গৃহবধূ হত্যা মামলায় স্বামী কিশাল রিমান্ডে
- সময় : ০৫:০০:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৫৫ ভিউ
সুনামগঞ্জ পৌর শহরে গৃহবধূ সুমী দাস চৌধুরীর রহস্যজনক মৃত্যুর পর করা হত্যা মামলায় আটক স্বামী কিশাল শেখর দাশ (২৪) কে রিমান্ডে দিয়েছেন আদালত। সুনামগঞ্জ সদর আমলী আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত এক দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন। কিশালের পক্ষের আইনজীবীরা আসামি হেফাজতে আছে তাই রিমান্ড না দেয়ার পক্ষে আবেদন করেন। অন্যদিকে তদন্ত কর্মকর্তা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আরও জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন মর্মে আদালতের কাছে আবেদন জানান। দুইপক্ষের কথা শুনে আদালত এক দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক আসাদুজ্জামান বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে এই হত্যা মামলার বিস্তারিত জানা প্রয়োজন। কিভাবে হত্যা করা হয়েছে, এর পেছনে আর কেউ জড়িত কি না এবং আরও বিভিন্ন বিষয় জানার জন্য গ্রেপ্তার আসামির ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছি আদালতে। বিজ্ঞ আদালত এক দিনের রিমান্ড দিয়েছেন। এই মামলায় নিহতের স্বামী কিশাল শেখর দাশ, শ্বশুর কুলেন্দু শেখর দাশ ও শাশুড়ি রীপা দাশ সহ ৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।
প্রসঙ্গত, গেল ৭ জানুয়ারি বুধবার সন্ধ্যা রাতে ওই গৃহবধুর আত্মহত্যার ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোচিত। ৭ মাস আগে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জের দত্তগ্রামের ধনরঞ্জন চৌধুরীর মেয়ে সুমী দাশ চৌধুরী (২১) কে বিয়ে করে কুলেন্দু শেখর দাশের ছেলে কিশাল শেখর দাশ (২৪)।
নিহতের মা বাবলী রানী চৌধুরী মামলায় উল্লেখ করেছেন, দুই মাস আগে মেয়েকে মারধর করলে সে বাবার বাড়ী হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জের দত্তগ্রামে চলে যায়। পরবর্তীতে মেয়ের শারীরিক অবস্থা দেখে দ্রুত নবীগঞ্জের ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় তাকে। দেড় মাস পূর্বে কিশাল শেখর দাসের মা-বাবা গিয়ে মেয়েকে নিয়ে আসে। গত ৭ জানুয়ারি বিকাল সাড়ে ৫টায় কিশালের মা রীপা দাশ মোবাইল ফোনে জানান, ‘আমার মেয়ে সুমি দাশ চৌধুরী মারা গেছে এবং তার লাশ সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগে আছে। সংবাদ পেয়ে, আমার ছেলে, দেবর জ্যা সহ আরোও আত্মীয়-স্বজন সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে রাত ৮ টা দশ মিনিটে গিয়ে দেখি আমার মেয়ের গলা, হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমযুক্ত নিথর দেহ। আমার মেয়ের এমন নিমর্ম মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে সদোত্তর না দিয়ে কৌশলে হাসপাতাল ত্যাগ করেন শ^শুর বাড়ির লোকজন।’ মামলায় দাবি করা হয় ৭ জানুয়ারি বিকাল ৩টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে ধোপাখালীতে স্বামীর বাড়িতে গলা টিপে শ্বাস রোধ করে মেয়েকে (সুমি দাশ চৌধুরী কে) হত্যা করা হয়।












