহারে উপজেলাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। হাওরের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ সংস্কার প্রকল্প কমিটি গঠনে তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠে। ৩৭টি পিআইসির অনেকের নিকট থেকে কাজের শুরুতেই মোটা অংকের উৎকোচ নেন।

ঘুষ দুর্নীতি ক্ষমতার অপব্যবহারে মানুষ অতীষ্ঠ হয়ে উঠলে অবশেষে তাঁর বদলীর আদেশ আসে গত মঙ্গলবার। তবে এখনও তিনি (শনিবার পর্যন্ত) জগন্নাথপুরে অবস্থান করছেন।জেলা সংবাদ বুলেটিন বিতর্কিত ইউএনও বরকত উল্লার বদলীর খবরে ভুক্ত ভোগী জনসাধারণের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। জগন্নাথপুর নাগরিক অধিকার ফোরামের আহবায়ক আব্দুল কাদির বলেন, ‘কোন দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কে আমরা জগন্নাথপুরে দেখতে চাইনা। সরকারের কর্মচারী গন সততার সহিত দায়িত্ব পালন করবেন এটাই আমরা আশা করি।’