লেবার পার্টির নেতৃত্ব নিয়ে জোর আলোচনা: স্টারমারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি কারা?
- সময় : ১১:০৪:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
- / ৮ ভিউ
এহসানুল ইসলাম চৌধুরী শামীম-যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন Keir Starmer-এর নেতৃত্ব নিয়ে লেবার পার্টির ভেতরে আলোচনা তীব্র হয়ে উঠেছে। দলীয় রাজনীতিতে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে যখন নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে, তখন সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে উঠে আসছে কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার নাম। তাদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হলেন Wes Streeting, Andy Burnham এবং Angela Rayner।
ওয়েস স্ট্রিটিং: স্বাস্থ্য খাতে সক্রিয় মুখ
২০২৪ সালে লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসার পর স্বাস্থ্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ওয়েস স্ট্রিটিং। এর আগে টানা তিন বছর তিনি বিরোধী দলে ছায়া স্বাস্থ্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেন এবং এনএইচএস সংস্কার নিয়ে দলীয় অবস্থান তুলে ধরেন। ২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তিনি লেবার পার্টির উদীয়মান নেতৃত্ব হিসেবে পরিচিতি পান। তরুণ ও স্পষ্টভাষী রাজনীতিক হিসেবে স্ট্রিটিং এখন দলের মধ্যপন্থী অংশের আস্থাভাজন বলে বিবেচিত হচ্ছেন।
অ্যান্ডি বার্নহ্যাম: “কিং অব দ্য নর্থ”
লেবার এমপিদের একটি বড় অংশের সমর্থন রয়েছে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের পক্ষে। বিভিন্ন জনমত জরিপেও তাকে ভোটারদের কাছে অন্যতম জনপ্রিয় লেবার রাজনীতিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রায় এক দশক ধরে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বার্নহ্যাম। উত্তর ইংল্যান্ডের আঞ্চলিক উন্নয়ন, পরিবহন ও জনসেবামূলক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি “কিং অব দ্য নর্থ” উপাধি অর্জন করেছেন। ২০০১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত লি আসনের এমপি ছিলেন তিনি। ৫২ বছর বয়সী এই রাজনীতিক এর আগে দুইবার লেবার পার্টির নেতৃত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২০১০ সালে Ed Miliband এবং ২০১৫ সালে Jeremy Corbyn-এর কাছে পরাজিত হন তিনি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও জনসমর্থনের কারণে এখনও নেতৃত্বের দৌড়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বার্নহ্যাম।
অ্যাঞ্জেলা রেইনার: সংগ্রাম থেকে শীর্ষ রাজনীতিতে
Angela Rayner ছিলেন গত বছর পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং দেশটির সবচেয়ে প্রভাবশালী নারী রাজনীতিকদের একজন। দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে ওঠা রেইনার ১৬ বছর বয়সে কোনো আনুষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই স্কুল ছাড়েন। পরে কেয়ার ওয়ার্কার হিসেবে কাজ করার সময় তিনি ইউনিসন ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হন। সেখান থেকেই তার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা। ২০১৫ সালে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের অ্যাশটন-আন্ডার-লাইন আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর দ্রুতই ওয়েস্টমিনস্টারের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন তিনি। পরবর্তীতে জেরেমি করবিনের ছায়া মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করে দলীয় রাজনীতিতে নিজের প্রভাব আরও সুদৃঢ় করেন।
নেতৃত্ব নিয়ে বাড়ছে জল্পনা
লেবার পার্টির ভেতরে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা যতই জোরালো হচ্ছে, ততই সামনে আসছে এই তিন নেতার নাম। কেউ অভিজ্ঞ প্রশাসক, কেউ সংগঠক, আবার কেউ সাধারণ মানুষের সংগ্রামের প্রতীক—সব মিলিয়ে আগামী দিনে লেবার পার্টির নেতৃত্বে কে আসবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল বাড়ছেই।





















